সশস্ত্র বাহিনী দিবস পালিত হলো গত ২১ নভেম্বর। গত শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর সেনাকুঞ্জে সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অবৈধভাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলকারি ড. ইউনুস বললেন, ‘২৭ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তৎকালীন মেজর এবং পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিলেন। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসের স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।’
সব সময়কার জন্য মিথ্যাবাদী এই ইউনুস সেদিনও চরম মিথ্যাচার করলেন।

তিনি বললেন,‘ জিয়াউর রহমান ২৭মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন।’ কিন্তু প্রশ্ন হলো-তাহলে ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস কেন ? সেটিতো তাহলে ২৭মার্চ হওয়ার কথা ছিল। তাতো পালিত হয়না আমাদের দেশে।
আর জিয়াউর রহমান যে স্বাধীনতার ঘোষক ছিলেন তা কিন্তু তিনি তার জীবদ্দশায় কখনোই দাবি করেনি। অথচ এই জঙ্গী ইউনুস বলছেন স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিলেন জিয়াউর রহমান। এমন চরম মিথ্যাচার তিনি সারাক্ষনই করে যাচ্ছেন।
সে অনুষ্ঠানেই তিনি আরেকটি মিথ্যাচার করলেন। তাহলো- ‘ তিনি বলেছেন, আজকের এই বিশেষ দিনে আমি সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদ, যুদ্ধাহত এবং অন্যান্য সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা’।

এটিও চরম মিথ্যাচার এ কারণে যে, তিনি গত চব্বিশের ৮ আগষ্ট ক্ষমতা নেয়ার পর থেকেই সারা দেশে বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযোদ্ধাদেরকে চরমভাবে অপমানিত হতে হয়েছে। তাদেরকে জুতার মালা পড়িয়ে ঘোরানো হয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরকে গ্রেপ্তার, অপমান, অপদস্থ, নির্যাতন-নিপীড়ন করা হচ্ছে। অনেককেই কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছে।
লেখক-সাংবাদিক-মুক্তিযোদ্ধা শাহরিয়ার কবীরসহ আরো অনেক মুক্তিযোদ্ধা এখনো বিনাবিচারে কারাগারে। তাহলে এই কি ইউনুসের সশ্রদ্ধচিত্তে মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানকে স্মরণ? যখন সাবেক প্রাজ্ঞ-ঝানু পার্লামেন্টেরিয়ান মাইনুদ্দিন খান বাদলের মত মুক্তিযোদ্ধার কবরে আগুন দেয়া হয় তখন কই ছিলেন ইউনুস সাহেব আপনি ?
লতিফ সিদ্দিকীর মত বীর মুক্তিযোদ্ধাকে যখন আপনার লেলিয়ে দেয়া মব সন্ত্রাসীরা ঢাকায় রিপোর্টারস ইউনিটির মিলনায়তনে অকথ্য ভাষায় গালিগালঅজ ও শারিরীকভাবে লাঞ্ছিত করে, তারপর পুলিশ কোন কারন ছাড়াই গ্রেপ্তার করে সেটাই কি আপনার সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করা? আর কত ফাজলামো করবেন জাতির সাথে? ফাজলামোরওতো একটা লিমিট আছে।
এই অনুষ্ঠানে অবশ্য ইউনূস একটি সত্যি কথা মুখ ফসকে বলে ফেলেছেন। তা হলো তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর জন্ম ১৯৭১ সালের রণক্ষেত্রে। ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর সেনাবাহিনীর সঙ্গে নৌ ও বিমানবাহিনী সম্মিলিতভাবে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়েছিল বলে ২১ নভেম্বরকে মুক্তিযুদ্ধের একটি মাইলফলক হিসেবে গৌরবের সঙ্গে পালন করা হয়।
তবে মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর সংগ্রামের সূচনা ঘটে ২৫ মার্চের রাত থেকেই। আমরা যদি বিজয় অর্জন না করতাম, তাহলে এই বীর সেনাদের মৃত্যুদণ্ড ছিল অনিবার্য। অসহনীয় হয়ে যেত তাঁদের পরিবারের সব সদস্যের জীবন।’
এই যে পাকিস্তানী বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়েছিল বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধারা তা কি করে বলে ফেলেছেন সেটিই চিন্তার বিষয়। কারন পাকিস্তানইতো এখন তার সবচেয়ে পেয়ারের দোস্ত, বড় ভাই। পেয়ার করতে করতে পারছেনা শুধু বাংলাদেশ নামটি বদলে পাকিস্তান করে দিতে।
তো এই ইউনুসের মত এমন একজন ভন্ড প্রতারকের মুখ থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার বিষয়টি বের হলো কি করে সেটাও ভাবার বিষয়। আর তখন বাংলাদেশের পক্ষে কোন দেশ মিত্র ছিল , কারা অকাতরে সাহায্য করেছিল মুক্তিযুদ্ধে সেটি কিন্তু বলতে খুব লজ্জা পেয়েছে এই মেটিকুলাস ডিজাইনার ইউনুস।
কারণ সেই ভারতের কথা উচ্চারণ করতে গেলেইতো তার গলায় কাঁটা বিঁধেছে মনে হয়। একাত্তরে যে দেশটি না হলে বাংলাদেশই স্বাধীন হতোনা সেটি বলতে ইউনুস গংদের যে কি পরিমাণ লজ্জা! বরং ভারত এখন তাদের কাছে শত্রু রাষ্ট্র। কারণ তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছে।
তো এতই যখন শত্রুদেশ ভারত তাহলে তার কাছ থেকে বিদ্যুৎ, চাল, ডাল, আপেলসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস আমদানী করতে লজ্জা করেনা আপনাদের হে মহামান্য বেহায়া ইউনুস সাহেব!
সেনাকুঞ্জে যাওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মধ্যে বিএনপি’র নামকাওয়াস্তে চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকেও দেখা গেছে। স্বাভাবিকভাবেই তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক সেনাপ্রধানের বিধবা স্ত্রী।

তাকে আমন্ত্রণ জানানো যেতেই পারে। কিন্তু দেখলাম সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান তদাকে স্যালুটের কায়দায় সম্মান জানাচ্ছেন। কোন প্রোটোকলে এই স্যালুট তা একটু জানতে চায় দেশবাসী।
অবশ্য সেনাবাহিনী এখন তো আর সেনাবাহিনী নেই। এটিকে একটি জঙ্গী আনসার-গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীতে পরিণত করা হয়েছে গত ১৬ মাসে।
বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক সেনাশাসক ও প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের একটি লেখা হঠাৎ মনে পড়ে গেল। “একটি জাতির জন্ম” নামে তৎকালীন মেজর জেনারেল জিয়া ‘দৈনিক বাংলা’ পত্রিকার ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ সংখ্যায় একটি প্রবন্ধ লেখেন।
লেখাটি ‘সাপ্তাহিক বিচিত্রা’য় পূনঃপ্রকাশিত হয়। সেটি ছিল বিচিত্রার ২য় বর্ষ | ৪৩ তম সংখ্যা | ২৬ শে মার্চ ১৯৭৪ খ্রীষ্টাব্দ।
এই প্রবন্ধে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কে ‘জাতির জনক’ উল্লেখ করেছেন। তিনি আরো উল্লেখ করেছেন বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণই ছিল তার স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার অনুপ্রেরণা।
লেখাটির এক জায়গায় তিনি লিখেছেন- “তারপর এলো ১লা মার্চ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদাত্ত আহ্বানে সারা দেশে শুরু হলো ব্যাপক অসহযোগ আন্দোলন। এর পরদিন দাঙ্গা হলো।
বিহারীরা হামলা করেছিল এক শান্তিপূর্ণ মিছিলে, এর থেকেই ব্যাপক গোলযোগের সূচনা হলো। ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ঘোষণা আমাদের কাছে এক গ্রীন সিগন্যাল বলে মনে হলো।”
যেই জিয়াউর রহমান কখনো নিজেকে স্বাধীনতার ঘোষক বলেননি, বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা হিসেবে সম্মান দিয়েছেন সেখানে তার দল বিএনপি ও কোথাকার কোন নোবেল পাওয়া ইউনুস বঙ্গবন্ধুকেই অস্বীকার করে ! ওই যে বলৈনা- ডেকচির চেয়ে ঢাকনা গরম। ব্যাপারটি তেমনই দাঁড়িয়েছে।
ইউনুসতো রিসেট বাটনে চাপ দিয়ে সব ইতিহাসকেই মুছে ফেলতে চাইছেন। সারাদেশে বঙ্গবন্ধু, জাতীয় চারনেতা, মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের ম্যুরাল, ভাষ্কর্য, ছবি সবই ধ্বংস করে দিয়েছে। এমনকি বাঙ্গালীর মুক্তিযুদ্ধের সুতিকাগার ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িটিও বার বার ভাংচুর, আগুন ও বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দিয়েও শান্তি নেই তাদের।তো সেই ইউনুস আবার মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানায়!!
এই যে বঙ্গবন্ধুকে বাদ দিয়ে জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে প্রতিস্থাপনের অপচেষ্টা তাতো কোন ইতিহাসেই প্রমাণ পাওয়া যায়না।
সাংবাদিক-গবেষক শামসুল হক তার বই “স্বাধীনতার ঘোষক বঙ্গবন্ধু: প্রামাণ্য দলিল” নামে বইটিতে সুস্পষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ দেখিয়েছেন যে ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ রাতে পাক হানাদার বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তারের আগে কোন কৌশলে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
যেই ওয়্যারলেস ম্যাসেজটি ঢাকার মগবাজার ওয়্যারলেস ষ্টেশন থেকে চট্টগ্রামে আওয়ামীলীগ নেতাদের কাছে পৌঁছানো হয়েছিল। যা তারপরদিন সকালবেলা সাইক্লোস্টাইল মেশিনে ছাপিয়ে চট্টগ্রাম শহরে মাইক দিয়ে প্রচার করা হয়েছিল। বেইটি আগামী প্রকাশনী থেকে বের হয়েছিল ১৯৯৬ সালেই। তার এই বইটি অত্যন্ত তথ্যবহুল ।
তার বইটি প্রকাশের পর অদ্যাবধি কাউকে তো এই বইয়ের বিরোধিতা বা বইটিতে লিপিবদব্ধ তথ্য-প্রমান সম্পর্কে চ্যালেঞ্জ করতে দেখলাম না। অন্য কোন ইতিহাসবিদ বা গবেষক বা বিএনপির কেউইতো এই বইটি নিয়ে কোন কথা বলতে পেরেছেন বলে শুনিনি।
১৯৭১ সালে তৎকালীন রেডিওতে কাজ করতেন সাহিত্যিক বেলাল মোহাম্মদ। তিনি নিজে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠকরা সহ সে সময়কার বিভিন্ন ঘটনার স্বাক্ষী।
তিনি “স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র” নামে লিখিত বইয়ে সে বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন। আজ পর্যন্ত তা নিয়েওতো কোন প্রতিবাদ দেখলাম না। তার বইয়ের তথ্য এবং বিভিন্ন সময়ে তার সঙ্গে আমার সাক্ষাতের সময় আরাপকালে তিনি যা জানিয়েছেলেন তা হলো- ২৬শে মার্চ ১৯৭১ সালে ৭টা ৪০ মিনিটে বেলাল মোহাম্মদ, আবুল কাসেম সন্দ্বীপ, আব্দুল্লাহ আল ফারুক এবং কবি আব্দুস সালাম-সহ আরও কয়েকজন মিলে প্রথম কালুরঘাটের বেতার স্টেশনে স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার নামে বেতার কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন।
বেলাল মোহাম্মদ প্রথমে স্বাধীন বাংলা বেতার নামকরণ করলেও সহকর্মীর মধ্যে একজন সাথে বিপ্লবী শব্দটি যোগ করেন।
তিনি ( বেলাল মোহাম্মদ) বলেছেন, সেদিনই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের একটি লিফলেট তার(বেলাল মোহাম্মদের) হাতে এসে পৌছায়। ২৬শে মার্চ দুপুর বেলা এম এ হান্নান ও রেডিওর কয়েকজন সহ এই লিফলেটটি নিয়ে আসেন। সেটি তারপর এম এ হান্নানসহ আরো কয়েকজন পড়ে শুনয়েছেন এই বেতার কেন্দ্র থেকে।
এরপর ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় বেলাল মোহাম্মদসহ আরো কয়েকজনের সহযোগিতায় মেজর জিয়াউর রহমান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি পাঠ করেন।
ঘোষণাটির শুরু ছিল এ রকম- “‘আই এম মেজর জিয়া, অন বিহ্যাভ গ্রেট লিডার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান….”।
কিন্তু যেহেতু ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়েছিলেন তাই ২৬মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালন করা হয়। স্বাধীনতা ঘোষণাপত্র পাঠকারী হিসেবে মেজর জিয়া ছিলেন ৯ম।
মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার মেজর রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম ( অবসরপ্রাপ্ত ) তার “লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে” বইতেও স্পষ্ট করে দেখিয়েছেন একাত্তরের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু কোন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
তিনি তখন চট্টগ্রামে তৎকালীন ইপিআর ( ইস্ট পাকিস্তান রাইফেল ‘ এর ক্যাপ্টেন ছিলেন) যা পরবর্তীতে বাংলাদেশে বিডিআর এবং বর্তমানে বর্ডার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি নামে পরিচিত।
পাশাপাশি ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে কয়েকজন আওয়ামীলীগ নেতাও বঙ্গবন্ধুর সেই স্বাধীনতার ঘোষনাটি পাঠ করেন। তার পরবর্তীতে ২৭ মার্চ তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণাটি পাঠ করেন। সেক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানতো বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষনা পাঠকারি মাত্র। স্বাধীনতার ঘোষক তো একজনই- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
এমনকি জিয়াউর রহমান নিজেও জীবিত থাকা অবস্থায় কখনো দাবি করেননি যে তিনি স্বাধীনতার ঘোষক। কিন্তু পরবর্তীতে বিএনপি ও তাদের সহযোগীরা ইতিহাস বিকৃতির মাধ্যমে জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে প্রচার করতে থাকে। অনেকটা গোয়েবলসীয় কায়দায় তারা বঙ্গবন্ধুকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এমনটি করেছে ও করে থাকে।
সশস্ত্র বাহিনী কি ব্যবসায়ী ও জঙ্গী আনসার-ভিডিপি?
এবার একটু সশস্ত্র বাহিনী দিবসের দিকে তাকাই। ১৯৭১ এ মুক্তিযুদ্ধের প্রতিরোধ যুদ্ধ ছিলো মুজিবনগর সরকারের রাজনৈতিক নেতৃত্বে জনযুদ্ধ। চূড়ান্ত প্রতি-আক্রমণের পূর্বে বাংলাদেশ -ভারত “যৌথ বাহিনী” গড়ে তোলার লক্ষ্যে স্বাধীন বাংলাদেশের নিয়মিত “সশস্ত্র বাহিনী” গঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
মুজিব নগর সরকার বিজয়ের প্রাক্কালে সেনা,নৌ ও বিমান বাহিনী সমন্বয়ে “অন্তর্ভূক্তিমূলক” সামরিক নেতৃত্বে ২১ নভেম্বর “সশস্ত্র বাহিনী” গঠন করে। সেই থেকে দিনটি সশস্ত্র বাহিনী দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে।
কিন্তু নির্মম পরিহাস হচ্ছে, যে রাজনৈতিক নেতৃত্বে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী গড়ে ওঠে মুজিব নগর সরকারের সেই শীর্ষ জাতীয় নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান, তাজউদ্দীন আহমেদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, কামরুজ্জামান ও মনসুর আলীকে ১৯৭৫ সালে এই সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরাই খুন করে।
বাংলাদেশকে রাজনৈতিক নেতৃত্ব শুন্য করে প্রকৃতপক্ষে পাকিস্তানী ভাবধারায় ফিরিয়ে নিয়ে যায় ক্ষমতালোভী সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান ও হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ। এই দুই সামরিক শাসক উচ্ছিষ্টভোগীদের নিয়ে দুটি “কিংস পার্টি ” তৈরী করে এবং যুদ্ধাপরাধী রাজনীতিবিদ ও যুদ্ধাপরাধী রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী ও অন্য জঙ্গী সংগঠনের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় পুঁজির সবচেয়ে বড় বেনেফিসিয়ারী তারা। সেনানিবাস ও সেনাপল্লী, অবসরপ্রাপ্তদের পল্লী হয়েছে। পাঁচতারা হোটেল, ব্যাংক, বীমা, অস্ত্র ও মেশিনারী কারখানা, রিয়েল স্টেট, শিপইয়ার্ড, আবাসন ইত্যাদি ব্যবসা তাদের দখলে। সরকারের অধিকাংশ অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর ঠিকাদারও তারা। বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী প্রকৃত পক্ষে একই সঙ্গে “রাজনৈতিক সংগঠন ” ও “কর্পোরেট গোষ্ঠী” হয়ে গেছে।
এরা জনগণের নিরাপত্তা নিয়োজিত নয় , বরং মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের “ভাড়াটে বাহিনী ” র ভূমিকা পালন করে।
রাজনৈতিক দল ও নেতাদেরকে এরাই দুর্নীতিগ্রস্ত ও গোয়েন্দা সংস্থার উপর নির্ভরশীল করেছে। ইউনুস গংকে সামনে রেখে ছদ্মবেশী শাসনে গত দেড় বছরে পুরো দেশকে “পাকিস্তান মডেলে” সাজাতে চাইছে।
ঢাকার দশ থেকে বিশ হাজার “দঙ্গলবাজ” কে যথেচ্ছ ব্যবহার করে রাজাকার মিলিটারি এনজিও রাজত্ব চলছে। ২০২৪ এর জুলাই আগস্টে স্নাইপার ও ৭.৬২ গুলির “হত্যা নাটক” পাক-মার্কিন ইন্ধনে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা গুলোই পরিচালনা করেছে এমন তীব্র সন্দেহ রয়েছে।
# রাকীব হুসেইন, লেখক, প্রাবন্ধিক।
