ঢাকা: এই বাংলা রক্তে কেনা বাংলা। এখানে আলবদর, রাজাকারের জায়গা নেই। এই দেশের মানুষ যুদ্ধ করে দেশটাকে জয় করেছে।
১৪ ডিসেম্বর ছিলো শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে রাজাকার ঘৃণাস্তম্ভে জুতা নিক্ষেপ কর্মসূচি আয়োজন করেন একদল শিক্ষার্থী। এ সময় রাজাকারকে জুতা মারার কার্যে জনতাও অংশ নেয়।
রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ক্যাফেটেরিয়ার সামনে অবস্থিত ঘৃণাস্তম্ভে এই কর্মসূচি শুরু হয়।
সবচেয়ে মজার হলো রাজাকার ঘৃণাস্তম্ভে জুতা নিক্ষেপ তথা লক্ষ্যভেদ করলে তাদের পুরস্কারও দেয়া হয়।
বাঙালি জাতির সূর্য সন্তানদের হত্যাকারী ঘাতক দালালচক্রের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করার মতো উপযুক্ত ভাষা নেই।
এদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী মানুষ আজীবন ‘রাজাকার’ ‘আল-বদর’ ‘আল-শামস’ শব্দগুলো ঘৃণার সাথে উচ্চারণ করে যাবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘রাজাকার ঘৃণা স্তম্ভ’—এটা শুধু একটি স্তম্ভ নয়, এটা ইতিহাসের উচ্চারণ।
আসলে এটা কোনো প্রতিশোধের প্রতীক নয়, এটা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার স্তম্ভ—
যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ভুলে না যায়
কারা দেশটা বিক্রি করেছিল
কারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল
আর কারা জীবন দিয়ে স্বাধীনতা এনেছিল।
ঘটনাস্থলে দেখা যায়, ঘৃণাস্তম্ভের পেছনের দেয়ালে বেশ কিছু ছবি লাগানো হয়েছে। এতে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মুজাহিদের ছবি, চৌধুরী মঈনুদ্দীন, অপারেশন সার্চলাইটের পরিকল্পনাকারী খাদিম হোসেন রাজা, পাকিস্তানী বাহিনীর সঙ্গে গোলাম আজমের বৈঠকের ছবি এবং মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে আটক রাজাকার বাহিনীর ছবি রয়েছে।
কর্মসূচির আয়োজক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আরাফাত চৌধুরী বলেন, ‘১৯৭১ সালে যারা এ দেশের বুদ্ধিজীবীদের নির্মমভাবে হত্যা করেছে, তাদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করতে আমরা আজ এ আয়োজন করেছি। পাকিস্তানি বাহিনী যে বর্বরতা করেছে, আমরা তা জাতির কাছে তুলে ধরতেই এ আয়োজন করি; যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ভুলে না যায় পাকিস্তানিদের সেই কালো ইতিহাস।’
এর আগে ফেসবুক ভিত্তিক গ্রুপ ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ’-এ তিনি লেখেন, ‘আলবদর, আলশামস, রাজাকার ও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসরদের বিরুদ্ধে ঘৃণা প্রদর্শন ও জুতা নিক্ষেপের জন্য প্রস্তুত ‘ঘৃণা স্তম্ভ’।
সবাই দুপুর ১২টায় ডাকসু ক্যাফেটারিয়ার বিপরীত পাশে ঘৃণাস্তম্ভে জুতা নিক্ষেপের জন্য চলে আসুন। জুতা নিক্ষেপ করলেই রয়েছে বিশেষ ‘গিফট হ্যাম্পার’।’
জুতা নিক্ষেপের পাশেই স্থাপন করা হয়েছে ‘নিঃশব্দ ঘৃণা’ নামে একটি বোর্ড, যেখানে অনেকে ঘৃণাসূচক বিভিন্ন বাক্য লিখেছেন।
সেখানে শিক্ষার্থীরা লিখেছেন, ‘একাত্তরের রাজাকার, এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়’, ‘গণহত্যার সমর্থকরা কীভাবে রাজনীতি করে’, ‘রাজাকারের বাচ্চারা এ যুগের কুলাঙ্গার’, ‘রাজাকার ইতিহাসের সর্বোচ্চ নিকৃষ্ট ইতর প্রাণী’।
