ঢাকা: ধর্ষণের সংস্কৃতিতে তো আর বেগম রোকেয়া সৃষ্টি হয় না। আর বেগম রোকেয়া সৃষ্টি হলেও তাঁরা দেশে থাকতে পারেন না, কারণ তাঁদের দেশে থাকতে দেয়া হয় না।

নারী স্বাধীনতা এই দেশে এখন অতীত। এখন জামায়াতের গল্প খেতে হয় সমাজকে, নারীদের।

নারীদের দাবি না থাকলেও ৮ ঘন্টার কাজের সময় ৫ ঘন্টা করার গল্প গিলতে হয়। এইভাবে কর্মমুখী নারীদের ঘরবন্দী করার পাঁয়তারা যে সমাজে, দেশে চলে সেখানে বেগম রোকেয়া সৃষ্টি হয় না।

সেটা বোধহয় আমাদের প্রধান উপদেষ্টা জানেন না! তাই অজানার মতো কথা বলে গেলেন।

নারী জাগরণ ও নারী অধিকার আন্দোলনের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার প্রয়াণের প্রায় শত বছর হতে চললেও তাঁর মতো আরেকজন রোকেয়া তৈরি না হওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

তিনি বলেছেন, আমরা ১০০ বছর পরেও আরেকজন রোকেয়া সৃষ্টি করতে পারি নাই। এটা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্য।

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে রোকেয়া পদক প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বেগম রোকেয়া যেসব দিকনির্দেশনা দিয়ে গেছেন, যেসব স্বপ্ন দেখিয়ে গেছেন, সেই স্বপ্নকে আমরা আমলে আনতে পারি নাই। কথা বলেছি, অগ্রসর হতে পারি নাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজকের বেগম রোকেয়ার জন্ম উপলক্ষে যে আয়োজন, সেটা শুধু তাকে স্মরণ করার জন্য না; আমাদের ব্যর্থতাগুলো খুঁজে বার করার জন্য। কেন আমরা ব্যর্থ হলাম? কেন এই ১০০ বছরেও আরও বেগম রোকেয়া আসল না আমাদের মাঝখানে?

যে আমাদের পথ দেখাত, এগিয়ে নিয়ে যেত, ধাক্কা দিত, মনে করিয়ে দিত কোন পথে আমাদের যাওয়া দরকার। ১০০ বছর পরে কী হলো? কত অগ্রসর হলাম?’

বলেন, ‘তিনি যে কল্পনা করেছিলেন, তার ইমাজিনেশনে তিনি যে সমাজ চিন্তা করেছিলেন; আজকে যারা পুরস্কার পেল, তারা সেই সমাজ নির্মাণের পাথেয় আমাদের দিচ্ছে।’

ইউনূস বলেন, ‘আমরা সারা জাতি তাদের উদাহরণ থেকে তাদের পথচলা থেকে শিক্ষা পাই এবং যে আদর্শে বেগম রোকেয়া আমাদের নিয়ে যেতে চাচ্ছিলেন, অতি চমৎকারভাবে তুলে ধরেছিলেন তার বক্তব্যে, তার লেখায়; আজকে যে চারজন পুরস্কার পেলেন, তারা রোকেয়ার সেই পথে আমাদের জাতিকে তুলে ধরলেন, এগিয়ে দিলেন। আমরা ভাগ্যবান, আমরা ভাগ্যবতী।’

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *