যতই দিন যাচ্ছে ততই নিত্য নতুন ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে অবৈধ ইউনুস সরকার। আর সেই সাথে যোগ হয়েছে একাত্তরের পরাজিত ও স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি জামায়াতে ইসলামী ও তাদের দোসররা।

জামায়াতের নেতা-কর্মীরা এতদিন মুখে সুন্দর সুন্দর কথা বলে লোকজনকে ভোলানোর চেষ্টা করলেও এখন তারা নিজেদের স্বরূপে আবির্ভূত হচ্ছে দিন দিন।

এমনিতেই প্রশাসনের অনেক জায়গাতে তারা তাদের লোকজনকে ফিট করে রেখেছিল। এখন আরো বেশি করে তাদের ভিত মজবুত করায় মনোযোগ দিয়েছে।

জামায়াত নেতারা ইতিমধ্যেই নানাভাবে সরকার, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও তাদের বিরোধীতাকারি জনগণকে হুমকি ধমকি দেয়া শুরু করেছে।

বাঙালির আবহমান সাংস্কৃতিক জগতকে ধ্বংস করার উন্মত্ততায় নেমেছিল তারা অনেক আগেই। বাউল শিল্পীদের ওপর আক্রমণের প্রতিবাদ সমাবেশে হামলা করেছে কথিত ‘জুলাই মঞ্চ’ তথা ইসলামী জঙ্গীরা।

অথচ অবৈধ ইউনুস সরকার চুপ। অবশ্য তারাই যে এর পেছনে কলকাঠি নাড়ছে তা আর বুঝতে বাকি নেই কারো।

তবে এটি ঠিক যে, এই প্রতারক-জঙ্গী ইউনুস ও তার সহযোগীরা দেশান্তরী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামীলীগকে আজরাইলের মত ভয় পায় তা তাদের নানা আচরণ দেখেই বোঝা যাচ্ছে।

যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশেও নেই, তার দল আওয়ামীলীগের সব ধরনের কার্যক্রম এ দেশে নিষিদ্ধ করেছে অবৈধ ইউনুস সরকার তাদেরকে এত ভয় কেন সেটাই বুঝতে একটু সময় লাগে কারো কারো।

কিন্তু আওযামীলীগের শত্রুপক্ষ ঠিকই জানে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে এক করে আওয়ামীলীগ যদি মাঠে নামে, তাহলে এই ইউনুস-জামাত-বিএনপি-এনসিপিসহ ইসলামী জঙ্গীদের পালাবার পথ থাকবেনা এ বাংলাদেশে।

এর মধ্যে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে আলোচকরা বলেছেন গত চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে বাংলাদেশে নারীদের অধিকারের বিষয়টি হারিয়ে যাচ্ছে। এই ইউনুস সরকারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণ ২৮ নভেম্বর প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে; আলোচকরা বলেছেন, “ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নারীর উপস্থিতি এখনো পুরুষের সমান নয়।

চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের পর নারীর অধিকারের বিষয়টি ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। নারী অধিকার নিয়ে বিভিন্নভাবে বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। নারীর প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিতে তাই রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ দরকার।”

রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘ফেমিনিস্ট কো ক্রিয়েশন ক্যাফে’ শীর্ষক এক কর্মশালায় এমন কথা উঠে আসে। কর্মশালাটির আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগ। আয়োজনে সহযোগিতা করেছে জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশ।

প্রসঙ্গত এই অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়েছিল কথিত সুশীল ও এনজিওর সহযোগিতায়। না হলে এই জঙ্গী ইউনুস সরকারের আমলে এত নরম নরম ললিত ভাষায় নারী নির্যাতনের বিষয়ে কথা বলতো না।

কিন্তু ভণ্ড-প্রতারক ইউনুস সরকার বলে যাচ্ছে তারা নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত সচেতন এবং নারীদের ক্ষমতায়নে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। এর সবই ফাঁকা বুলি।

প্রথম আলো-ডেইলি স্টার গ্রুপ মানবাধিকার-গণতন্ত্র-ধর্মীয় সংখ্যালঘু অধিকার-বাকস্বাধীনতা-নারী অধিকারের কথা বললেও তারাই মূলত এসবের বিরুদ্ধে সবচেয়ে ক্ষতিকর ভূমিকা পালন করছে। কেউ কেউ প্রশ্ন করতে পারেন- কিভাবে তারা এসবের বিরুদ্ধে কাজ করছে?

