চট্টগ্রাম: দীপু চন্দ্র দাসের নৃশংস হত্যাকাণ্ডই শেষ নয়, দেশটা যতদিন হিন্দু মুক্ত না হচ্ছে পুরোপুরি ততদিন মনে হয় এই নৃশংসতা চলবে!

বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর নির্যাতন থামছে না।

তবে অন্তর্বর্তী সরকার অবশ্য ধর্মীয় কারণে হিন্দুদের উপর অত্যাচারের কথা স্বীকার করছে না। ইউনূস জঙ্গী গোষ্ঠী বলেই চলেছে এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা।

দীপু চন্দ্র দাসের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর নিন্দার ঝড় উঠলেও, সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর নির্যাতন বন্ধ হচ্ছে না।

এবার চট্টগ্রামের রাউজানে ফের হিন্দুদের ওপর আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার রাত ৩টার দিকে পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সুলতানপুর গ্রামের হিন্দু বাড়িতে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ঘর দুটির একটির মালিক প্রবাসী সুখ শীল ও অন্যটির মালিক দিনমজুর অনীল শীল। তাঁদের বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

একদল দুষ্কৃতী, জামাত শিবির হামলা চালিয়ে আগুন লাগিয়ে বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। আগুনে ওই বাড়ির ভিতরে থাকা সব জিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে।

বাড়িতে যেগুলো পোষ্য ছিলো, মারা গিয়েছে। ভোর রাতে সকলেই ঘুমোচ্ছিলেন তাঁরা। সে সময় টার্গেট করা হয় তাঁদের।

নৃশংসভাবে হত্যা চেষ্টা করা হয় তাঁদের।
বাড়ির বাইরে থেকে দরজা আটকে দেওয়া হয়। তারপর লাগিয়ে দেওয়া হয় আগুন।

ঘটনায় বাড়ির ভিতরে থাকা সমস্ত জিনিসপত্র পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে। বাড়ির ভিতরে থাকা পোষ্যও আগুনে পুড়ে গিয়েছে।

তবে এই হামলায় পরিবারের কোনও সদস্যের কোনও ক্ষতি হয়নি। তারা ঘটনার সময় পালিয়ে গিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে।

বাড়িতে থাকা সোনাদানা-সহ কিছু নগদ টাকাও ছিল। সেগুলোও আগুনে সে-সব পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে।

ঘরের মানুষগুলো কোনরকমে বের হতে পারলেও গৃহপালিত হাঁস-মুরগিসহ সহায়সম্বল সব পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন লেখক তসলিমা নাসরিন!

তিনি তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুকে লিখেছেন:

‘চট্টগ্রামের রাউজানে হিন্দুদের ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকে রেখে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে বর্বর মুসলমানেরা। পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বাড়িঘর। হিন্দুরা ঘর থেকে কষ্টেসৃষ্টে বেরিয়ে প্রাণ বাঁচিয়েছে।

আবার কী ভরসায় তারা ঘর বানাবে? ইউনুস কি হিন্দুবিদ্বেষী বর্বর মুসলমানদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন? হিন্দুদের ক্ষতিপূরণ দেবেন? নাকি এই খবর বিদেশে প্রচার হয়নি বলে তিনি ভ্রুক্ষেপ করবেন না? হিন্দুদের পুড়ে যেতে দেবেন’!

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *