চট্টগ্রাম: শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সভায় চবি সহ – উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেছেন “পাকিস্তানি বাহিনী বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করবে, এটা অবান্তর ।”

মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন তিনি ।

তবে এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছুই নেই। ঘরে ঘরে এখন এই সব জামাতি প্রডাক্ট, যারা অনবরত মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অপমানজনক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কটাক্ষ করে তাদের বক্তব্য দিয়েই যাচ্ছে।

তাদের আটকাবে না, শাস্তি দেবে না এই সরকার।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের প্রো-ভিসি (একাডেমিক) পদে বসে ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানের বক্তব্য শুধু হতাশাজনক নয়—এটি মুক্তিযুদ্ধ, শহীদ এবং জাতির ইতিহাসের প্রতি সরাসরি অবমাননা।

তিনিও তো বুদ্ধিজীবী, তা এমন রাজাকার কথাবার্তা কেন তাঁর অন্তরে?

১৪ ডিসেম্বরের বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড নিয়ে “পাকিস্তানি বাহিনী বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করবে, এটা অবান্তর” বলা মানে ইতিহাসকে অস্বীকার করা। অস্বীকার করা মুক্তিযুদ্ধকে।

এই হত্যাকাণ্ডের সাক্ষ্য আছে, নথি আছে, গণকবর আছে, খুনি বাহিনীর পরিচয় আছে।

কিন্তু যাই থাকুক, রাজাকার, জামাতিরা এইসব অস্বীকার করবেই। এরা আবার উচ্চপদে বসে আছে দায়িত্বজ্ঞানহীন বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য।

এই ঘটনায় প্রতিবাদ সাব্যস্ত হয়।

অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানের বক্তব্যের প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলসহ কয়েকটি বামপন্থী ছাত্রসংগঠনের নেতা–কর্মীরা।

রোববার তাঁরা সহ-উপাচার্যের বক্তব্য প্রত্যাহার, নিঃশর্ত ক্ষমা ও পদত্যাগের দাবি জানান।

রাত সাড়ে নয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে কাটা পাহাড় সড়ক ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

মিছিল চলাকালে মুক্তিযুদ্ধ ও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।

চাকসু ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আয়ুবুর রহমান বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগ করেছেন।

যে আসনে সহ-উপাচার্য বসে আছেন, সেটিও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত। তার মতে, পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারাই বুদ্ধিজীবী হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন; সেক্ষেত্রে এই হত্যাকাণ্ডকে অবান্তর বলা ইতিহাস অস্বীকারের শামিল। তিনি সহ-উপাচার্যের বক্তব্য প্রত্যাহার ও পদত্যাগের দাবি জানান।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন বলেন, ১৯৭১ সালের বিজয়ের প্রাক্কালে পরিকল্পিতভাবে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়েছিল। সেই ইতিহাসকে প্রশ্নবিদ্ধ করার কোনো সুযোগ নেই। এ বক্তব্যের দায় নিয়ে সহ-উপাচার্যের পদত্যাগ জরুরি।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *