ঢাকা: ময়মনসিংহের ভালুকায় এক হিন্দু যুবককে গণপিটুনি দিয়ে গাছে ঝুলিয়ে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয়। নৃশংস এই ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছে সারা বিশ্ব।

ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করার মিথ্যা অভিযোগ তুলে দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে মারা হয় ময়মনসিংহে। ঘটনাটি ঘটেছে ১৮ ডিসেম্বর স্থানীয় সময় রাত ৯টা নাগাদ, ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায়।

মৃত দীপু তারাকান্দা উপজেলার বাসিন্দা। তিনি পাইওনিয়ার নিট কম্পোজিট কারখানায় শ্রমিক ছিলেন।

এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন নিউ ইয়র্কের ভারতীয়-আমেরিকান আইনপ্রণেতা জেনিফার রাজকুমার। দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে সহিংসতা ও নিপীড়নের এক উদ্বেগজনক ধরন সম্পর্কে সতর্ক করেছেন তিনি।

এক বিবৃতিতে, রাজকুমার বলেন যে তিনি “বাংলাদেশের হিন্দু সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে চলমান সহিংসতায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন”, দীপু চন্দ্র দাসের হত্যাকে সাম্প্রতিকতম এবং নৃশংস উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

“দীপু চন্দ্র দাসের ভয়াবহ গণপিটুনির ঘটনা বাংলাদেশে হিন্দু এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার এক উদ্বেগজনক সময়কে তুলে ধরেছে”। উল্লেখ করেন তিনি।

“মানবাধিকার, ন্যায়বিচার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার জন্য আমাদের একসাথে দাঁড়াতে হবে”!

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ২,৪৪২টি সহিংসতার ঘটনা এবং ১৫০টিরও বেশি মন্দির ভাঙচুরের ঘটনা নথিভুক্ত করেছে।”

রাজকুমার বলেন, এই পরিসংখ্যান বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, বিশেষ করে হিন্দুদের জন্য ভয় ও নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশকে প্রতিফলিত করে।

এছাড়াও, দীপু চন্দ্র দাসের নৃশংস হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিবৃতি জারি করে নিন্দা জানিয়েছেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য রাজা কৃষ্ণমূর্তি।

বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।

বিবৃতিতে কৃষ্ণমূর্তি বলেন, ‘বাংলাদেশে দীপু চন্দ্র দাস নামে একজন হিন্দু ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার ঘটনায় আমি মর্মাহত – এটি একটি সহিংস ঘটনা। কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে গ্রেফতারি শুরু করেছে। বাংলাদেশ সরকারকে অবশ্যই পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্ত চালিয়ে যেতে হবে এবং দায়ী সকলকে আইনের আওতায় এনে বিচারের আওতায় আনতে হবে’।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *