শিল্প প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক নিজেকে কখনো কখনো দেউলিয়া ঘোষণা করে তার আর্থিক অবস্থা চরম সংকটে পড়লে।
অবশ্য সেটা শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা ব্যাংকের ব্যবসা, পরিচালনাকারী পরিষদের নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও নানাবিধ অব্যবস্থাপনার কারণে হয়ে থাকে।
বাংলাদেশে এমন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কম নয়। তখনই তারা নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করে যখন আর কোন উপায় থাকেনা। বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, বিএনপির কি নিজেদেরকে দেউলিয়া ঘোষণা করার মত পরিস্থিতি ও সময় হয়ে গেছে এরই মধ্যে!
সাম্প্রতিককালে বিএনপির যে আচার-আচরণ, তা দেখে এমনটাই মনে হচ্ছে। বিএনপি’র প্রধান প্রতিপক্ষ আওয়ামীলীগের আমলেও কি বিএনপি এমন সংকটে পড়েছিল? এর উত্তর হলো- না। বিএনপি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে বার বার ভুল করছে। ফলে এর দায়ভার তার ওপরই বর্তাবে, এটাই স্বাভাবিক।
বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের শাসনামলেও করেছে , আর এখনকার অগণতান্ত্রিক-অবৈধ ইউনুস সরকারের আমলেও করে যাচ্ছে। ক্রমাগত এই ভুলের মাশুল কিন্তু এই দ্বিতীয় বৃহত্তম দলটিকেই দিতে হবে। এই দলটি যদি সত্যিই রাজনীতিতে দেউলিয়া হয়ে যায় তাহলে ক্ষতি শুধু বিএনপি’র নয়। সে ক্ষতি অবশ্যই বাংলাদেশের জনগণের ওপরও পড়বে।
কেউ কেউ হয়তো বলবেন সেনা ছাউনিতে জন্ম নেয়া এ দলটির কাছ থেকে এর চেয়ে বেশি আশা করা বৃথা। অবশ্য সাবেক সামরিক স্বৈরশাসক ও সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত এই বিএনপি’র কাছ থেকে গণতান্ত্রিক আচরণ প্রত্যাশা করাটাও একটু বেশি হয়ে যায় বটে।
তবে এদেশে বিগত নব্বই দশকের রাজনৈতিক আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এই দলটি নিজেকে একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারায় আনার যে চেষ্টা করেছিল তাও একেবারে অস্বীকার করা দলটির প্রতি কিছুটা অবিচার হয়ে পড়ে।
কিন্তু দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান যিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে চাকরি করা অবস্থায় সেনা গোয়েন্দা অফিসার ছিলেন। অর্থাৎ আইএসআই এর অফিসার হিসেবে তিনি নিশ্চয় পাকি স্বার্থই রক্ষা করেছিলেন –তা ভুলে গেলে চলবেনা।

এই জিয়াউর রহমানই যে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে “বাইচান্স মুক্তিযোদ্ধা’ হয়ে গিয়েছিলেন তা ইতিহাস ঘাঁটলেই বের হয়ে আসে। তিনিই তো এদেশে যুদ্ধাপরাধী, পাকিস্তানী পাসপোর্টধারী গোলাম আজমকে বাংলাদেশে আসার ও এদেশে আবার বাংলাদেশ বিরোধী জামায়াতে ইসলামীকে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছিলেন। শুধু কি তাই ?
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাবিরোধী মুসলিম লীগের নেতা, যুদ্ধাপরাধী শাহ আজিজুর রহমানকে ১৯৭৯ সালের ১৫ এপ্রিল জিয়াউর রহমান তার সরকারের মন্ত্রীসভায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন।
অথচ জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধে একজন সেক্টর কমান্ডারও হয়ে গিয়েছিলেন তখন সিনিয়র বাঙ্গালি অফিসার কম থাকার সুযোগে। স্বাধীনতার পর তিনি বীর উত্তম খেতাবও বাগিয়ে নিলেন অনেকটা সেক্টর কমান্ডার হিসেবে ।
যদিও তিনি কখনো মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছেন এমন কোন প্রমাণ নেই। যদিও অন্য সেক্টর কমান্ডারদের সবাই সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন। এদের মধ্যে অনেকে আহতও হয়েছেন। কিন্তু নট জিয়াউর রহমান। এহেন একজন মুক্তিযোদ্ধা তার সরকারের প্রধানমন্ত্রী করেছিলেন একজন স্বাধীনতাবিরোধী আজিজুর রহমানকে।
মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আইন করে বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। সে যাত্রায় জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিও নিষিদ্ধ ছিল।
কিন্তু “ বাইচান্স মুক্তিযোদ্ধা” জিয়াউর রহমানের খায়েসে জামায়াত আবার বাংলাদেশে রাজনীতি করার সুযোগ পায়। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গত পাঁচ দশকে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীর দল জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সবক্ষেত্রে শুধু জাঁকিয়ে বসেছে বললে ভুল বলা হবে।
গত চব্বিশের আগষ্টে ‘জঙ্গী-মিলিটারি ক্যু’ এর পর থেকে প্রশাসন অনেকটা তাদের নিয়ন্ত্রণে। ফলে রাজনীতিও তারা অত্যন্ত কূটকৌশলে নিয়ন্ত্রণ করছে।
বলা শুরু করেছিলাম রাজনৈতিক দেউলিয়াপনার বিষয় নিয়ে। আসলে শুরু থেকেই বিএনপি একটি গোঁজামিলের মধ্য দিয়ে জন্ম নেয়া রাজনৈতিক দল। মুক্তিযোদ্ধা হয়েও জিয়াউর রহমান একাত্তরের স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত ও শাহ আজিজুর রহমানসহ আরো অনেক বাংলাদেশবিরোধী ও পাকিস্তানপন্থীকে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়ে ও তার দল বিএনপিতে স্থান দিয়ে নিজের রাজনৈতিক দেউলিয়াপনার সূচনা করেছিলেন বললে নিশ্চয়ই ভুল হবেনা।
তারপর জিয়াউর রহমানের নির্দেশে কত শত মুক্তিযোদ্ধা সশস্ত্র বাহিনীর অফিসারকে নির্মম-নির্দয়ভাবে হত্যা করা হয়েছে সে ইতিহাস নিশ্চয়ই দেশবাসী ভুলে যাননি।
প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থাতেই এই জিয়াউর রহমান নিহত হন সামরিক অফিসারদের হাতে ১৯৮১ সালের ৩০ মে। তার সেই লাশ নিয়েও কত কাহিনী দেখলো দেশবাসী। ঢাকার চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের নামে যে কবর রয়েছে তাতে কি সত্যিকার অর্থেই জিয়াউর রহমানের লাশ ছিল সন্দেহ রয়েছে।
এই কবর থেকে নমুনা তুলে ডিএনএ টেষ্ট করলেই বোঝা যেতো বা এ ব্যাপারে যে চরম সন্দেহ রয়েছে তা পরিস্কার হয়ে যেতো দেশবাসীর কাছে। ডিএনএ টেস্ট করার দাবিও বিভিন্ন সময়ে উঠেছিল। কিন্তু বিএনপি কখনো তাতে রাজী হয়নি। এ যেন “ লাশের ভয়”!
আর তাই নিন্দুকেরা বলে থাকেন- “ লাশের রাজনীতি থেকে বের হতে পারছেনা বিএনপি”। তারা সমালোচনা করে বলছেন, জিয়ার লাশ নিয়েও বিএনপি রাজনীতি করেছে, আবার তারই পত্নী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু-বা চরম স্বাস্থ্য সংকট নিয়েও বিএনপি রাজনীতি করছে। এটি যেন বিএনপি’র পুরানো খাসলত বা অভ্যেস। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আদৌ বেঁচে আছেন কিনা তা নিয়ে চরম ধোঁয়াশা-সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

কেউ কেউ বলছেন, মরণাপন্ন বা মৃত খালেদা জিয়াকে কেন এমন পরিস্থিতিতে লন্ডনে নেওয়া হচ্ছে ? কারণ হিসেবে তারা বলছেন- লন্ডন থেকে ঘোষণা করা হবে খালেদা জিয়া মৃত। তা হচ্ছে ড.ইউনুসের এক ম্যাটিকুলাস নাটক।
দেশের হাসপাতালে খালেদার মৃত্যু হয়েছে এই খবর প্রকাশ হলে বিএনপির নেতাকর্মীরা হাসপাতালসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় অগ্নিসংযোগ করবে, অবৈধ ইউনুস সরকার সেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সামাল দিতে পারবে বলে আমার মনে হয়না ।
সামরিক স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে অত্যন্ত সাহসী ভূমিকা রাখা সাবেক ছাত্রনেতা অভিজিৎ ধর বাপ্পী দেশের এখনকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বলছেন-“ তারেক রহমান কোনভাবেই দেশে আসতে পারবেন না।
কেননা তারেকের রাজনীতি ‘গ্লোবাল পলিটিক্স’-এ হুমকি স্বরূপ, যে কারণে আন্তর্জাতিক সমর্থন পাচ্ছে না তারেক। তারেক বিএনপির শীর্ষ নেতা, তাতে বিশ্ব নেতাদের সমস্যা নাই, কিন্তু তারেক রহমান বাংলাদেশের কথিত প্রধানমন্ত্রী হবেন সেটা কোন দেশ কিংবা বিএনপি’র সিনিয়র নেতারা মানছেননা।”
এমনতরো পরিস্থিতিতে তারেক রহমানের মা বেগম খালেদা জিয়া পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করার পর তারেক যদি দেশে না আসেন তখন বিএনপি বলতে কিছু থাকবে কিনা তা নিয়েই যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। যদিও থাকে তা হবে না থাকার মত করে। কারণ চরম নেতৃত্বশূন্যতা তৈরি হয়েছে ইতিমধ্যেই।
বিএনপি’র অনেক সিনিয়র নেতা লন্ডনে পলাতক তারেক রহমানের নেতৃত্ব মেনে নিতে নারাজ। বিএনপি নানাভাগে বিভক্ত হয়ে পড়বে। আর এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক সুবিধা লুটবে জামায়াতে ইসলামী। অভিযোগ রয়েছে- ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু মিউজিয়াম ভাঙ্গার পেছনে তারেক জিয়ারও হাত রয়েছে।

তার মানে কি দাঁড়াচ্ছে ? বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের লাশ নিয়ে একধরনের রাজনীতি করেছিল বিএনপি। এখন আবার ৪৪ বছর পর তার স্ত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম জিয়ার পৃথিবীতে অনুপস্থিতির বিষয়টি নিয়েও বিএনপি চরমভাবে নোংরা রাজনীতি করছে।
আমরা একটু কয়েক বছর পেছনের ঘটনাবলী একটু দেখে আসি, বিএনপি ও তার নেত্রী বেগম জিয়ার নানা আচরণের কিছু উদাহরণের জন্য। ২০০৭-২০০৮ সালে সেনানিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ১৩ টি মামলা করেছিলো।
অথচ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে ১৩ টির মধ্যে ৯ টি মামলাই খারিজ করে দেয়। ৪ টি মামলা খারিজ করে নি, কারণ সেগুলো রাজনৈতিক মামলা ছিলো না।
এরপর ২০১৩ সালের অক্টোবরে রাজনৈতিক সংকট নিরসনে বিভিন্ন মহলের অনুরোধের পর তখনকার প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা খালেদা জিয়াকে ফোন করেন একসাথে বসে সংলাপ করার জন্য। শেখ হাসিনা সালাম দিয়ে বিনয়ের সাথে কথা শুরু করলেও খালেদা জিয়া প্রথম কথা থেকেই ঝগড়া ও ধমকাধমকি শুরু করে দেয়। খালেদা জিয়ার ধামকাধমকির কারণে সংলাপ আর আলোর মুখ দেখলো না। তখনকার বিভিন্ন মিডিয়া ঘাঁটলেই এর প্রমাণ পাওয়া যাবে।
যতদূর মনে পড়ে ২০১৫ সালে সাংবাদিক মুন্নি সাহা খালেদা জিয়াকে প্রশ্ন করেন, দুই মাসের আন্দোলন ও ১২১ প্রাণের বিনিময়ে বিএনপি কি পেয়েছে? জবাবে খালেদা জিয়া বলেছিলেন- “ জনগণের সমর্থন পেয়েছে”।
প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সন্তান আরাফাত রহমান কোকো মারা গেলে একজন মা হিসেবে শেখ হাসিনা ছুটে যান খালেদা জিয়াকে সমবেদনা জানাতে। হুট করে যান নি, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে জানিয়েই গিয়েছিলেন। অথচ শেখ হাসিনা পৌঁছার সাথে সাথে খালেদা জিয়ার অফিসের গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থেকে ফিরে আসতে হয় তাঁকে।
অথচ বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ২০০৪ সালের ২৪ আগষ্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভেনিউতে শেখ হাসিনার ওপর গ্রেনেড হামলা হয়। উদ্দেশ্য শেখ হাসিনাকে হত্যা করা। আইভি রহমানসহ ২৪ জন নেতা-কর্মী মারা যান। শেখ হাসিনাসহ কয়েক’শ নেতা-কর্মী আহত হন।
খালেদা জিয়া সমবেদনা জানানো তো দূরে থাক, উল্টো বিদ্রুপ করে বলে, শেখ হাসিনা ভ্যানিটি ব্যাগে বোমা এনে ফাটিয়েছে!
এতো ভয়াবহ বোমা হামলা হয়েছে, অথচ খালেদা জিয়ার সরকার মামলা পর্যন্ত নিতে চায়নি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে গ্রেনেড হামলা মামলার বিচার করেছে। খালেদা জিয়ার সন্তান ও মন্ত্রীসভার সদস্যরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, শেখ হাসিনা চাইলে খালেদা জিয়াকে এই মামলায় জড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত দিতে পারতেন, যেভাবে ইউনুসের আদালত শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড দিলো। কিন্তু শেখ হাসিনা সে পথে হাঁটেননি।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের করা দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার কারাদণ্ড হয়। এই মামলা আওয়ামী লীগের আমলে করা নয়। আওয়ামী লীগ বরং খালেদা জিয়ার ৯ টি মামলা খারিজ করে দিয়েছে। শেখ হাসিনার সরকার খালেদা জিয়াকে নিজের পছন্দের গৃহকর্মীকে সাথে নিয়ে কারাগারে থাকার অনুমতি দিয়েছিলেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী কে কবে এই সুযোগ পেয়েছে?
খালেদা জিয়া কারাগারে গিয়েছিলো ৫ বছরের দণ্ড মাথায় নিয়ে। খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যদের অনুরোধে ২ বছরের মাথায় নির্বাহী আদেশে কারামুক্ত করেন শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা যদি খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত না করতো তাহলে কি হতো? কিছুই হতো না।
শেখ হাসিনা এটা করেছিলেন মানবিক কারণে, মহানুভবতা দেখিয়ে।অথচ এই মহানুভবতার প্রতিদান খালেদা জিয়া দিয়েছেন শেখ হাসিনার ফাঁসির রায়ের পর সন্তোষ প্রকাশ করে। যেই নারী বয়সের ভারে নিজেই চলাফেরা করতে পারেন না, সারাক্ষণ চিকিৎসকের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকতে হয় তিনি আবার আরেকজনের ফাঁসির রায় শুনে সন্তোষ প্রকাশ করে!
রাজনৈতিক জীবনে দোষ-ত্রুটি সবারই থাকে। শেখ হাসিনা আজ পর্যন্ত খালেদা জিয়াকে যে পরিমাণ মানবিকতা দেখিয়েছেন খালেদা জিয়া যদি তার কিয়দংশও দেখাতেন তাহলে এই দেশের রাজনীতিতে এতো ঘৃণার চাষাবাদ হতো না।
আর এখন পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করা বা ত্যাগ করতে যাওয়া বেগম জিয়ার সঠিক অবস্থান নিয়েও বিএনপি রাজনীতি করছে, যা তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বই প্রমাণ করে।
এই রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব কিন্তু শুধুমাত্র বিএনপি’র অস্তিত্বের জন্য চরম সংকট নয়, এটি বাংলাদেশের রাজনীতির জন্যও খুব একটা সুখবর নয়।
# নুরুল ইসলাম আনসারি: লেখক, প্রাবন্ধিক।
