ঢাকা: নির্বাচনের নামে ঘোষিত তফসিলকে ‘প্রহসন’ ও ‘অবৈধ’ আখ্যায়িত করে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক শীর্ষ নেতারা।
এক বিবৃতিতে তাঁরা এই তফসিলকে অগণতান্ত্রিক এবং জনগণের মৌলিক অধিকার হরণের ‘প্রকাশ্য ষড়যন্ত্র’ বলে উল্লেখ করেছেন।
বিবৃতিতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ দৃঢ়ভাবে জানাচ্ছে যে, ইউনূস গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রিত অবৈধ নির্বাচন কমিশন যে তফসিল ঘোষণা করেছে ; তা দেশের সংবিধান, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার প্রতি সুস্পষ্ট অবমাননা।
বাংলাদেশের জনগণের বৃহত্তর অংশের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলকে জোরপূর্বক বেআইনিভাবে নির্বাচনের বাইরে রেখে, ভোটের আগেই জনগণের ভোট ও পছন্দের অধিকার কেড়ে নিয়ে, মানুষের মৌলিক অধিকার পদদলিত করে, শিক্ষাঙ্গন থেকে রাজপথ—কোথাওই জনগণের মতামত, অংশগ্রহণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে জোরজবরদস্তিমূলক তফসিল চাপিয়ে দেওয়া এক গভীর রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র এবং অনির্বাচিত শক্তির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের চক্রান্ত ছাড়া আর কিছুই নয়।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, মহান মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকারে বিশ্বাসী, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা বিনির্মাণে দায়বদ্ধ প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ মনে করে, যেখানে জনগণ ও রাজনৈতিক দলসমূহকে নিষিদ্ধ, হয়রানিমূলক মামলা ও গ্রেপ্তার দিয়ে কোণঠাসা করা হয়, যেখানে রাজনীতি ও ভোটাধিকারের ওপর বর্ণচোরা দখলদার চক্রের নিষেধাজ্ঞা জারি থাকে—সেখানে সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কখনোই সম্ভব নয়”।
“বাংলাদেশ ছাত্রলীগ স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে:
১) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের উপর বেআইনিভাবে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। সকল রাজনৈতিক দলের উপর প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ, লিখিত-অলিখিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।
২) বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা ও জাতীয় নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে;
৩) ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত গায়েবি মামলার অবসান ঘটাতে হবে, ছাত্রদের উপর আরোপিত সকল বেআইনি-নিপীড়নমূ্লক শাস্তি বাতিল করতে হবে।
৪) সকল রাজবন্দির নিঃশর্ত মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে; এবং
৫) একটি নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য অবৈধ ইউনূস সরকারকে অপসারণ করে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনকালীন সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে”।
