ঢাকা: বাংলাদেশের গর্ব, ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতীক ছায়ানট—যে প্রতিষ্ঠানকে ১৯৭১-এর পাক হানাদাররাও ধ্বংস করতে পারেনি,
আজ সেটাই আক্রমণের মুখে!
এই দেশে কি পাক সেনাদের চেয়েও নিকৃষ্ট, বর্বর ও সভ্যতাবিরোধী শক্তির উত্থান ঘটেছে? কী ভয়াবহ অবস্থা!
ধানমন্ডি ৩২ আজকে আবার ভাঙচুর করা হয়েছে। অথচ নীরব ভূমিকা অন্তর্বর্তী সরকারের। জনগণ এই সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছে।
ওসমান হাদির মৃত্যুর সঙ্গে ছায়ানটের সম্পর্ক কী?
আসলে সম্পর্ক দরকার নেই। মৌলবাদী, রাজাকার, জামাত, শিবিরের কাছে সংস্কৃতি, গান, মুক্তচিন্তা—এগুলো অপরাধ।
এবং স্বাধীনতার চেতনাই এখন শত্রু।
কারা এই তথাকথিত ‘জুলাইযোদ্ধা’?
এরা যোদ্ধা নয়—এরা মব, এরা সংস্কৃতিখেকো, এরা মুক্তিযুদ্ধের ঘোষিত শত্রু।
ইউনূসের আশ্রয়ে প্রশ্রয়ে এরা লালিত।
আজ যদি ছায়ানট নিরাপদ না থাকে,
আজ যদি শিল্পী, সাংবাদিক, চিন্তক নিরাপদ না থাকে— তাহলে স্পষ্ট করে বলতেই হবে:
এই দেশে আবারও অন্ধকার শক্তির রাজত্ব কায়েম করা হচ্ছে।
কিংবদন্তি শিল্পী সনজিদা খাতুন-কে এই দেশ বারবার দুহাত বাড়িয়ে শ্রদ্ধায় বরণ করেছে। কিন্তু আজ অবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়ালো?
ছায়ানট ভবনে ছিন্নভিন্ন করে ফেলা হলো তাঁর ছবি!
কবি শঙ্খ ঘোষ তাঁর সম্পর্কে লিখেছিলেন, ‘‘গান তাঁর জীবিকা নয়, গান তাঁর জীবন, চারপাশের মানুষজনের সঙ্গে মিশে যাওয়া এক জীবন। ধর্মতলা স্ট্রিটের প্রথম পরিচয়ে জেনেছিলাম যে দেশের আত্মপরিচয় খুঁজছেন তিনি রবীন্দ্রনাথের গানে, আর আজ জানি যে সে-গানে তিনি খুঁজে বেড়াচ্ছেন নিজেরই আত্মপরিচয়।’’
বাংলাদেশে প্রতিবাদী মুখ ছিলেন সন্জীদা খাতুন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও তিনি ছিলেন বিশ্বভারতীর প্রাক্তনী। ভাষা আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত হন তিনি।
‘ছায়ানট’-এর অন্যতম অভিমুখ ছিলেন সন্জীদা।
তিনি শৈলজারঞ্জন মজুমদার, আবদুল আহাদ, কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, নীলিমা সেনের মতো বিখ্যাত রবীন্দ্রসঙ্গীতশিল্পীদের কাছ থেকে তালিম নিয়েছিলেন।
২০২১ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে। রবীন্দ্র স্মৃতি পুরস্কার, দেশিকোত্তম সম্মানও পেয়েছেন।
জিহাদীরা সনজিদা খাতুন-এর ‘ছায়ানট’ ভবনটিকে তছনছ করে দিয়েছে। চুপ করে বসে তামাশা দেখছেন প্রফেসর ইউনূস!
