ঢাকা: নারী স্বাধীনভাবে চলাফেরা করুক, কাজ করুক এইসব সহ্য করতে পারে না জামায়াতে ইসলামী। নারীকে বস্তাবন্দি করে রাখার পরিকল্পনা করছে এরা।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এর আগে বলেছেন, ক্ষমতায় গেলে নারীদের কর্মঘণ্টা ৮ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে ৫ ঘণ্টা করা হবে।
তবে তাদের ভাঁওতাবাজি কারো অজানা নয়। তাঁর এই ঘোষণায় খুশি নন নারীরা। তারা বলছেন, যদি নারীদের কর্মঘণ্টা পুরুষদের তুলনায় কম (যেমন ৫ ঘণ্টা বনাম ৮ ঘণ্টা) নির্ধারণ করা হয়, তাহলে তাদের পেশাগত জীবন ঝুঁকিতে পড়ে যাবে।
নারীদের বড় কোনও পদের উপযোগী হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হতে হবে এবং একসময় হতাশা থেকে চাকরি ছেড়ে দিতে হতে পারে।
নারী নেত্রীরা বলছেন, নারীকে ধীরে ধীরে প্রতিযোগিতার মাঠ থেকে সরিয়ে দিতেই এরকম পরিকল্পনা করা সম্ভব। এসব না করে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রতিষ্ঠানকে যেভাবে তৈরি করার কথা, সেটা নিশ্চিত করার ঘোষণা দিক তারা।
এবার এই নিয়ে মন্তব্য করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।
ক্ষমতায় গেলে নারীদের কর্মঘণ্টা কমিয়ে ৫ ঘণ্টা করার দাবি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক স্লোগান বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক বছরের অর্জন ও সাফল্য নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এই কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি এটিকে রাজনৈতিক স্লোগান হিসেবে দেখছি। আগামীতে ক্ষমতায় গেলে একটা অনেক বড় ফ্যাক্টর আছে না? ক্ষমতায় যাবো, ভবিষ্যতে আপনারা ভোট দেবেন। নারী শ্রমিকরা যদি তাদের এ কথায় ভোট দেন, তাহলে তো আমার বলার কিছু নেই।’
তিনি বলেন, ‘ভোট দেওয়ার পর যারা ক্ষমতায় বসবেন…এসব চেয়ারে বসবেন তারা তো তখন মাঠের লোক হবেন না। তখন তাদের ফেস করতে হবে।’
‘নির্বাচনের আগে কত রকমের স্লোগান আসে- আমি ক্ষমতায় গেলে বুড়িগঙ্গা হয়ে যাবে দুধের নদী। ওপর থেকে খালি মান্না ও সালওয়া পড়তে থাকবে। আপনাদের কোনো কাজ করা লাগবে না, ঘরে বসে থাকবেন। আমরা খাওয়াইতে থাকবো’ বলেন উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন।
উপদেষ্টা বলেন, ‘এটাকে (জামায়াত আমিরের বক্তব্য) আপনারা (সাংবাদিক) ছাড়া কেউ সিরিয়াসলি নিয়েছে বলে তো আমার মনে হয় না। আমার কাছে এমনই মনে হয়। বের হলে হত তারা আমাকে দুটা গালি দেবে’।
