ঢাকা: ওসমান হাদিকে বানানো হয়েছে বলির পাঁঠা! আর তাঁর মৃত্যু ঘিরে বাংলাদেশকে বানানো হয়েছে মৃত্যু উপত্যকা। এখন এই কথা বলারও লোক নেই ‘এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ নয়’!

হাদির হত্যাকারী ভারতের পালিয়ে গেছে এমন কোনো প্রমাণ নেই। তারপরেও ষড়যন্ত্র করে দেশে আগুন জ্বালানো হচ্ছে। ভারতবিরোধী স্লোগান দেয়া হচ্ছে। বিষবাষ্প ছড়ানো হচ্ছে ভারতের বিরুদ্ধে।

ঢাকায় ভারতের হাই কমিশনের দিকে মিছিল করার একাধিক চেষ্টা হয়েছে, আর অন্যান্য জেলায় ভারতের হাই কমিশনের অফিস ভাঙচুর করা হয়েছে। এগুলো সব চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়।

হামলা হয়েছে প্রথম আলো, ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে।

ভারতও বাংলাদেশের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায়।

প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনার প্রতিবাদে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে সমাবেশ করেছেন প্রবাসী সাংবাদিকেরা। তাঁরা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানান।

ধিক্কার জানানো হয়েছে ঘটনার।

প্রতিবাদকারীরা হামলার ঘটনায় দ্রুত নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।

রোববার পূর্ব লন্ডনের আলতাব আলী পার্কে সাংবাদিক, গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক কর্মী ও ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

লন্ডনে কর্মরত বাংলা ভাষাভাষী সাংবাদিকদের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিবাদ।

মূলত এই ঘটনায় বুঝিয়ে দেয়া হলো সংবাদমাধ্যমের কোনো স্বাধীনতা নেই।

এসব ঘটনাকে নজিরবিহীন বলে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের ইতিহাসে একে ‘কালো দিন’ হিসেবে তুলে ধরা হয় সমাবেশে।

সমাবেশে বিবিসি বাংলার সাবেক সাংবাদিক উদয় শঙ্কর দাশ বলেছেন, অতীতেও বাংলাদেশের গণমাধ্যমের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে সাম্প্রতিক এই সহিংসতা বিপজ্জনকভাবে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

তিনি বলেন, এই ঘটনা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।

“গণতান্ত্রিক সমাজে মতভেদ স্বাভাবিক, কিন্তু সংগঠিত সহিংসতার আশ্রয় নেওয়া কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।”

কমনওয়েলথ জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি সৈয়দ নাহাস পাশা বলেছেন, এসব হামলা শুধু প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষতি নয়, সাংবাদিকদের জীবনকেও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আবদুস সাত্তার বলেন, “আমরা চাই না মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরোধী শক্তি বাংলাদেশে মাথাচাড়া দিয়ে উঠুক।”

ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমানে কংগ্রেস–দলীয় লোকসভার সদস্য শশী থারুরও ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

“বাংলাদেশ থেকে যে খবর আসছে, তাতে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে পরিকল্পিত মব হামলা এবং অগ্নিসংযোগ কেবল দুটো সংবাদমাধ্যমের ওপর আঘাত নয়; বরং এটা সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং বহুত্ববাদী সমাজের ভিত্তির ওপর চরম আঘাত।”

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *