ঢাকা: জামায়াতে ইসলামীর নৈতিক কথাবার্তা দেশবাসী আর নেয় না। অথচ তারা ফাঁক দিয়ে গা গলিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেই যাচ্ছে।
বিশ্ব ইতিহাসে নৃশংসতার সাক্ষর হিসেবে একাত্তরের হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ এবং অগ্নিসংযোগের বিষয়টি স্বীকৃত।
একাত্তরের ক্ষতিগ্রস্তদের হাজার হাজার মানুষ এখনো জীবিত। পুঁথিপুস্তক দলিল-দস্তাবেজে সেই নৃশংসতার কথা প্রমাণ হিসেবে স্পষ্ট হয়ে আছে।
এবং এই নৃশংসতার অন্যতম কারিগর জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ, পিডিপি ও নেজামে ইসলামী।
লাখ লাখ মানুষ তাদের হাতে নির্যাতিত হয়েছে, প্রাণ হারিয়েছে। এর মধ্যে কোনো ‘যদি’ ‘কিন্তু’ নেই।
অথচ এরা আজ বলে ভিন্ন কথা। শুধু আজ নয়, এই বিশ্বাসঘাতকের দল বরাবর এই চরিত্রের।
মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে মূলত কথা বলার কোনো অধিকারই জামায়াতে ইসলামীর নেই।
ত্রিশ লাখ মানুষের প্রাণহানি, হাজার হাজার বাড়িঘর, দোকানপাট ছাই হয়ে যাওয়া কিংবা ২ লাখ মা-বোনের ইজ্জতহানি এমনি এমনি হয়ে গিয়েছিল? জামায়াত আজ সাধু সাজে নির্বাচনের আগে।
আর একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর অক্সিলারি ফোর্স হিসেবে আত্মসমর্পণকারী রাজাকার বাহিনী ও আলবদর বাহিনী কাদের দ্বারা কাদের নিয়ে গঠিত হয়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল।
পেয়ারে পাকিস্তান নিয়ে এরা আজ বলছে। অথচ পাকিস্তান এদের পেয়ারে।
পাকিস্তানিদের ‘একগুঁয়েমির’ কারণেই একাত্তরে যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠেছিল বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
তিনি বলেছেন, “পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী আমাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করেছিল। তাই দেশের মানুষ তাদের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছিল। ’৬৯ এর গণআন্দোলনের হাত ধরে ’৭০ এর সাধারণ নির্বাচন হয়েছিল।
“এই নির্বাচনের পর পাকিস্তানি শাসনগোষ্ঠীর একগুঁয়েমির কারণে নির্বাচিত দল ও জনপ্রতিনিধিরা জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে যারা নির্বাচিত হয়েছিলেন, তারা তাদের রাজনৈতিক অধিকার পাননি। সেদিন জনগণের ভোটের প্রতি সন্মান দেখাতে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই একটি যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠেছিল।”
মঙ্গলবার সকালে বিজয় দিবস উপলক্ষে যুব ম্যারাথন অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর আমির এই মন্তব্য করেন।
শফিকুর রহমান বলেন, “এদেশের ছাত্র-শ্রমিক, কৃষক-জনতা এক কাতারে শামিল হয়ে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। বুক ভরা আশা ও চোখ ভরা স্বপ্ন নিয়ে এই প্রিয় দেশটি সব ধরনের বৈষম্য হাত থেকে মুক্তি পাবে, সমাজে ন্যায় বিচার নিশ্চিত হবে, দেশ মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত হবে, জাতি হিসেবে গর্ব করে বুক ফুলিয়ে আমরা চলাফেরা করতে পারব; যারা সেদিন নির্বাচিত হয়েছিলেন তারা এমনটাই জাতিকে আশ্বস্ত করেছিলেন।
“কিন্তু স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশ যেদেশটির বিপুল সংখ্যক মূল্যবান জীবন, সম্পদ আর ইজ্জদের ত্যাগ কোরবানির বিনিময়েও অর্জিত হয়েছিল। শাসকগোষ্ঠী জনগণের সাথে কথা রাখেনি।
“সেদিন যারা লড়াই করেছিলেন, জীবন দিয়েছিলেন, আহত-পঙ্গু হয়েছিলেন তাদের সকলের প্রতি আমরা শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।”
