ঢাকা: নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে একের পর এক জঙ্গীকাণ্ড ঘটানো হচ্ছে দেশে। জামাত শিবিরের দল ওৎ পেতে ছিলো কবে আবার ক্ষমতা দখল করবে। এখন তো সরকারের ভিতরে এরাই সরকার চালাচ্ছে!

বাংলাদেশে ছায়ানট, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, প্রথম আলো সংবাদপত্র- এর বিপর্যয়ে বিধ্বস্ত শিল্প-সংস্কৃতির আকর। এই আঘাত রক্তক্ষরণসম যন্ত্রণা দিচ্ছে সুস্থ মানসিকতার মানুষকে।

এই হামলা মানবতার উপর আঘাত। বাংলা ভাষা, কৃষ্টি, সংস্কৃতির উপর অত্যাচার।

ছায়ানট আর উদীচী ছারখার করা হয়েছে। তা কোথাকার কোন এক নাম না জানা পাতি নেতার মৃত্যুতে এই গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে হামলার কারণ কী?

ছায়ানট, উদীচী কি হাদিকে মেরেছে? আসলে প্রথমত নির্বাচন বানচাল করা, দ্বিতীয়ত সংস্কৃতি বিলুপ্ত করা। কারণ জামাত শিবিরের এইসব গান বাজনা না পছন্দ। তাদের পছন্দ হত্যা। ঐ যে গাছে ঝুলিয়ে দীপু হত্যা!

তবে যে আগুন জ্বলেছে, সেটা শুধু কাগজ আর বাদ্যযন্ত্রের আগুন নয়। এটা এই ভূখণ্ডের সাংস্কৃতিক পরিচয়কে পুড়িয়ে দেওয়ার একটা সুপরিকল্পিত চেষ্টা।

যে দেশে একদিন গান গেয়ে স্বাধীনতা এসেছিল, সেই দেশে আজ গানের স্কুলে আগুন দিতে হচ্ছে কাদের? কোন মানসিকতার মানুষ একটা হারমোনিয়াম, একটা তানপুরা পুড়িয়ে ফেলতে পারে? কোন ধরনের বিকৃত চিন্তা একটা শিশুর গানের বই ছিঁড়ে ফেলার সাহস দেয়? বলতে পারেন?

মুহাম্মদ ইউনুস আর তার তথাকথিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখন পর্যন্ত যা করে দেখিয়েছে, তাতে এটা পরিষ্কার যে জুলাইয়ের সেই রক্তাক্ত অভ্যুত্থান শুধু একটা সরকার পরিবর্তনের জন্য ছিল না। এটা ছিল বাংলাদেশের মূল চরিত্রটাকেই বদলে দেওয়ার একটা বিশাল প্রজেক্ট।

জামায়াতে ইসলামী আর তাদের সহযোগী সংগঠনগুলো যে এই সরকারের আসল চালিকাশক্তি, সেটা এখন আর গোপন কিছু নয়।

গুপ্ত ঘাতক এখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে প্রকাশ্যে।

ইনকিলাব মঞ্চ, হিফাজত, আরও কত নাম। একেকটা ইসলামি লেবাস লাগানো রাজনৈতিক সংগঠন, যাদের একমাত্র কাজ হলো এই দেশের অসাম্প্রদায়িক চরিত্রকে নষ্ট করা।

ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ছায়ানট আর ধানমন্ডি ৩২-এ হামলা চালানো হয়েছে, ভারত হাইকমিশনে হামলা, কিন্তু এই জায়গার সাথে সেই ঘটনার কী সম্পর্ক? কোনো সম্পর্ক নেই। এগুলো শুধু অজুহাত। আসল লক্ষ্য হলো এই দেশের সাংস্কৃতিক স্তম্ভগুলোকে একটা একটা করে ভেঙে ফেলা, আর ভারত বিরোধিতা উগড়ে দেয়া।

বাংলাদেশকে একটা মধ্যযুগীয় ধর্মীয় রাষ্ট্রে পরিণত করার পূর্ণ প্রচেষ্টা চলছে।

মুহাম্মদ ইউনুস আর তার সরকার এই সব কিছুর নীরব সমর্থক। তারা মুখে বলছে সবার স্বাধীনতার কথা, গণতন্ত্রের কথা, কিন্তু বাস্তবে একের পর এক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলা হচ্ছে আর তারা চুপচাপ বসে আছে।

ইউনূসের তো কথায় কথায় চোখে পানি আসে, ঐ যে বলে না কুমিরের কান্না! ক্ষমতার লোভে পাগল তিনি।

মুহাম্মদ ইউনুস আর তার জঙ্গী সহযোগীরা ইতিহাসের বিচারে দাঁড়াবে একদিন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *