মাত্র পাঁচ মাস আগে এ বছর ১২ জুলাই একটি লেখার শিরোনাম ছিল-“বিরাজনীতিকরণের গভীর ষড়যন্ত্রের ফাঁদে বাংলাদেশ ”? বিএনপি’র বেসামাল অবস্থার মধ্যে লন্ডন প্রবাসী তারেক রহমানের দেশে ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে”।

আর সেই ৫ মাস পরেও একই বিষয় যেন আরো বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। এই ষড়যন্ত্রের পেছনে যে শুধু “মেটিকুলাস ডিজাইনার জঙ্গী-প্রতারক-অবৈধ ইউনুস সরকার রয়েছে তা কিন্তু নয়। একাত্তরের কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীর দল জামায়াতে ইসলামী অনেক বেশি কলকাঠি নাড়ছে এর পেছনে।

অথচ এই জামায়াতে ইসলামীকে বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানই বাংলাদেশে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছিলেন। আর তাঁর স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, লন্ডনে তাঁর গুণধর পলাতক পুত্র তারেক রহমান আরো কয়েক ডিগ্রী এগিয়ে জামায়াতের সাথে এতদিন জোটবদ্ধ আন্দোলন করেছেন।

কয়েকজন কুখ্যাত রাজাকার-আলবদর-একাত্তরের খুনীকে বাংলাদেশের মন্ত্রী বানিয়েছিলেন। এর সবই তারা ( মরহুম জিয়াসহ তার স্ত্রী-পুত্র) করেছিলেন শুধুমাত্র আওয়ামীলীগকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত ও বিএনপিকে ক্ষমতায় রাখার জন্য। কিন্তু সেই জামায়াতই যে কালসাপ হয়ে বিএনপিকে মরণ ছোবল মারবে তা আর বুঝতে পারেনি বিএনপি।

কিন্তু এখন যখন হাঁড়ে হাঁড়ে বুঝতে পারছে তখন আর তাদের ( বিএনপি) কিছু করার নেই। গত চব্বিশের জুলাই-আগষ্টে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন প্রশাসনের “ডিপষ্টেট থিউরি বা কন্সপিরেসি” ও সে মোতাবেক নোবেল লরিয়েট ড. মুহাম্মদ ইউনুসের “ মেটিকুলাস ডিজাইন” এর ষড়যন্ত্রে একটি সাংবিধানিক সরকার ও সরকারপ্রধান শেখ হাসিনাসহ পুরো আওয়ামীলীগ সরকারকেই উৎখাত করা হলো।

এই টোটাল ষড়যন্ত্রে জামায়াতে ইসলামীসহ বাংলাদেশের ইসলামী জঙ্গীবাদী দল, বিএনপি, হিযবুত তাহরীরসহ আরো অনেকেই যুক্ত ছিলেন। তবে এর সাথে বাংলাদেশের সশস্র বাহিনীকে জঙ্গীদের সাথে মিলিয়ে টোটালি “জঙ্গী-সামরিক ক্যু” করা হয়েছে। আর এর সবই করা হয়েছে কথিত গণআন্দোলনের নামে।

দেশবাসী পাঠকদের নিশ্চয়ই মনে আছে , ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এসে কথিত সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিলো। তখন দুই প্রধান নেত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে জেলে নেবার পর ‘মাইনাস -টু ফর্মুলা’র আলোচনা জোরদার হয়েছিলো।

তখন তাদের দলসহ অনেকেই অভিযোগ করেছিলো যে, ‘দুই নেত্রীকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে’- যা পরে ‘মাইনাস-টু ফর্মুলা’ হিসেবে পরিচিতি পায়।

তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এবার শুধু নেত্রীদ্বয়কে নয় আওয়ামীলীগ ও বিএনপিকেও মাইনাস টু ফর্মুলার মধ্যে ফেলেছেন ষড়যন্ত্রকারিরা। বড় দুটি রাজনৈতিক দলতো এ দুটিই।

যত অসাংবিধানিক কাজ আছে তা করতে গেলে দেশকে বিরাজনীতিকরণ করা খুব জরুরী এখনকার প্রতারক সরকার ও তাদের দোসর জামায়াতসহ এসব উগ্রবাদী গোষ্ঠীর কাছে। সে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এগোচ্ছে তারা নানা ফন্দিতে, নানা কৌশলে।

নির্বাচন নির্বাচন খেলা খেলছে বেশ। কখনো এগ্রেসিভ মুডে, আবার কখনো ডিফেন্সিভ মুডে। যখন যেটার প্রয়োজন।

সেই ২০০৭ সালে কথিত সংস্কার করতে পারেনি সে সময়কার ষড়যন্ত্রকারিরা। তবে এবার ঠিকই কথিত জুলাই সনদ এর নামে নানামুখী সংস্কার বাস্তবায়নের ষড়যন্ত্রে নেমেছে এই দেশি-বিদেশী আন্তর্জাতিক চক্র।

চব্বিশের ৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগ সরকার, প্রধানমন্ত্রী নেত্রী শেখ হাসিনাকে উৎখাত করা হয় অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও অগণতান্ত্রিকভাবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশেরই সামরিক বাহিনীর উড়োযানে করে ভারতে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

আর এরপর থেকে বিএনপি দ্রুততম সময়ে নির্বাচন দাবি করে আসছে। কিন্তু সুচতুর-ক্ষমতালোভী-টাকালোভী ইউনুস সরকারের দিক থেকে বারবারই গুরুত্ব দেয়া হয়েছে সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের ওপর।

বিএনপি বোকার মতো জুলাই সনদে অতি আগ্রহী হয়ে স্বাক্ষর করে মনে করেছে সিরকার বুঝি তার কথামতো আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৬ এর ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেবে। আর সেই নির্বাচনে বিএনপিই সরকার গঠন করবে।

আসলে বিএনপি যে দিবাস্বপ্ন দেখছে তা বললে অত্যুক্তি হবে বলে মনে হয় না। পরিস্থিতি এমন হয়ে দাড়িয়েছে যে, উল্টো আওয়ামীলীগের অনুপস্থিতিতে বিএনপিকে ইউনুস সরকার ও জামায়াতের দয়া দাক্ষিণ্যের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

যদিও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নানা সময়েই বলেছেন, ২০০৭ সালে ১/১১-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় বিরাজনীতিকরণে এবং মাইনাস-টু ফর্মুলা বাস্তবায়নের ব্যর্থ চেষ্টা হয়েছিল। সেই পথ অনুসরণ করার কথা চিন্তাও করা উচিত নয়।

আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, বিএনপিকে কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। কারণ বাংলাদেশের জনগণ কখনোই তা মেনে নেবে না। আওয়ামী লীগ বিএনপিকে নানাভাবে ভাঙার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে, ভবিষ্যতেও পারবে না”।

কিন্তু বিএনপি নেতারা এটি বুঝতে অক্ষম হয়েছেন যে, আওয়ামীলীগ এ দেশটি সৃষ্টির জন্য, মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বকারি দল। যার রয়েছে অন্তত: সাড়ে ৭ দশকেরও বেশি নানা চড়াই-উৎরাই নিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে সাথে নিয়ে রাজনীতি করার অভিজ্ঞতা। হকে পারে আওয়ামীলীগ এখন নিষিদ্ধ দল । কিন্তু তাই বলে কি দলটি মুছে গেছে মানুষের হৃদয় থেকে?

বরং এরই মধ্যে বাংলার মানুষ বলতে শুরু করেছে আগেই ভালো ছিলাম, মানে আওয়ামীলীগ আমলেই ভালো ছিলাম। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের বিভিন্ন শক্তিশালী-প্রভাবশালী-জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যমগুলোতে একের পর এক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকারসহ নানা বিশ্লেষণধর্মী নিউজ প্রচার হচ্ছে ।

এসবের নানা প্রভাব পড়েছে ইউনুস সরকার ও তার সাঙ্গাৎদের ওপর।

এর পরও জঙ্গী ইউনুস সরকারকে সবচেয়ে বেশি ব্যাকআপ দিচ্ছে জামায়াতে ইসলামী নামের ওই জঙ্গী দলটি। আসলে বাংলাদেশে যত ইসলামী জঙ্গী সংগঠন রয়েছে তার সবগুলোর শিরোমণি হচ্ছে এই জামায়াত। অন্যরা অঘোষিতভাবে জামায়াতের শাখা প্রশাখা মাত্র। মূলে রয়েছে জামায়াত। বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদপত্র ও নানা সংবাদমাধ্যমগুলো একটু খুঁজলেই এসবের ভুড়ি ভুড়ি প্রমাণ পাওয়া যাবে।

এরই মধ্যে চিহ্নিত “ভারত বিরোধী” ও “জঙ্গি ” অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে যুদ্ধাপরাধী জামায়তে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের “আগামীতে কেমন বাংলাদেশ বিনির্মাণ” শীর্ষক মতবিনিময় সভা ( ১০০/১২০) অনুষ্ঠিত হয়েছে গত ৪ ডিসেম্বর ঢাকার শেরেবাংলা নগরের চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ্যাড. এহসানুল মাহবুব যোবায়ের, জামায়াত ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন, শীর্ষ রাজাকার গোলাম আজম পুত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমান আজমি (অব:) এই সভার গুরুত্বপূর্ণ আয়োজক।

অবসরপ্রাপ্ত সেনা অফিসারদের সংগঠন রাওয়া ক্লাবের চেয়ারম্যান কর্নেল আব্দুল হকের (অব:) নেতৃত্বে কর্নেল জাকারিয়া (অব:), ঢাকা -১৬ আসনে জামায়াতের মনোনীত সাংসদ প্রার্থী কর্নেল আব্দুল বাতেন (অব:), পার্বত্য চট্টগ্রামের কসাই ও বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের( অপারেশন ক্লিন হার্ট) জন্য কুখ্যাত লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিনুর রহমান (বরখাস্ত) এই সভায় মুখ্য ভূমিকা রাখেন।

কয়েক দিন ধরেই এই “ভারত বিরোধী” যুদ্ধ প্রোপাগান্ডার আয়োজন চলছিলো। “ভারতকে খন্ড খন্ড” করার এই জামায়াতী এজেন্ডা বাস্তবায়নে লে: কর্নেল ফেরদৌস আজিজ (অব:), মেজর শাহীন (অব:) লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মেহেদী (বরখাস্ত), মেজর ইমরান হোসেন (অব:) মেজর জাবের আহমেদ (অব:) প্রমুখ যোগ দিয়েছেন। সামরিক বাহিনীর নাকের ডগায় বসে যুদ্ধাপরাধী জামায়তে ইসলামী বাংলাদেশের “স্বাধীনতা বিরোধী” কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআাই এর পরিচালনায় জামায়াতে ইসলামী ও অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তারা রাষ্ট্রবিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্য বা সেভেন সিস্টার্সকে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করার হুঙ্কার দিয়েছেন তারা। এ হুংকার কিন্তু একেবারেই প্রকাশ্যে, কোন অপ্রকাশ্য গোপন হুংকার নয় কিন্তু।

একাত্তরের কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী, খুনী, ধর্ষক, নারী-শিশু নির্যাতনকারি, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঘরবাড়ি লুটপাটকারি, এদেশের শ্রেষ্ট সন্তান বুদ্ধিজীবীদের নৃশংস হত্যাকারি তথা গণহত্যাকারিদের দল জামায়াতে ইসলামী সেই একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিচ্ছে নানাভাবে। আর তার মূল টার্গেট হচ্ছে একাত্তরের মতই মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তবুদ্ধি, বাঙ্গালীর আবহমান সংস্কৃতিকে ধারণকারি রাজনৈতিক দল ও সংগঠন।

সেক্ষেত্রে আওয়ামীলীগ আমলে যেহেতু তারা নানাভাবে কিছুটা কোণঠাসা ছিল, বেশ কয়েকজন কুখ্যাত নরহত্যাকারিদের ফাঁসিসহ নানা মেয়াদে ফাঁসি দেয়া হয়েছিল, ইসলামী জঙ্গীদের শায়েস্তা করা হয়েছিল নানা সংগঠনের চাপে তাই স্বাভাবিকভাবেই আওয়ামীলীগের ওপর তাদের ক্ষোভ চরমে।

গত চব্বিশের আগষ্টে আওয়ামীলীগ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত ও দেশত্যাগে বাধ্য করার পর থেকে তাদের আস্ফালন শতগুণে বেড়ে গেছে। তাদের নেতাকর্মীরা কথায় কথায় প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে।

ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, জাহাঙ্গীরনগরসহ বেশ কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী সংসদ নির্বাচনে তারা অত্যন্ত কূটকৌশলে কথিত ভোটের মাধ্যমে দখল নিয়ে নিয়েছে। এখন তারা কোনভাবেই আর বিএনপিকে পাত্তা দিচ্ছেনা।

কারণ এখনকার অবৈধ ইন্টারিম সরকারকে সাংবিধানিকভাবে অবৈধ ঘোষণার জন্য যথেষ্ট পরিমাণ যুক্তি রয়েছে। তারা সে ভয়ও দেখাচ্ছে কিন্তু ইউনুস সরকারকে। ফলে আল্লাহর অস্তিত্বে অবিশ্বাসী হয়েও ড. মুহাম্মদ ইউনুসও তাদের কাছে অনেকটা ক্রীড়াণকে পরিণত হয়ে গেছে।

যে ইউনুস মনে করেছিল তিনি সব সামাল দিতে পারবেন সেখানেই নানা গন্ডগোল বাধিয়ে দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। কারণ সামরিক-বেসামরিক প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় তাদের লোক বসিয়ে রেখেছে জামায়াত। ফলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পরবর্তী রাজনৈতিক দল এনসিপি, বিএনপি এমনকি ইন্টেরিম সরকারও অনেকটা তাদের নিয়ন্ত্রণে।

আর এর পেছনে রয়েছে একাত্তর সালের মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত মিত্র বাহিনীর হাতে চরমভাবে পরাজিত পাকিস্তান। পাকিস্তানী সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এবং তুরষ্কের চরম সাম্প্রদায়িক-অস্ত্রব্যবসায়ী এরদোগান সরকারসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি ইসলামী দেশ ও কিছু আন্তর্জাতিক জঙ্গী গোষ্ঠীর ভয়ঙ্কর রকমের ইন্ধন।

ফলে বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী যখন তুরস্কে সমরাস্ত্র কারখানা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন তখন সেই টীমে জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের কয়েকজন প্রথম সারির নেতাও ছিলেন।

জামায়াতের আস্ফালনের আরও নমুনা দেখা গেলো গত ৫ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ৮ টি চরমপন্থী ইসলামী সাম্প্রদায়িক দলের সমাবেশে।

গত চব্বিশের জুলাই-আগষ্টে সংঘটিত জঙ্গী-সামরিক হত্যা ও ক্যু’ এর সময় বাংলাদেশের কথিত প্রগতিশীল কিছু বাম দল সেই কথিত গনআন্দোলনের সাথে নিজেদের সবকিছু জলাঞ্জলি দিয়ে জামায়াতের ফাঁদে পা দিয়ে আন্দোলনের নামে নৈরাজ্যে নেমেছিল।

কিন্তু জামায়াত এই কথিত প্রগতিশীল বাম দলগেুলোকেও তাদের শত্রু মনে করে। অথচ এই বাম দলগুলোর অনেকেই মহান মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামীলীগের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছিল। শুধুমাত্র আওয়ামী বিরোধীতা ও শেখ হাসিনা বিরোধীতার কারনে তারা ওই কথিত গণআন্দোলনে যোগ দিয়েছিল।

আর এখন সেই জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা, শফিকুর রহমান গত শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর লালদিঘী মাঠে ৮ দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, কালো-লাল কোন ফ্যাসিবাদকেই বরদাস্ত করা হবেনা।

বিএনপি’র নাম উচ্চারণ না করেই বলেন, ৫ আগস্ট বিপ্লবের পরদিন থেকে একটি গোষ্ঠী প্রভাব বিস্তারের জন্য জনগণের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘চাঁদাবাজি, দুর্নীতি অব্যাহত আছে। ক্ষমতায় না গিয়েও অনেকে ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছে। প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করছে।’

জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ৮ কথিত ইসলামী দলের সমাবেশে আন্দোলনরত ৮ দলের ৫ দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের লড়াই অব্যাহত থাকবে ঘোষণা দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘ইসলামী দলগুলোর মধ্যে যে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এই ঐক্য আমাদেরকে জাতীয় সংসদ পর্যন্ত নিয়ে যাবে। প্রয়োজনে ফের ৫ আগস্ট সংঘটিত হবে।’

চট্টগ্রাম থেকে বিজয়ের পতাকা ওড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সেই আকাঙ্ক্ষার বিজয় হবে কোরআনের মাধ্যমে। চট্টগ্রাম থেকে ইসলামের বিজয়ের বাঁশি বাজানো হবে। আগামীর বাংলাদেশ হবে কোরআনের বাংলাদেশ।’

সবকিছু মিলিয়ে বোঝাই যাচ্ছে বাংলাদেশকে একটি ইসলামী সাম্প্রদায়িক দেশ গড়ার জন্য জামায়াতে ইসলামী ও তার সহযোগীরা অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

একাত্তরের ৩০ লাখ শহীদের রক্তে অর্জিত স্বাধীনতা-মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধান ছুড়ে ফেলে তারা যে মধ্যযুগীয় কায়দায় একটি অন্ধকারাচ্ছন্ন সমাজ ও দেশ গড়তে চায় সে আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখেনা।

# রাকীব হুসেইন: লেখক, প্রাবন্ধিক।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *