শরীয়তপুর: বিজয়ের শুভেচ্ছা নিও বাংলাদেশ! আহারে দেশ!
শরীয়তপুরের নিয়ামতপুর গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান খানের কবরে আগুন দিয়েছে জামায়াত-শিবির।
১৯৭১ সালে আব্দুল মান্নান খান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। ২০১০ সালের ৮ জানুয়ারি তিনি মারা যান। গতকাল রাতের আঁধারে তারা ওই কবরের উপরে কাঠ রেখে আগুন ধরিয়ে দেন।
অথচ আজ সকালবেলা মানুষের কাছে নিজেদের ভুল স্বীকার করে মাফ চেয়েছে জামায়াতের আমির। পক্ষান্তরে নিজের দলের নেতাকর্মীদের ঠিকই লাগিয়ে রেখেছেন মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান-অপদস্ত করতে।
এই যদি হয় অবস্থা—মুক্তিযোদ্ধার কবরও যদি নিরাপদ না থাকে—তাহলে দেশ এখন কার হাতে?
যে রাষ্ট্র মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জন্ম নিয়েছে, সেখানে মুক্তিযোদ্ধার সমাধিতে আগুন দেওয়ার মতো ঘৃণ্য ঘটনা ঘটানোর লাইসেন্স এরা পেয়েছে কোথায়?
এটি কেবল অপরাধই নয়, এটি জাতির অস্তিত্বের ওপর সরাসরি আঘাত।
বিজয় দিবসের ঠিক পূর্বমুহূর্তে একাত্তরে দেশের শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিজীবীদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিল।
আর বিজয় দিবসের প্রাক্কালে, মুক্তিযোদ্ধার কবরে আগুন—দুটি ঘটনার সময় আলাদা হলেও দায়ীদের রাজনৈতিক জার্সি এক এবং অভিন্ন।
আজ সকালে স্বামীর কবরে যান স্ত্রী মাহফুজা বেগম। কবরের ওপর পোড়া ছাই ও আগুনের চিহ্ন দেখে তিনি চিৎকার দেন। পরিবারের সদস্যরা ছুটে আসেন। তখনও পোড়া ছাই থেকে হালকা ধোঁয়া উড়ছিল।
এই ঘটনায় কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান খানের স্ত্রী মাহফুজা বেগম।
চোখের পানি মুছতে মুছতে মাহফুজা বেগম বলেন, “আমার স্বামী দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন। তার কবরের সঙ্গে এমন অবমাননা কেউ কীভাবে করতে পারে? বিজয়ের মাসে এমন ঘটনায় আমরা পুরো পরিবার ভেঙে পড়েছি। এ ঘটনার বিচার চাই।”
বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান খানের মেয়ে আফরোজা আক্তার বলেন, “মায়ের চিৎকার শুনে দৌঁড়ে গিয়ে দেখি, বাবার কবরের একাংশ আগুনে পুড়ে গেছে। এটা কারা, কী উদ্দেশ্যে করেছে বুঝতে পারছি না। আমরা পরিবার হিসেবে ভীষণভাবে মর্মাহত ও আতঙ্কিত।”