এ প্রসঙ্গে একটু বলি- পাঠকের নিশ্চয়ই মনে থাকার কথা কয়েকমাস আগে হঠাৎ ইউনুস এক নাটক করলেন। নাটকটি ছিল তার পদত্যাগ করার বিষয় নিয়ে। এগুলো ছিল আসলে একধরনের অভিনয়। তাও আবার তিনি তা নাকি বলেছিলেন তার নিয়োগকর্তা তথাকথিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন নেতাকে।

এরপরই গত ২৪ মে’ ২০২৫ সালে ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম তার পত্রিকায় এক আকুল আবেদন জানিয়ে লিখেছেন- “পদত্যাগ করবেন না প্লিজ”। এতে তিনি আরো লেখেন- “ দেশপ্রেমিক হৃদয়ের প্রতিটি স্পন্দন, জাতি গঠনের সবটুকু অনুপ্রেরণা, সাধারণ বিবেচনাবোধ ও যুক্তিনির্ভর চিন্তা থেকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে আন্তরিক ও বিনীতভাবে অনুরোধ করছি—এই ক্রান্তিলগ্নে অনুগ্রহ করে দেশের নেতৃত্বের হাল ছাড়বেন না।”

মাহফুজ আনামের এ কান্না-আকুতি দেখলে বোঝা যায় তিনি কি চান এ দেশে। মাহফুজের আরেক সহযোগী, সম্পাদক মতিউর রহমান সম্পাদিত প্রথম আলো এই ভন্ড-প্রতারক-জঙ্গী ইউনুসকে প্রবলভাবে সহযোগিতা করেছেন অনেকদিন থেকে।

এই দুই সম্পাদক শুধু ইউনুসের সহযোগী নন তারা মূলত বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে বিরাজনীতিকরণ করার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার পক্ষে নানা রকমের ষড়যন্ত্র করে আসছে দীর্ঘদিন থেকে। আর এই দুই মিডিয়া মোগল অনেকদিন থেকেই মার্কিন ডিপষ্টেট এর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তাদের নানারকম অপপ্রচার করে গেছে ও করছে আওয়ামীলীগ ও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে নানা কৌশলে। এখনও তাদের সেই অপপ্রচার অব্যাহত রয়েছে।

দুর্মুখেরা অবশ্য প্রথম আলোকে বলে থাকেন ‘মতি আলু ‘ বা ‘প্রথম আলু’। তাই কেউ বলছেন- মতি আলুর মতি আর স্টারের মাহফুজ—দুজনেই এখন ব্রেকিং নিউজের ব্রেক না ধরেই এমন দৌড়াচ্ছে, যেন দেশের সব লকার তারা নিজেরাই খুলে দেখেছে।

৮০০ ভরি, ৯০০ ভরি, চাইলে ২ টনও লিখতে পারত—কালি তো ফ্রি। যাই হোক, ইতিহাস বলে—বাংলাদেশে যে দুই পত্রিকার “সরি”লেখার অভ্যাস সব থেকে বেশি, সেটা কিন্তু কোন রহস্য নয়। ভুল নিউজের বেলায় এরা এমনভাবে মাফ চায়, যেন সারা জীবন শুধু “দুঃখিত, সংশোধনী” লিখেই কাটিয়ে দেবে।

তাই চিন্তা নাই—আজ না কাল, কাল না পরশু—এই দুই মহান ভবিষ্যৎ দ্রষ্টা আবার ঠিকই কলম ধরবে:“ভুল তথ্য দেওয়ার জন্য আমরা দুঃখিত।”দেশের মানুষ আগেই শিখে গেছে—যখন মতি আর মাহফুজ ব্রেকিং নিউজ দেয়, তখন সত্যটা প্রথমে একটু ফ্যাক্ট চেক করে নিতে হয়। নইলে ৮০০ ভরি করতে করতে একসময় খবর হয়ে যাবে—”গঙ্গাচরার বালুচরে ৮০০ ট্রিলিয়ন ভরি স্বর্ণ উদ্ধার!”

আবার কোন কোন প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যম লিখেছে–অগ্রণী ব্যাংকের লকারে (একটি প্রতিষ্ঠিত দৈনিকে আবার ভল্ট বলা হয়েছে)! শেখ হাসিনার ৮৩২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার পাওয়ার খবর প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে এই মোটা দাগের পার্থক্যটি ধরা পড়েছে। সাধারণ বিবেচনায় কী বলে?

সেনাবাহিনী, এসএসএফ, পুলিশ, বিজিবিসহ নানা স্তরের নিরাপত্তা বলয়ে সুরক্ষিত ছিলো শেখ হাসিনার রাষ্ট্রীয় গণভবন। সাধারণ বুদ্ধিমত্তা বলে দামী স্বর্ণালঙ্কার সেখানেই রাখার কথা। তা না করে তিনি দোনলা বন্দুকধারী ব্যাংকে রাখবেন কেন ?

পাশাপাশি ৯ বাই ১৪ বাই ২৩ ইঞ্চি লকারে ৮৩২ ভরি বা প্রায় ১০ কেজি স্বর্ণালঙ্কার কি করে থাকে? তার উপর প্রদর্শিত স্বর্ণালঙ্কারের বেশ কয়েকটিতে পুথি, পাথরও আছে। কেবলমাত্র বার বানিয়েই রাখা সম্ভব।

তবে মজার ব্যাপার হলো শেখ হাসিনা বলে দিয়েছেন, তার কোন লকার ছিলনা ওই ব্যাংকে। তারপরও ওই বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার যেহেতু তাঁর (শেখ হাসিনা) বলেই প্রচার করা হয়েছে তাহলে সেই স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি করে ঢাকার কড়াইল বস্তিতে আগুনে পুড়ে যাওয়া গরীব মানুষদের মাঝে সাহায্য হিসেবে বিতরণ করার জন্য।

একটু খেয়াল করলেই দেখা যায়, ২০২৪-এর আগস্ট থেকে ২০২৫-এর আগস্ট পর্যন্ত শেখ হাসিনা রাজনৈতিকভাবে ইন্টেরিম সরকারের কাছে চ্যালেঞ্জিং মনে হয়নি।

যখনই তিনি বিশ্বের ডজনখানেক প্রভাবশালী মিডিয়ায় সাক্ষাৎকার দিয়ে বিশ্বজোড়া প্রচারে চলে আসলেন, তখনই ইন্টেরিমের থিঙ্কট্যাঙ্ক প্রমাদ গোনা শুরু করল। আইসিটি আদালতে (ক্যাঙ্গারু আদালত) বিচার করে ফাঁসির আদেশ দিয়েও তার রাজনৈতিক প্রচার বন্ধ করতে না পেরে, রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে এবার তার চরিত্র হননের চেষ্টা চলছে।

জনমানসে তিনি কত টাকার মালিক ছিলেন, বিলাসব্যসনে কত টাকায় ব্যয় করেছেন, কত বড় জমিদারি ছিল তার, এইসব তুলে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চলছে।

এর আগে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ‘৫ বিলিয়ন ডলার নিয়ে গেছে’ বলে অভিযোগ করা হলো। এর পরে এলো টিউলিপ সিদ্দিকীর দুর্নীতি নিয়ে মিথ্যা প্রচার।

গত ২০২৪-এর আগষ্ট মাসে তারা গণভবন লুটপাট চালিয়ে ভেবেছিল; শত-সহস্র কোটি টাকা, সোনাদানা ও দামী অনেক কিছু পাবে। তারা হতাশ হলো সাধারণ বাঙালি পরিবারের ব্যবহার্য জিসিনপত্র ও আসবাব দেখে। এর মধ্যে চরম ইতরামি হলো একজন প্রৌঢ় নারীর আন্ডারগার্মেন্ট নিয়ে। যে নোংরামি ও অসভ্যতা করা হলো তা বিশ্বজুড়ে প্রচার হয়ে বিশ্ববাসীর কাছে বাঙালির রুচির পরিচয় তুলে ধরল।

এখন আর প্রকাশ্যে অশ্লীল-অশ্রাব্য কথা বলতে কেউ কুণ্ঠিত হয় না। ২০ থেকে ৩০ বছরের তরুণ-তরুনীরা অবলীলায় ‘চ’ বর্গ, ‘ল’ বর্গ, ‘ম’ বর্গ মিশিয়ে কুৎসিত, ইরোটিক কালচার ছড়িয়ে দিয়েছে। ধেড়েগুলো আবার সেসব শুনে বিমলানন্দ পাচ্ছে। মিডিয়ায় সগর্বে ওইসব যৌনবিকৃতি প্রচারও করছে। তা নিয়ে সুশীলদের কোনও উদ্বেগ নেই।

স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার প্রকল্পের বয়স ২৪ ঘন্টা না পেরুতেই দুদক থেকে বলা হয়েছে, ‘দুটি লকার খুলে যে ৮৩২ ভরি (৯ হাজার ৭০৭ দশমিক ১৬ গ্রাম) সোনা পাওয়া গেছে, সেগুলো ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একার নয়।

শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর বোন শেখ রেহানা, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদসহ পরিবারের সদস্যদের নামে ওই সব সোনা জমা রাখা হয়েছিল নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে। এসব সোনার মধ্যে স্বর্ণালংকারের পাশাপাশি সোনার নৌকা ও হরিণ রয়েছে।’

অর্থাৎ পরিবারের সবার হলেও “নৌকা ও হরিণ রয়েছে”! মানে তারা বিরাট ডিসকভারি করে ফেলেছেন! মূলত শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়েই কি তার চরিত্র হননে মেতেছে এরা? এতে করে হয়ত একশ্রেণির ভালনারেবল চিন্তার মানুষকে দিকভ্রান্ত করতে পারবে, সবাইকে কি পারবে? উত্তর হচ্ছে-না, পারবে না। বরং নিজেরাই খেলো হতে থাকবে।

এই যে একের পর এক ষড়যন্ত্র করছে অবৈধ ইউনুস সরকার ও তার দোসররা এ দিয়ে কি তারা তাদের গদি রক্ষা করতে পারবে আদৌ এমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

একটু ভেবে দেখুনতো -ঢাকায় কমনওয়েলথ মহাসচিব শার্লি বচওয়ের নীরব কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সফরটি নতুনভাবে আলোচনায় এনে দিয়েছে কেন? প্রশ্ন হচ্ছে- বাংলাদেশে আগামী জাতীয় নির্বাচন কি সত্যিই অংশগ্রহণমূলক হবে?

সরকারের বক্তব্য, বিরোধী দলের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক চাপ, জুলাই সন্ত্রাসের প্রভাব—সব মিলিয়ে এখন মূল শব্দটি ‘অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন’। কেন কমনওয়েলথ সরাসরি “inclusive election” শব্দটি ব্যবহার করলো? এতে করে কি বার্তা সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে নীরব কূটনীতির ভিতরে?

আসলে কী ধরনের চাপ তৈরি হয় আওয়ামী লীগ, বিএনপি, এনসিপি, জাতীয় পার্টি’র মধ্যে, কারা কী বলছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সমন্বিত বার্তা কী হতে পারে। এই সফর বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতিকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে। এই সফরের পর কমনওয়েলথের অফিসিয়াল বিবৃতিই এখন সবচেয়ে বড় ইঙ্গিত— আগামী নির্বাচনের নৈতিক বৈধতা ও গ্রহণযোগ্যতা কোন দিকে যাবে ?

দেশের অন্যতম প্রতিবাদী লেখক-প্রাবন্ধিক- মুক্তিযোদ্ধা মনজুরুল কিবরিয়া দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউনুস-জামাতী জঙ্গী ও কথিত বাম-সুশীলদের সমালোচনা করে বললেন–প্রথমে ওরা টেররিস্টদের মুক্ত করে দিয়েছে।

এরপর শাহরিয়ার কবিরদের নিয়ে কারাগারে আটকে রেখেছে, সাংবাদিকদের ধরেছে, সংস্কৃতিকর্মীকে ধরেছে। আপনি চুপ থেকেছেন। এরপর বাউলদের ধরেছে। শুক্রবারও ( ২৮ নভেম্বর) বাউলদের মারধোর করেছে। এরপর তো আপনাদের পালা। খুলনায় আক্রমণ এটা তো সূচনা মাত্র। উদীচী আর সিপিবিকে যে ওরা নিশ্চিহ্ন করতে চায় সেকথা কি আপনি জানেন না?

বোমা হামলায় নিহত কমরেডদের কথা ভুলে গেলেন? আপনি যদি ভেবে থাকেন মিছিলে ফুক্কা কুল্লে বললেই ওরা আপনাকে গলা জড়িয়ে ধরবে, তাহলে ভুল করবেন। না, কোলাকুলি হয়তো করবে, কিন্তু ঠিক কোলাকুলির পরেই গিয়ে আপনার হাতের পায়ের রগ কাটবে।

এখন হয়তো খুব বেশী বিলম্ব হয়নি। হয়তো হয়নি। বুদ্ধিজীবী, সংস্কৃতিকর্মী, সাংবাদিক ওদেরকে যে নির্যাতনের মুখে রাখা হয়েছে সেটার বিপক্ষে মুখ খোলেন। তার জন্যে আপনি ফ্যাসিস্ট হয়ে যাবেন না। বরং সেইটাই হবে সহি গণতান্ত্রিক রাজনীতির প্রকাশ।

ঐতিহাসিকভাবে আপনার যারা শত্রু মিত্র ওরা কেউই মৈত্রীর দিকে বা শত্রুতার দিকে সমান মাত্রায় মিত্রও নয় শত্রুও নয়। এটাই সমাজবিজ্ঞানের নিয়ম। পরম মিত্র খুঁজতে গিয়ে লোহার দেয়াল দুলতে গেলে দেখবেন আপনার অঙ্গেরই একটা হাত বা পা হয়তো দেয়ালের অন্যপাশে গিয়ে পড়বে।

তাই বাঙালিকে বাঁচতে হলে বাংলা নামের দেশটিকে বাঁচাতে হলে আরো একটি জনযুদ্ধের কোন বিকল্প নেই। হয়তো সেই যুদ্ধে কেই বাঁচবে কেউ মারা যাবে। কিন্তু দেশ-সমাজ, রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং জনগণকে এই জালিমদের হাত থেকে রক্ষা করতে এর কোনো বিকল্প নেই। শিরদাঁড়া সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে লড়াইয়ের মাঠে থাকবে হবে প্রত্যেককে। এটাই সময়ের দাবি।

# নুরুল ইসলাম আনসারি, লেখক, প্রাবন্ধিক।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *