ময়মনসিংহ: পাহাড়সম অহংকার নিয়ে স্বাস্থ্য মহাপরিচালক বললেন “আপনি কার সামনে দাঁড়ায় কথা বলছেন, কথা বার্তা হুঁশ করে বলবেন” – ডিজি সাহেবের এই শুরুটাই বলে দেয় উনি কতটা দাম্ভিক আর ক্ষমতার অপব্যবহারকারী।

তিন দিনের ট্রেনিং এর দুই দিন তাঁর আসার কথা ছিলো কিন্তু আসেননি বলায় আবার বললেন – “সেটা অন্য ব্যাপার “।

আবার পরক্ষণেই বাঘের মতো গর্জন দিলেন -“who are you!”

এই ধরনের নিজেকে বিশাল কিছু মনে করা ডিজির জন্যই আজকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই দশা‌।

অবশেষে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতাল পরিদর্শনে আসা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ডা. মো. আবু জাফরের সঙ্গে তর্কে জড়ানো চিকিৎসক ডা. ধনদেব চন্দ্র বর্মণকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করায় তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

মমেক হাসপাতাল প্রশাসন শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে চিকিৎসকের বিষয়ে এই সিদ্ধান্ত নেয়।

ডা. মাঈন উদ্দিন বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করার পর ডা. ধনদেব চন্দ্র বর্মণকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শোকজ নোটিশ দিয়েছে।

এছাড়া তাকে সাময়িক সময়ের জন্য অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

ডা. ধনদেব চন্দ্র বর্মণ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ক্যাজুয়ালটি ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

ডাক্তার তাঁর বিভাগে রোগীর চাপ, জনবল সংকট এবং আরো সীমাবদ্ধতা নিয়ে ডিজির কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অভিযোগগুলো জানান।

এদিকৈ পরিদর্শনে গিয়ে স্বাস্থ্যের ডিজি ক্যাজুয়ালটির ১৪ নম্বর কক্ষে অপারেশন থিয়েটারের পাশে একটি টেবিল দেখতে পান। টেবিলের ওপর ছিল চিকিৎসা সরঞ্জাম। ওটিতে অন্যদের সঙ্গে ডা. ধনদেবও ছিলেন।

স্বাস্থ্যের ডিজি ওটির পাশে টেবিল রাখার কারণ জানতে চাইলে ‘টেবিলে লিখতে হয়’ বলে জানান ডা. ধনদেব।

তখন স্বাস্থ্যের ডিজি বলেন, ‘রোগীর চাপ আছে, তাই বলে ওটির কক্ষ তো হাটবাজারের মতো হলে হবে না। লিখতে হয় মানে? কথাবার্তা ঠিক করে বলবেন? হো আর ইউ?’

জবাবে ডা. ধনদেব বলেন, ‘আই এম ডা. ধনদেব বর্মণ।’ ডিজি বলেন, ‘ইটস ওকে। দ্যাট ইজ নট দ্য ম্যাটার।’

ডা. বর্মণ বলেন, ‘দ্যাট ইজ ম্যাটার।’ তখন ডিজি ‘স্টপ, কন্ট্রোল ইওর মাউথ’ বলার পর ডা. ধনদেব বলেন, ‘কীসের স্টপ? পুলিশি ল্যাংগুয়েজে (ভাষায়) কথা বলবেন না। আমাকে সাসপেন্ড করেন, নো প্রবলেম।’

এরপর স্বাস্থ্যের ডিজি বলেন, ‘যারা ডিজির সঙ্গে এরকম আচরণ করে, তারা রোগীর সঙ্গে কী আচরণ করে?’

উত্তরে ডা. ধনদেব বলেন, ‘আমি রোগীর সঙ্গে অনেক ভালো আচরণ করি। কিন্তু যারা দায়িত্বে আছে তাদের সঙ্গে আমার ভালো আচরণ করার দরকার নেই। তিনদিন ট্রেনিং করলাম, আপনার (ডিজি) আসার কথা ছিল দুদিন। আপনি একদিনও আসেননি।’

তখন স্বাস্থ্যের ডিজি বলেন, ‘সেটাতো অন্য কথা। তুমি এরকম কথা বলছো কেন?’

একপর্যায়ে স্বাস্থ্যের ডিজি আবু জাফর ওই চিকিৎসককে বহিষ্কারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে ওই কক্ষ থেকে বের হয়ে যান।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *