ময়মনসিংহ: দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর ক্রমাগত বাড়ছে বর্বরোচিত আক্রমণ। ময়মনসিংহের ভালুকার পোশাক কারখানার শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে পৈশাচিক উল্লাস করতে করতে মেরেছে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। তাঁর অপরাধ তিনি হিন্দু।

নৃশংসভাবে পিটিয়ে এবং পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে এই নিরীহ যুবককে। অথচ এত বড় ঘটনায় চোখের পানি বের হলো না ইউনূসের। তাঁর চোখের পানি কট্টরপন্থী হাদির জন্য।

এবার জুতা মেরে গরু দান করতে গেলো ইউনূসের প্রশাসন।

আর যা সাহায্য করলো তাতে দীপুর পরিবারকে আরো অপমান করে এলো। দীপুর জীবনের দাম কি ২৫ হাজার টাকা? হিন্দুর জীবনের দাম ২৫ হাজার! হাস্যরসে ভরা!

শোকাতুর স্বজনদের সান্ত্বনা দিতে তাঁদের দুয়ারে পৌঁছাল ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন। সোমবার দুপুরে তারাকান্দা উপজেলার মোকামিয়াকান্দা গ্রামে দীপুর বাড়িতে হাজির হন জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার পরিবারকে মাত্র ২৫ হাজার টাকার আর্থিক সাহায্য প্রদান এবং কিছু শুকনো খাবার দেয়া হয়।

দীপুর পরিবার কি বন্যা আক্রান্ত?

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দীপু চন্দ্র দাসের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা, শুকনা খাবার, শীতবস্ত্র, সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।

দীপুকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি প্রশাসনের কাছে তুলে ধরেন পরিবারের সদস্যরা।

জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান বলেন, ‘আমরা পরিবারটিকে বিধবা ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। শোক কাটিয়ে উঠলে তাঁদের যে ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, তা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করা হবে। ইতিমধ্যে ১২ জন আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। অডিও এবং ভিডিও চিত্র দেখে যারা সরাসরি জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলমান।’

দীপুর বাবা রবি চন্দ্র দাস বলেন, “দিপুই ছিল পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ধর্ম অবমাননার অভিযোগ থাকলে আইনের মাধ্যমে বিচার হওয়া উচিত ছিল। আমরা গরীব বলেই ছেলেকে রক্ষা করতে পারিনি। ছেলের হত্যার বিচার চাই।”

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *