ঢাকা: গুমের মামলায় শেখ হাসিনার পক্ষে লড়বেন না জানিয়ে ট্রাইব্যুনালে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না।

আজ, বুধবার (৩ ডিসেম্বর) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে দুই সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।

ট্রাইব্যুনালের অপর সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

প্রসঙ্গত, এর আগে ফেসবুক লাইভে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি একটা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছি। সেটা হলো, সম্প্রতি আপনারা জানেন, আইসিটিতে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে ডিফেন্ড করার জন্যে আমি আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ চেয়েছিলাম। প্রথমে বলেছিলাম, তাকে ডিফেন্ড করবো।

আদালত বললো, আপনি তো পারেন না, কারণ তিনি পলাতক। তখন প্রসিকিউশন বললো, অনলি স্টেট ডিফেন্সের প্রভিশনটা আছে। যেকোনও উপায়ে আমি তাকে ডিফেন্ড করতে চাই। কিন্তু এখন যেটা দেখলাম, শেখ হাসিনারও এই আদালতের প্রতি আস্থা নাই এবং বিশেষ করে আমার বন্ধু সহযোদ্ধা, সহকর্মী এবং রাজনৈতিকভাবে আমরা পরস্পর স্বাধীনতার পূর্ব থেকেই জড়িত অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে এই আদালত একটি আদালত অবমাননার মামলা আনয়ন করেছে।

আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ফজলুর রহমানকে আমি ডিফেন্ড করবো। এ কারণে এবং যে আদালতের প্রতি বঙ্গবন্ধু কন্যার আস্থা নেই সে আদালতে আমি তাকে (শেখ হাসিনাকে) ডিফেন্ড করতে পারি না, উচিত না, অনৈতিক।

সেই কারণে আমি ফরমালি যদিও আমি অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাইনি, পেলে পরে তাকে (ট্রাইব্যুনালকে) ফরমালি জানাবো। আর না পেলে পরে এখান থেকে জানিয়ে দিলাম, আমি আদালতে অন্তত বঙ্গবন্ধু কন্যার পক্ষে বা তাকে ডিফেন্ড করার জন্য দাঁড়াবো না, যা হওয়ার হবে। দেখা যাবে।’

‘এখন বলতে পারেন, বিচার বিভাগের প্রতি আস্থা আছে কিনা? এটা জনগণের কাছেই আমি ছেড়ে দিলাম। জনগণ দেখেন কতখানি আস্থাশীল বিচার বিভাগের প্রতি।

আর এই বিচারটা আন্তর্জাতিকভাবে বঙ্গবন্ধু কন্যার যে বিচারটা হয়েছে এই আইসিটিতে, এটার প্রতি আন্তর্জাতিকভাবে কিন্তু যারা গত ১৬ বছর ধরে আওয়ামী শাসনের এবং বঙ্গবন্ধুর কন্যার বিরোধিতা করেছে তারা সেই হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অ্যামনেন্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বহু আন্তর্জাতিক সংগঠনই তাদের মতামত ব্যক্ত করেছে।

আর আদালতে যদি আমি তাকে নির্বিঘ্নে ডিফেন্ড না করতে পারি তাহলে সেখানে আইনজীবী হিসেবে নিয়োজিত হয়ে কোনও লাভ নেই।’

‘আর আরেকটা কথা বলি, যত কিছুই হোক আমি অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানকে ডিফেন্ড করবো এটা তাকেও আমি বলেছি এবং তার পাশে থাকবো। শুধু এইটা নয় সে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনও কথা বলেনি।

সে আমার চেয়েও কঠিন অনেকের চেয়েও কঠিন এবং অনমনীয় মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে সে কখনও কোনও আপোষ করে নাই। সেই আপোষহীন নেতা যদিও আরেক দল করে আমি যদিও কোনও দল করি তো তাকে আমি ডিফেন্ড করার জন্যে এগিয়ে যাবো।’

শেখ হাসিনার মামলায় যুক্ত হওয়ার পর ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে আদালতে না আসায় জেড আই খান বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাইব্যুনাল।

এবং দ্রুত তাঁকে ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়। পরে ১০ মিনিটের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে শেখ হাসিনার পক্ষে লড়বেন না বলে নিঃশর্ত ক্ষমা চান আইনজীবী জেড আই খান পান্না।

একপর্যায়ে গুমের ২ মামলায় শেখ হাসিনার পক্ষে স্টেট ডিফেন্স হিসেবে আমীর হোসেনকে নিয়োগ দেন ট্রাইব্যুনাল।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *