ঢাকা: ইনকিলাব মঞ্চের আহ্ববায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর খবরে ক্ষোভ-বিক্ষোভ ছড়িয়েছে। তবে এটি কি আসলেই ক্ষোভ বিক্ষোভ?

সারা দেশে একরাতে যা ঘটে গেলো দেখে মনে হচ্ছে সব আগে থেকে ঠিক করা ছিলো, শুধু হাদির মৃত্যু প্রকাশ্যে আসার অপেক্ষায় ছিলো জামাত শিবির। আসতেই ঝাঁপিয়ে পড়লো নখ দাঁত বের করে!

নাহলে দেখুন না, যেসব ঘটনা ঘটলো তার একটার সাথেও কী হাদির মৃত্যুর যোগ আছে?

অথচ টার্গেট করা হয়েছে এমন এমন জায়গায় – হিন্দু নির্যাতন, কলা সংস্কৃতি ধ্বংস, মুক্তচিন্তার বিনাশ, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ধ্বংস –! এগুলো কাকে খুশি করার জন্য? পাকিস্তান খুশি!

বঙ্গবন্ধুর বাসভবন -ধানমন্ডি ৩২ নাম্বার
ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার- ধানমন্ডি
ছায়ানট- ধানমন্ডি
প্রথম আলো ভবন -ঢাকা
ডেইলি স্টার -ঢাকা
ইন্ডিয়ান হাই কমিশন-ঢাকা-চট্টগ্রাম-খুলনা অফিস
এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরীর বাসভবন-চট্রগ্রাম
সাবেক এমপি হাবিবের বাসা- উত্তরা,ঢাকা
আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস গুড়িয়ে দেয়া- রাজশাহী
সাবেক মন্ত্রী বীর বাহাদুরের বাড়িতে আগুন – বান্দরবান ….! তারপর?

বলুন? এগুলো কী বোঝাচ্ছে?

বাংলাদেশের অন্যতম সাংস্কৃতিক সংগঠন হচ্ছে ছায়ানট, এই সংগঠনটি গঠিত হয় পাকিস্তান আমলে, ১৯৬১ সালে।

সংগঠনটির মূল কাজ হল বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও উৎসব পালনের আয়োজন করা। এছাড়াও এই সংগঠন বাদ্যযন্ত্র, সঙ্গীত, নৃত্য প্রভৃতি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান ও সঙ্গীত বিদ্যালয় পরিচালনা করে থাকে।

এই সংগঠনটির মূল অফিসে নারায়ে তাকবির আল্লাহু আকবার শ্লোগান দিয়ে ভাঙচুর করা হয়, এসময় কিছু সাংবাদিক ভিডিও করতে থাকলে তাদের প্রহার করে ক‍্যামেরার ছবি ভিডিও ডিলিট করে দেয়া হয়।

স্বয়ং হাদি এখন ফিরে এসে এসব বন্ধ করার কথা বললে ওরা শুনবে না, উল্টা হাদিকে ভারতের দালাল আখ‍্যা দেবে।

হাদির জীবন ছিল একটা উছিলা মাত্র, সেই উছিলায় ওদের অন্তরে লালিত বহুদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে নিলো।

ওরা একদিকে আ/গু/ন দিচ্ছে আরেকদিকে বলছে এসব না করাই ভালো।

প্রথম আলো- ডেইলি স্টার একটা ডেমো মাত্র। তারপর কয়েক দিনে ‍যা পারা ‍যায়, যা বাকি থাকে সামনে আবার সুযোগ তৈরী করে একের পর এক সকল বাম দলের অফিস, রবীন্দ্র কালচারাল সেন্টার, ইন্দিরা কালচারাল সেন্টার, বিডি নিউজ, বাংলা নিউজ, এফডিসি, পীরের দরগা, মাজার সহ সকল নাইট ক্লাব সমূলে ধ্বংস করে দেবে। হুমকি দিয়েই রেখেছে।

বাঙালি সংস্কৃতি চর্চার ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট ভবনে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর করে দেওয়া হয়েছে আগুন।

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর একদল সন্ত্রাসী ধানমন্ডির সাততলা এ ভবনের বিভিন্ন তলায় গিয়ে প্রতিটি কক্ষে ভাঙচুর করেছে।

বাদ্যযন্ত্র ও শিল্প কর্ম বিনাশ করে ফেলা হয়। এর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন কক্ষে থাকা কাগজপত্র ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

মুখ কাপড় দিয়ে ঢেকে রেখে ও হেলমেট পরে আসা হামলাকারীরা বিভিন্ন তলায় ভাঙচুর শেষে চলে যাবার সময় ভবনের সামনে আগুন দেয়।

এ ঘটনার ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে ভাঙচুরের সময় হামলাকারীদের বলতে শোনা যায় ‘ভারতীয় সংস্কৃতি চর্চার’ কোনো জায়গা নেই বাংলাদেশে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *