বাংলাদেশে ইসলামী জঙ্গী ও জঙ্গীদের অকৃত্রিম বন্ধু ও পেট্রানাইজার নোবেল কিনে নেয়া সুদখোর ইউনুসের কাছে ক্ষমতা এমনই এক মোহ যে এ জন্য যাকে খুশী তাকেই কোরবানী দেয়া তার কাছে কোন বিষয়ই নয়। সেই আবু সাঈদকে দিয়ে শুরু হলো।তারপর থেকে মুগ্ধসহ আরো অনেকে।

সবাইকে ইউনুসগং কথিত জুলাই যোদ্ধা বানিয়ে মাঠ গরম করেছে।মুক্তিযুদ্ধে অকৃত্রিম বন্ধুরাষ্ট্র ভারত বিরোধী জিকির তুলেছিল ২০২৪ সালে। আবার যখন দেখছে সঠিকভাবে নির্বাচন দিলে মেটিকুলাস ডিজাইনার ইউনুস ও তার ইসলামী জঙ্গী গোষ্ঠীর ক্ষমতা থাকবেনা তখন এই ২০২৫ এর ডিসেম্বরে এসে তাদের আরেক কথিত ইসলামী জুলাই যোদ্ধা হাদিকেও কোরবানী দিতে কসুর করলো না।

রংপুরের আবু সাইদ, ঢাকার মুগ্ধ ও ঝালকাঠির হাদি সবই একসূত্রে গাঁথা। এরা সবাই ইউনুসের মেটিকুলাস ডিজাইনের অংশ ও সংখ্যা মাত্র।

এই হলো ইউনুসের মানবিক- গণতান্ত্রিক-সংস্কারের উদাহরণ। গত ১২ ডিসেম্বর শুক্রবার সন্ত্রাসীদের ( মেটিকুলাস ডিজাইনের অংশ) গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন হাদি’র ব্যাপারে ১৭ ডিসেম্বর গভীর রাতে প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেইসবুক থেকে জানানো হলো “ শরিফ ওসমান হাদির অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। প্রধান উপদেষ্টা দেশবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে হাদির জন্য দোয়া ও প্রার্থনা করার অনুরোধ করেছেন ।”

তার মানে ধরেই নেয়া যে, হাদির আর সুস্থ হয়ে ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক হাদিকে কোরবানী দিয়ে ড.ইউনুস ও তার জামায়াতী-জঙ্গী যোদ্ধারা আবারো দেশে বড় ধরনের অরাজকতা তৈরী করার সবধরনের ষড়যন্ত্রের প্লট তৈরী করে রেখেছেন।

হাদিকে তৈরী করা হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ-বঙ্গবন্ধু-আওয়ামী ও ভারত বিরোধী প্ল্যাটফর্ম চাঙ্গা রাখার জন্য। আবার তাকে অত্যন্ত কৌশলে মারাও হলো এই ইস্যুকে আরো উস্কে দেয়ার জন্য। অবশ্য সেটিতে তারা বেশ সফল হয়েছেন।

কিন্তু এই ইউনুস গং মনে করেছেন, দেশের মানুষকে এ দিয়ে বোকা বানানো যাবে। কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই একটু সচেতন নাগরিকরা ইউনুসগংয়ের এই ষড়যন্ত্র ঠিকই ধরে ফেলেছে।

ইউনুসগং এই হাদি ইস্যু’কে ঘিরে দেশে আরো অধিক মাত্রায় অরাজকতা- সন্ত্রাস-খুনোখুনি করে একটি গৃহযুদ্ধ বাঁধাতে চান। পাশাপাশি ভারতের বিরুদ্ধে যত বেশি গালিগালাজ ও তাদেরকে উস্কে তোলা যায় সে ষড়যন্ত্র চলছে গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে।

হাদিকে গুলি করার পর থেকেই বিএনপি, আওয়ামীলীগ, শেখ হাসিনা ও ভারতের বিরুদ্ধে যতসব প্রোপাগান্ডা আছে সবই করা হচ্ছে।

গতবছর ৮ আগষ্ট উড়ে এসে জুড়ে বসা ড. ইউনুস প্রথম থেকেই প্রচন্ড ভারত বিরোধী উষ্কানিমূলক কথাবার্তা বলে একধরনের সস্তা জনপ্রিয়তা পেতে চেয়েছেন। হ্যাঁ তার এমন চটুল উস্কানিমূলক কথায় পাকপন্থী ইসলামী জঙ্গীরা খুশী হয়েছেন বটে।

কয়েকমাস আগে চীন সফরে গিয়ে সেভেন সিস্টার্সকে নিয়ে “ল্যান্ডলক” এলাকা হিসেবে বলে মন্তব্য করে বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। মনে হচ্ছে চীন সেভেন সিস্টার্স বা ভারত সম্পর্কে জানেনা বা বাংলাদেশের বন্দর ব্যবহার নিয়ে চীনের কোন ধারণা নেই।

কিন্তু এসব বলে ভারত বিরোধিতার জিকির তুলে দেশে সস্তা জনপ্রিয়তা ও তার পাকি ভাইদের কাছে নিজের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন আপ্রাণ। আহা বেচারার জন্য করুণাই হয় মাত্র।

কারণ তিনি যদি সত্যিই রাজনৈতিক দল গঠন করতেন তাহলে কতবড় রাজনীতিবিদই না হতে পারতেন।

একটু খেয়াল করলে দেখবেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে কথিত ইসলামপন্থী দলগুলোর সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো ভারত বিরোধিতা। এক্ষেত্রে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী ঐক্যজোট, হেফাজতে ইসলাম, নবগঠিত কিংস পার্টি এনসিপিসহ অধিকাংশ এমনকি বাম প্রগতিশীল দাবিদার কমিউনিষ্ট পার্টিসহ বাম দলগুলোও আওয়ামী বিরোধী ও ভারত বিরোধীতাকেই তাদের রাজনীতির অন্যতম পুঁজি হিসেবেই গণ্য করে থাকে।

আসলে এতে করেই বোঝা যায় তাদের রাজনৈতিক দৈন্যতা কত বেশি। যৌক্তিক কারণ দিয়ে সমালোচনা না করে কথায় কথায় ভারত বিরোধিতা করা, গালিগালাজ করা, ভারতীয় পতাকা পোড়ানো, পতাকা পায়ে মাড়ানো, হাইকমিশন অফিস ঘেরাও, ভারত অভিমুখে লম্বা যাত্রা (লংমার্চ) , চিকেন নেক দখল করে নেয়া, সেভেন সিস্টার্সকে খন্ড বিখন্ড করার মধ্য দিয়ে ভারতকে খন্ড বিখন্ড করার হুমকি দিয়েই চলছে এদের সস্তা রাজনীতি।

কোন গঠনমূলক সমালোচনা নেই, যুক্তিযুক্ত আলোচনা নেই এদের আছে শুধু ভারত বিরোধিতা-আওয়ামী বিরোধিতা, মুক্তিযুদ্ধ বিরোধিতা, হিন্দুদের বিরোধিতা। এটাই যেন একমাত্র সম্বল।

দিন দিন এসব অযৌক্তিক ফাঁকা আওয়াজ যেন বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশের সাথে ভারতের সীমান্ত ৪০৯৬ কিলোমিটার। যার ৮০ শতাংশে ইতিমধ্যে ভারত সরকার কাঁটাতার বসিয়েছে।

এখন যদি ইন্টেরিম প্রধান ড. ইউনুসের এত সাহস বা ক্ষমতা থাকে অথবা এনসিপি, জামায়াতে ইসলামী কিংবা ডাকসু-চাকসু-রাকসু-জাকসু নেতাদের এত শক্তি থাকে তবে তাদের কেউ ঐ বিশাল কাঁটাতারের অংশ থেকে কিছু অংশ কাঁটাতার কেটে এনে সংবাদ সম্মেলন করে বলুক- আমরা এটা পেরেছি, তাদের ভূখন্ডও দখলে নেব!

আসলে ওই যে কথায় বলেনা খালি কলস বাজে বেশি। এদেরও হয়েছে সেই খালি কলসের মত। যোগ্যতাতো কিছু নেই, তাই ফাঁকা বুলি উড়িয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে উস্কানি-উত্তেজনা তৈরি করে তাদের পেয়ারা দেশ পাকিস্তানকে খুশি করা।

বুধবার অর্থাৎ ১৭ ডিসেম্বর “জুলাই ঐক্য” নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে এসব ভারত বিরোধী ইসলামী ফ্যাসিস্ট শক্তির চ্যালাচামুন্ডারা ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাস ও ভিসা সেন্টারে হামলা করার জন্য বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে গিয়েছিলো।

তবে কোন এক অজ্ঞাত কারণে তা করতে পারেনি বা পুলিশ তা আপাতত বাধা দিয়ে রেখেছিল। তবে সেই বিক্ষোভ সমাবেশে বেশ কয়েকজন গজায়মান নেতাকে বলতে শোনা গেছে- ভারত যদি হাদীর ওপর হামলাকারি সন্ত্রাসীদের ফেরত না দেয় এবং শেখ হাসিনাকে ফেরত না দেয় তাহলে তারা অবিলম্বেই ভারতীয় দূতাবাস দখল করে নেবে।

এমনকি বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনারকে লাথি মেরে উচ্ছেদ করতেও তারা দ্বিধা করবেনা.. ইত্যাদি ইত্যাদি।

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে এতই যখন ভারত বিরোধীতা তাহলে ভারতীয় সব পণ্য বয়কট করলেই পারেন এসব নেতারা ও নেতাদের দলের সবাই। কিন্তু চাল, চিনি, পেঁয়াজসহ হেন কোন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস আছে যা আমদানি করা হয়না ভারত থেকে?

এমনকি কাঁচা মরিচের যখন খুব আকাল অর্থাৎ দাম বেড়ে ৪০০ টাকা হয়ে যায় তখনতো বাজার সামাল দিতে ভারত থেকেই সেই কাঁচা মরিচ আনতে হয়। পাকা মরিচের কথা না হয় বাদই দিলাম।

গত কয়েকদিনের খবরে দেখা গেছে ভারত থেকে ৫০ হাজার মেট্রিকটন চাল, আর প্রায় ২০ হাজার ৫০০ টন পেঁয়াজ আমদানী করছে বেহায়া ইউনুস সরকার। পেঁয়াজের দাম এরই মধ্যে ১৫০/১৬০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছিল। চালের বাজারও বেশ চড়া।

তাই জনরোষ ঠেকাতে তড়িঘড়ি করে ছেড়ে দে মা কেঁদে বাচি এ অবস্থার মধ্যে এসব পণ্য আমদানী করা শুরু করেছে। ফলে পেঁয়াজ ও চালের দাম কমতে শুরু করেছে।

১৭ ডিসেম্বর ভারতীয় দূতাবাস ঘেরাও করাসহ নানাধরনের হুমকি ধামকি ও উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলায় ভারত সরকার এরই মধ্যে তার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এবং বাংলাদেশে তাদের ভিসা সেন্টার থেকে ভিসা কার্যক্রম স্থগিত করে দিয়েছে।

তার মানে বাংলাদেশ থেকে আপাতত আর কেউ নতুন করে ভারতে গিয়ে স্বল্প খরচে উন্নত চিকিৎসা পাবেন না। যেসব শিক্ষার্থী ভারতে গিয়ে বিভিন্ন দেশের ভিসা নিয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতেন তাদের শিক্ষাজীবনও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

কারণ বিশ্বের অনেক দেশ আছে যারা ভারতে অবস্থিত তাদের দূতাবাস থেকে বাংলাদেশিদের ভিসা দিয়ে থাকে। কয়েকমাস আগে বিশ্বখ্যাত নোবেল কেনা ইউনুস বেশ অহংকার করে বলেছিলেন, ইউরোপসহ বিশ্বের প্রায় ১২ টি দেশ বাংলাদেশে তাদের দূতাবাস খুলবে, আর কাউকে ভারতে গিয়ে ধর্না দিতে হবেনা.. ইত্যাদি ইত্যাদি।

তো ইউনুস সাহেব কোথায় গেলো আপনার সেসব লম্ফঝম্ফ মারা কথাবার্তা ? আয়নায় নিজের চেহারা দেখুন আগে, তারপর কথা বলুন দয়া করে।

যতদূর জানা গেছে বিভিন্ন খবরে তা হলো- ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনকে হুমকি, বাংলাদেশি রাজনীতিকদের উসকানিমূলক মন্তব্য—ঢাকার হাইকমিশনারকে তলব করল ভারত।

ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক হুমকি ও বাংলাদেশি কয়েকজন রাজনীতিকের উসকানিমূলক বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কড়া কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিল নয়াদিল্লি। ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব করেছে ভারত সরকার।

কূটনৈতিক সূত্রের খবর, ভারত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা স্বাগতিক দেশের আন্তর্জাতিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা এবং ভারতের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা নিয়ে দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এই তলবের মাধ্যমে নয়াদিল্লি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, কূটনীতিকদের নিরাপত্তা ও দুই দেশের সম্পর্কের মর্যাদা নিয়ে আর কোনো রকম শৈথিল্য বরদাস্ত করা হবে না। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঢাকার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর কূটনৈতিক মহলের।

এই যে ভারতবিরোধী বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে কথিত জুলাই যোদ্ধাদের গজায়মান কিছু অশ্লীল বক্তব্য প্রদানকারি নেতারা বললেন, ‘হাদির ওপর হামলাকারি সন্ত্রাসী ও শেখ হাসিনাকে যদি ভারত ফেরত না দেয় তাহলে.. তারা অনেককিছুই করে ফেলবেন।’

আচ্ছা এখানে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে- হাদির হামলাকারী যে ভারতে পালিয়ে গেলো তা নিশ্চিত হয়েছেন কেমনে আপনারা? আর যদি পালিয়ে যায় বাংলাদেশ থেকে তাহলে আমাদের স্বনামধন্য স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে:জে: জাহাঙ্গীর সাহেব ও তার অধীনস্থ বিজিবি, পুলিশ, র্যাবসহ অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা কি আঙ্গুল চুষছিল?

সন্ত্রাসীদের ধরার জন্য তো ৫০ লাখ টাকাও ঘোষণা করা হয়েছিল। তা কেউ এখন অবধি সেই ৫০ লাখ টাকার লোভেও সন্ত্রাসীদের ধরিয়ে দিলোনা?

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) নারায়নগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে গিয়ে জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সীকে ডেকে নির্দেশ দেন, ‘আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসী, তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা আছে কি না ওইটা দেখার কোনো ব্যাপার নাই। তাদের সাথে সাথে আইনের আওতায় নিয়ে আসবা। আর আইনের আওতায় না আনতে পারলে তোমাদের বিরুদ্ধেও কিন্তু ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ওসমান হাদির সুস্থতা কামনায় দোয়া চেয়ে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব না হলেও তার ব্যবহৃত হাতিয়ার উদ্ধার করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওর সাথে যে আরেকজন ছিল তাকে গ্রেপ্তার করেছি, রিমান্ডেও নিয়েছি। বাকি কাজও আমরা আস্তে আস্তে করতে পারব।’

সম্প্রতি লুট হওয়া এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের প্রশ্নে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার ‘আলু-পেঁয়াজ নিয়ে বক্তব্য’ প্রসঙ্গেও প্রশ্ন রাখেন কেউ কেউ । এর উত্তরে উপদেষ্টা বলেন, ‘ওটা কৃষি মন্ত্রণালয়ের অনুষ্ঠান ছিল বলে ওই মন্ত্রণালয়ের সমস্যাগুলো এবং কৃষকদের ব্যাপারে জানতে চেয়েছিলাম। অন্যান্য যেসব সমস্যা তা নিয়ে প্রতি সপ্তাহে আমরা সাংবাদিকদের নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বসি।’

এতেই বোঝা যায়, আওয়ামীলীগের প্রতি সরকারের মনোভাব ও প্রকৃত অবস্থান কি। কেউ কোন দোষ না করলে, মামলা না থাকলেও তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে ঢুকাতে হবে! তা না করতে পারলে নাকি পুলিশের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে–এমনটাই হুমকি দিলেন লেজে জাহাঙ্গীর আলম। অনেকে তাকে অথর্ব-অকর্মণ্য বলে থাকেন। আসলে তিনি জাতে মাতাল তালে ঠিক।

এর মধ্যে ‘আমার দেশ’ এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ১৬ ডিসেম্বর থেকে দেশের সব ওয়ার্ডে ‘আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার গণকমিটি’ গঠনের ডাক দিয়েছেন। বাংলাদেশের সমাজে আরেক উগ্রপন্থী মাহমুদুর রহমানের দাবি, এই সরকার যদি ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং হাদির আততায়ীদের ভারত থেকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা না করে, তবে এই গণকমিটি বাংলাদেশে প্রতিটি ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করবে।

শেখ হাসিনা ও লীগের নেতাদের ফেরত আনা কি এতো সহজ? পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তো নিজেই কয়েকদিন আগে স্বীকার করলেন, ভারত যদি শেখ হাসিনা ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালকে ফেরত না দেয় তাহলে বাংলাদেশের কিছু করার নেই। তাহলে এত হম্বিতম্বি কেন কতগুলো জঙ্গী ছানাপোনাদের?

২৫ ডিসেম্বর কেন ডেট লাইন? ভারতের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এই সংগ্রাম ঠিক কেমন হবে বা এর রূপরেখা কী—তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে মনে হয়, এটি কেবল ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী সংগ্রাম নয়; বরং এটি ভারতবিরোধিতার নামে একটি ‘প্রক্সি ওয়ার’ বা অন্যের যুদ্ধ শুরু করার পায়তারা। তারেক রহমান যাতে ২৫ ডিসেম্বরে দেশে ফিরতে না পারেন, কিংবা ফিরলেও যাতে পুরো পরিস্থিতি একটি বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে, এই কর্মসূচি সম্ভবত তারই একটি নীল নকশা মাত্র।

সবকিছু মিলে যা ধারনা করা যাচ্ছে তা হলো- এসব অরাজক পরিস্থিতি তৈরী করে দেশে একটি গৃহযুদ্ধ লাগিয়ে দিয়ে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বানচাল করার একটি মেটিকুলাস ডিজাইনেই কাজ করছেন বেহায়া সুদী ইউনুস। আর তাতে মদদ দিচ্ছে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ অন্যান্য চরমপন্থী ইসলামী দলগুলো।

# নুরুল ইসলাম আনসারি: লেখক, প্রাবন্ধিক।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *