ঢাকা: ইউনুস সরকারের সিদ্ধান্ত অবৈধ—বৈধ শাসনামলের ইতিহাস মুছে ফেলার এই প্রচেষ্টা রাষ্ট্রের জন্য বিপর্যয়।
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সবচেয়ে বড় ও ভয়াবহ সংকট হলো—জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় এমন একটি অন্তর্বর্তী সরকারের সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে আদৌ বৈধ থাকবে কি না।
ইউনুস নেতৃত্বাধীন প্রশাসন, আইনকে বহু সংবিধানবিদ ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক সরাসরি “সাংবিধানিক ভিত্তিহীন সরকার” হিসেবে উল্লেখ করছেন।
কারণ এই প্রশাসনের নেই কোনো জনসমর্থন, নেই নির্বাচনী ম্যান্ডেট, নেই সংবিধানসম্মত স্থায়ী শাসনক্ষমতার পরিধি। ফলে তাদের নেওয়া যেকোনো দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত অর্থনৈতিক, কৌশলগত বা প্রশাসনিক—শুরু থেকেই বৈধতা সংকটে দাঁড়িয়ে আছে।
এই অবৈধতার ছায়া সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে বৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলের সিদ্ধান্তগুলো বাতিল করার অদ্ভুত ও তড়িঘড়ি প্রচেষ্টায়।
সবেতেই প্রতিশোধের স্পৃহা এই ইন্টেরিমের।
এদিকে, রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে শেখ রেহানার ১০ কাঠা সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের করা মামলাটিতে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ৫ বছরের কারাদণ্ড, তাঁর বোন শেখ রেহানার ৭ বছর কারাদণ্ড, মেয়ে ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের ২ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এবং একইসঙ্গে তাঁদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
এছাড়াও অন্য ১৪ জন অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদে কারা এবং অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ঢাকার বিশেষ জজ-৪ এর বিচারক রবিউল আলম এই রায় ঘোষণা করেন।
মামলায় শেখ রেহানা, টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও শেখ হাসিনাসহ ১৫ জনকে আসামি করা হয়।
দেখা যায়, তদন্ত শেষে ১০ মার্চ আরও দুই আসামি যুক্ত হয়ে মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়।
মামলার অন্যান্য আসামিদের মধ্যে আর কারা রয়েছেন?
জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজউক-এর সাবেক চেয়ারম্যানের পিএ মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), সাবেক পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, উপ-পরিচালক নায়েব আলী শরীফ এবং পরবর্তীতে যুক্ত হওয়া দুই আসামি-সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন ও সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।
