ঢাকা: জীবন মরণের সন্ধিক্ষণে খালেদা জিয়া। তাঁর শারীরিক অবস্থা ভালো নয়।
তবে মায়ের এই অবস্থাতেও দোলাচল কথাবার্তা তারেক রহমানের। তিনি যে লণ্ডনে থেকেই গর্জনে ওস্তাদ তা তো বোঝাই গেলো।
তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে চলছে গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। অভিযোগ উঠেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস, জামায়াতে ইসলামী এবং সেনাবাহিনীর একটি অংশের কঠোর আপত্তির কারণেই দেশে ফিরতে পারছেন না তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস চান না তারেক রহমান এখনই দেশে ফিরে রাজনীতির হাল ধরুন; নিরাপত্তার অযুহাত দেখিয়ে তাঁকে আটকানো হচ্ছে।
তবে প্রকাশ্যে বলছে ভিন্ন কথা।
সরকার সাফাই দিলো।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো বিধিনিষেধ বা আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান তিনি।
ফেসবুক পোস্টে শফিকুল আলম লেখেন, ‘তারেক রহমানের আজকের বক্তব্য যে এখনই দেশে ফেরার বিষয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তার জন্য অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়, এটা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমের কাছে জানতে চাওয়া হয় যে তার বাংলাদেশ প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে কোনো ধরনের বিধিনিষেধ রয়েছে কি না।’
লেখেন, ‘এ ব্যাপারে সরকারের তরফ থেকে কোন বিধিনিষেধ অথবা কোন ধরনের আপত্তি নাই। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ইতিমধ্যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং তার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।’
তবে এর আগে আজ নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তারেক রহমান লেখেন, ‘সংকটকালে মায়ের স্নেহ-স্পর্শ পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা যে কোনো সন্তানের মতো আমারও রয়েছে। কিন্তু অন্য আর সবার মতো এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়।’
উল্লেখযোগ্য যে, গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, নিরাপত্তার অযুহাত দেখিয়ে মূলত তারেক রহমানকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সরকার মনে করছে, এই মুহূর্তে তিনি দেশে ফিরলে সরকারের নিয়ন্ত্রণ ও সংস্কার প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
