ঈশ্বরদী: আহারে! মানুষ এত নিষ্ঠুর হয় কীভাবে? এদের মনে কী দয়ামায়া বলে কোনো জিনিসই নেই?

বাসার দরজায় ডাকাডাকি করছিল ছোট্ট কুকুর ছানাগুলো। তাতেই ক্ষিপ্ত বিরক্ত হয়ে বস্তায় ভরে ছানাগুলোকে পুকুরে ফেলে দিলেন এক নারী।

অসহায়ভাবে থেমে গেল আটটি নিষ্পাপ প্রাণের শ্বাস। আর পাড়ে দাঁড়িয়ে কাঁদতে লাগল মা কুকুরটি। কিছু তো বলতে পারে না, বোবা কান্নায় ভরে গেলো বুক‌।

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদের আবাসিক এলাকায় ঘটেছে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা। অভিযুক্ত নারীর নাম নিশি রহমান। তিনি ক্ষুদ্র কৃষক ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপক হাসানুর রহমান নয়নের স্ত্রী।

পৈশাচিক ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার সকালে। পুকুরের ধারে মা কুকুরটির গগনবিদারী চিৎকার দেখে উপস্থিত মানুষের চোখে পানি চলে আসে। কী অসহায় অবস্থা!

লেখক তসলিমা নাসরিন তীব্র প্রতিবাদ করেছেন এই ঘটনায়।

তিনি লেখেন, পাবনার ঈশ্বরদীতে ৮টি কুকুরশাবককে বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলে দিয়েছে ক্ষুদ্র কৃষক ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপক হাসানুর রহমান নয়নের স্ত্রী নিশি রহমান।

এখন মা- কুকুরটি সারা এলাকা জুড়ে শাবকগুলোকে খুঁজছে আর কাঁদছে। কেন নিশি রহমান এই কাজটি করলো? কী দোষ করেছিল শাবকগুলো। ওরা নাকি কাঁদছিল।

নিশি রহমােনের সন্তানেরা কাঁদলে তাদের কি সে বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলে দেবে? দেবে না। নিশি রহমান কি জানে কী জঘন্য কাজ করেছে সে? তাকে বস্তায় পুরে পুকুরে ফেলে না দেওয়া পর্যন্ত সে বুঝবে না।

মানুষের মতো বর্বর প্রাণীকে আমি খুব অপছন্দ করি, খুব ঘৃণা করি। এই পৃথিবী কুকুর বেড়ালের হোক। জিরাফের হোক, হরিণের হোক, এই পৃথিবী ময়ুরের হোক, দোয়েল পাখিদের হোক”।

প্রসঙ্গত, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলা প্রশাসনের ডাকা জরুরি সভায় অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিক সরকারি বাসা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবং তাঁর বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *