ঢাকা: বাংলাদেশে ঘনীভূত হচ্ছে ভারত বিরোধিতা। তাতে ইন্ধন যোগাচ্ছে জামাত শিবির, টোকাই এনসিপি, এবং অতি অবশ্যই আছেন প্রফেসর ইউনূস।

কোন এক নেতা, যার মুখে অশ্লীল ভাষা ছাড়া কথাই নেই, ভারত বিরোধিতা যার রক্তে সেই ওসমান হাদির মৃত্যুতে অশান্ত হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ।

জ্বালাও পোড়াও চারদিকে। প্রতিষ্ঠান জ্বালানোর সাথে চলছে মানুষ জ্বালানো।

ময়মনসিংহে এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় শোরগোল পড়েছে। ওই মর্মান্তিক ঘটনা নিয়ে আগেই মুখ খুলেছেন ভারতের কংগ্রেস সাংসদ তথা সংসদের বিদেশ বিষয় কমিটির চেয়ারম্যান শশী থারুর।

হত্যাকারীদের শাস্তি দিতে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের কাজ যাতে আর না হয় তার জন্য প্রতিবেশী দেশের সরকার কী পদক্ষেপ করছে তা জানতে চেয়েছেন থারুর।

শশী থারুর ছাড়াও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, অন্ধ্রপ্রদেশের উপ-মুখ্যমন্ত্রী পবন কল্যাণ এবং শিবসেনা (ইউবিটি) নেত্রী প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদীও ময়মনসিংহে গণপিটুনিতে হিন্দু যুবকের হত্যার ঘটনার নিন্দা করেছেন।

বাংলাদেশের পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক মনে করে থারুর শান্তি রক্ষার আর্জি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, উন্মত্ত জনতার শাসন চলা উচিত নয়। গণতন্ত্রের শাসন কায়েম করা জরুরি। সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটি বলেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে আমরা সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চাই এবং সেখানে শান্তি বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

শশী থারুর আরও বলেন, বাংলাদেশে যা চলছে, তা দুই দেশের পক্ষে মঙ্গলজনক নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি প্রশ্ন তুলে বলেছেন, এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে তার জন্য প্রশাসন কী করছে।

বাংলাদেশে এখন দেশ শাসন করছে ক্ষিপ্ত জনতা। বাংলাদেশ সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু নিন্দা করাই যথেষ্ট নয়, খুনীদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের শাস্তি দিতে কী করছে সরকার। এ ধরনের ঘটনা যে আর ঘটবে না, তা নিশ্চিত করতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বা হচ্ছে ?

এছাড়াও তিনি প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলার নিন্দা জানান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে গতকাল শনিবার দেওয়া এক পোস্টে এ উদ্বেগের কথা জানান শশী থারুর।

পোস্টে শশী থারুর লেখেন,

‘বাংলাদেশের খবরাখবর নিয়ে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা শুধু দুটি গণমাধ্যমের ওপর আঘাত নয়; বরং এটি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং একটি বহুমাত্রিক সমাজের ভিত্তির ওপর চরম আঘাত। আমি সম্পাদক মাহ্‌ফুজ আনাম ও অন্যান্য সাহসী সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।

শশী থারুর বলেন, একই সঙ্গে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাঝুঁকির মুখে খুলনা ও রাজশাহীতে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের ভিসা পরিষেবা স্থগিত করতে বাধ্য হওয়া একটি বড় বিপত্তি।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে এ সংঘাত ও অসহিষ্ণুতার পরিবেশ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য অশুভ সংকেত বলে মন্তব্য করেন শশী থারুর।

শশী থারুর লেখেন, একটি স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের জন্য অন্তর্বতী সরকারকে নিচের বিষয়গুলো অবশ্যই নিশ্চিত করা প্রয়োজন:

সাংবাদিকদের সুরক্ষা: সাংবাদিকদের এমন পরিস্থিতিতে রাখা উচিত নয়, যেখানে তাঁদের জীবন বাঁচাতে মরিয়া হয়ে বার্তা দিতে হয়, আর সেই সময় তাঁদের কার্যালয় জ্বলতে থাকে। সংঘবদ্ধ হামলাকারীদের কোনোভাবেই বরদাস্ত করা যাবে না।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *