চট্টগ্রাম: একাত্তরের যুদ্ধকে অস্বীকার করে যারা ৩৬ জুলাইয়ে যুদ্ধের কথা বলে-তারা যে অনৈতিক তা আর বলে দিতে হয় না।
জামায়াত তো গোটা দলটাই শয়তানীতে ভরা, এরা আবার একজনের বিতর্কিত মন্তব্যকে এত বড় করে দেখার কারণ কী? সামনে নির্বাচন তাই?
সারাদেশে আগুন জ্বালিয়ে, পুলিশ মেরে, সাধারণ মানুষের লাশে রাজপথ রক্তাক্ত করে ক্ষমতার দখল নিয়ে এখন মুক্তিযুদ্ধের সমান্তরালে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার পায়তারা এদের।
ইউনূসকে ক্ষমতায় বসিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিতকরণে জুলাই জঙ্গীদের প্রধানতম ইন্ধনদাতা যেমন জামায়াত, তেমনি সামরিক ক্যু করে তৈরি হওয়া আরেক কিংস পার্টি বিএনপিও আংশিকভাবে সুরে সুর মিলিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের উসকানি দাতার ভূমিকা পালন করছে।
কে কার থেকে কম? আর জামায়াত ক্ষমতায় আসার আগেই প্রশাসনকে হুমকি দিয়ে রেখেছে, তাদের বগলদাবা হয়েই থাকতে হবে।
হয়তো তিনি কথাটা প্রকাশ করে ফেলেছেন বলেই জামায়াত কিছুটা অস্বস্তিতে, তাছাড়া তাদের তো রীতিনীতি এটাই ভিতরে ভিতরে।
চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি কনভেনশন হলে নির্বাচনী দায়িত্বশীল সম্মেলনে বিতর্কিত বক্তব্য দেওয়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সই করা নোটিশে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় জামায়াতের ভেরিফায়েড পেজে নোটিশটি প্রকাশিত হয়।
এতে বলা হয়, গত ২২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাহজাহান চৌধুরী বলেন— নির্বাচন শুধু জনগণ দিয়ে নয়; বরং যার যার নির্বাচনী এলাকায় প্রশাসনের যারা আছেন, তাদের সবাইকে আমাদের আন্ডারে নিয়ে আসতে হবে।
আমাদের কথায় উঠবে, বসবে, গ্রেপ্তার করবে, মামলা করবে। তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসনের সর্বস্তরে তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। এমনকি কূটনৈতিক মহল থেকেও সরাসরি প্রতিক্রিয়া আসে।
কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয়, ‘আপনার এই বক্তব্য বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। আমরা বক্তব্যটি দেখেছি, যা রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও মূল স্পিরিটকে স্পষ্টভাবে ব্যাহত করেছে।
আমরা মনে করি, প্রশাসন পূর্ণ পেশাদারিত্বের সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন করবেন, এখানে আমাদের হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই।’
নোটিশে আরও বলা হয়, ‘ইতোমধ্যে বিভিন্ন সময়ে আপনি (শাহজাহান চৌধুরী) এই ধরনের সাংগঠনিক ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্নকারী ও শৃঙ্খলা বিরোধী বক্তব্য রেখেছেন। যার ফলে আপনাকে কয়েকবার সতর্ক করা হয়েছে ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এমনকি জামায়াত আমিরও আপনাকে ডেকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এবং সতর্ক করেছেন। তারপরেও আপনার মধ্যে কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।’
ওই বক্তব্য প্রকাশের পর প্রশাসনের বিভিন্ন স্তর থেকে তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয় নোটিশে।
বলা হয়, ‘দেশের কূটনৈতিক মহল থেকেও সরাসরি প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশ-বিদেশে আমাদের জনশক্তি এবং সাধারণ জনগণের মাঝেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
এই বক্তব্যের কারণে ইতোমধ্যে সংগঠনের ভাবমর্যাদা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটা দলীয় গঠনতন্ত্র, নীতি, আদর্শ, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণের পরিপন্থী।’
এ কারণে জামায়াত আমিরের নির্দেশে শাহজাহান চৌধুরীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হচ্ছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয় এবং আগামী সাত দিনের মধ্যে তাকে নোটিশের লিখিত জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে পুলিশে যে জামাত শিবিরের লোকে ভরে ফেলা হয়েছে, পুলিশ জনগণের জন্য কাজ করছে না-এটাও মিথ্যা নয়। ছলচাতুরি করে সব জায়গায় জামাতকে বসানো হয়েছে তাদের সুবিধার জন্য।
