দ্বিচারিতায় জঙ্গী পেট্রোনাইজার অবৈধ ইউনুস সরকার। একদিকে ইসলামী চরমপন্থী জঙ্গী তোষণ অপরদিকে আবার তাদের কয়েকজনকে আটক করে কারাগারে ঢোকাচ্ছেন।
একদিকে চরম ভারত বিরোধীতা, পারলে এখুনি ভারতকে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করে ফেরে আরকি! অপরদিকে জীবন বাঁচানোর দায়ে সেই চরম শত্রু ভারত থেকেই চাল-পিঁয়াজসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী আমদানী করছে।
আসলে দিশেহারা হয়ে যখন যা খুশী তাই করে যাচ্ছে এই ‘মেটিকুলাস ডিজাইনার’ ড. মুহাম্মদ ইউনুস। এমন অনেক আচরণই করছে এই জঙ্গী-অনির্বাচিত-অবৈধ ইউনুস সরকার। কারণ ইউনুস ও তার সঙ্গী-সাথীদের কাছে রাজনীতির মূল অস্ত্র হচ্ছে আওয়ামী বিরোধীতা আর ভারত বিরোধীতা।
এরা একদিকে কবি নজরুলের কবিতা আবৃত্তি করে তারুণ্যকে উদ্দীপ্ত করার মধ্য দিয়ে সেই তারুণ্যকে দিকভ্রান্ত করে জঙ্গীবাদের দিকে ধাবিত করেছে। পঙ্গপালের মত তরুণ না বুঝে ঝাঁপ দিয়েছে সেই পথে। কিন্তু চলতে গিয়ে আটকে গেছে মরুভূমির চোরাবালিতে।
সেই চোরাবালি থেকে আর বের হতে পারছেনা।

কেউ কেউ অবশ্য বিচ্ছিন্নভাবে কিছুটা বের হওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু তাদেরকে আবার পেছন থেকে সেই দিকভ্রান্তরা টেনে ধরে পেছনেই নিয়ে যাচ্ছে। ফলে বাঁচার পথ খুঁজে পাচ্ছেনা বিশাল এই ছাত্র-তরুণ। যা দেশের একটি বড় অংশ।
অথচ দেশকে আগামীতে নেতৃত্ব দেয়ার কথা এই তরুণদের। স্বাভাবিকভাবেই এরাইতো একদিন দেশের হাল ধরবে। কিন্তু যে তারুণ্য বৈঠা চেনেনা, নৌকা চেনেনা, নদীর গতিপথ জানেনা, নদীর জোয়ার-ভাটা চেনেনা তারা কিভাবে হাল ধরবে?
ঝড় উঠলে উত্তাল নদীতে কিভাবে নৌকাকে সামাল দিতে হয় তা তো জানেইনা এরা। আর তাই দিকভ্রান্ত তরুণ একবার এদিকে আরেকবার ওদিকে ছুটে বেড়াচ্ছে।
এই যে চরম সম্ভাবনাময় ছাত্র-তারুণ্যকে ধ্বংস করে দিলো মার্কিন “ডিপষ্টেট” আর শান্তিতে নোবেল লরিয়েট ড. মুহাম্মদ ইউনুসের “মেটিকুলাস ডিজাইন”– এর জন্য কি ভবিষ্যতে এই তরুণ আবার উল্টো ফুঁসে উঠবেনা এদের বিরুদ্ধে? কিন্তু তখন কি আর ইউনুস ও তার জঙ্গী বাহিনীকে পাওয়া যাবে এই ছাত্র-তরুণদের জীবন ধ্বংসের জবাবদিহিতার জন্য ?
গত ২০২৪ এর জুলাই-আগষ্টে যেসব ছাত্র তরুণ লোভে পড়ে, দিকভ্রান্তের মত ঘর ছেড়ে রাজপথে নেমে এসেছিল তাদের অনেকেই বুঝতে পেরেছে যে তারা ভুল পথে এসেছিল। এর ফলে সে সময়কার কথিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যা পরবর্তীতে জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপিতে পরিণত হয়েছে সেখান থেকেতষ অনেকেই বের হয়ে আসছে।
কিন্তু এরা এতটাই হতাশ যে তারা আর সত্যিকার অর্থে সঠিক কোন পথে যেতে পারছেনা। এদের মধ্যে রাজনৈতিক দর্শনগত অনুপস্থিতির হতাশা, ব্যক্তিগত চাওয়া-না পাওয়ার হতাশা প্রচন্ডভাবে গ্রাস করছে। ফলে আমরা দেখি গত ১৮ ডিসেম্বর রাজধানীর জিগাতলার নারী হোস্টেলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী জান্নাতারা রুমী গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে।

উগ্রপন্থী এই এনসিপি নেত্রী রুমী কয়েকদিন আগেই ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বিধ্বস্ত-পোড়া বঙ্গবন্ধু যাদুঘরে শ্রদ্ধা জানাতে যাওয়া এক বয়স্ক নারীকে প্রকাশ্যে লাঠিপেটা ও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে দেখা গেছে।
কারণ রুমীর মত প্রজন্মকে কোন সভ্য আচরণ করতে শেখানো হয়নি। এরা জানে শুধু অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে। মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ বাঙ্গালীর প্রগতিশীল সংস্কৃতির ধারাটিকে চরমভাবে আঘাত করতেই শিখেছে এরা। এরা ধ্বংস করতে শিখেছে, গড়তে শেখেনি।
যদিও তারা দাবি করে থাকে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে তাদের সেই আন্দোলন ছিল, এখনো নাকি তাদের সেই আন্দোলন চলছে। কিন্তু দেশকে ধ্বংস করে , একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে অবমাননা করে, সেই নীতি-আদর্শকে পায়ে দলে আর যাই হোক দেশ গড়া যায়না।
আর এই ইউনুস সরকার সেই চরম বেয়াদপ জঙ্গীবাদী চেতনায় নিমজ্জিত ছাত্র –তরুণদেরকেই জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা দিয়ে, নানা কর্মসূচী পালন করে নিজেদের ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখতে চাইছে।
যার ফলে রংপুরে গত চব্বিশে ইসলামী ছাত্র শিবিরের ক্যাডার আত্মঘাতী জঙ্গী আবু সাইদকে জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তার নামে নানা স্থাপনা গড়ে তোলা হয়। তার কবরে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুসসহ কথিত জাতীয় রাজনীতির নেতৃবৃন্দ সেই কবরে গিয়ে শ্রদ্ধায় বিগলিত হয়ে পড়েন।
সেই জঙ্গীবাদী চেতনায় নিমজ্জিত এই ছাত্র-তরুনদেরকে শেখানো হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষককে বিভাবে অপমান করতে হয়। শিক্ষক-মুক্তিযোদ্ধাদেরকে গলায় জুতার মালা পড়িয়ে চরম অপমান করতে শেখানো হয়েছে। তো এই শিক্ষা থেকে ছাত্র-তরুনরা কিভাবে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হবে? গুরুজনদের সম্মান করতে শিখবে?
বিদ্রোহের কবি, সাম্যের কবি, অসাম্প্রদায়িকতার কবি নজরুল ইসলামের কবরের পাশে কবর দেয়া হয় চরম সাম্প্রদায়িক, জঙ্গী ও অশ্রাব্য ভাষায় কটুক্তিকারি হাদী নামের এক দিকভ্রান্ত তরুনকে! ভাবতে পারা যায়?
আবার সেই জঙ্গীদের কবরে গিয়ে আবেগ উথলে দেন আমাদের কথিত জাতীয় নেতারা। ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরা বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানও ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক সেই হাদীর কবরস্থানে যেতে বাধ্য।

স্বাভাবিকভাবেই এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে- বিদ্রোহের কবি-সাম্যের কবি নজরুলের সমাধি থাকবে তো? পাশেই হাদীকে কবরস্থ করার পর আশঙ্কিত কাজী পরিবার! তাণ্ডব শেষ হওয়া নিয়েও সংশয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে নজরুলের সমাধির পাশাপাশি, যেখানে একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রথিতযশা শিক্ষকের সমাধি রয়েছে, সেখানেই হাদীকে কবরস্থ করা কতটা যুক্তিযুক্ত তা নিয়ে বিস্তর আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
হাদীর কবরকে ঘিরে নতুন করে অশান্তির আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছে না নিরাপত্তা বিশ্লেষকগণ।
প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে কাজী নজরুল ইসলামের দেহ সমাধিস্থ করা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের পাশে। শনিবার বাংলাদেশের স্থানীয় সময় বিকেল ৪টে নাগাদ সেখানেই দাফন করা হল চরমভাবে মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও ভারতবিদ্বেষী বলে পরিচিত ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদীকে।
শুধু তাই নয় এই হাদী চরমভাবে অশ্রাব্য ভাষায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রদানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিভিন্ন শ্রদ্ধেয় নাগরিকদেরকে। এই অশ্রাব্য গালিগালাজই তাকে পরিচিতি দিয়েছে। তো এই যদি হয় একজনের জাতীয় বীর (!) হওয়ায় মাপকাঠি তাহলে সে সমাজ থেকে, সেই তরুণদের কাছ থেকে জাতি কি আশা করতে পারে ?
আর তা-ই নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। এ বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে নজরুলের পরিবারও। তারা এজন্য দায়ী করেছেন বাংলাদেশের ইন্টেরিম সরকারকে। শনিবার পশ্চিম বর্ধমানের চুরুলিয়ায় কবির জন্মভূমিতে বসে তাঁর পরিবারের সদস্যদের আশঙ্কা, এর পর বাংলাদেশের জাতীয় কবির সমাধির উপর আক্রমণ হবে না তো!
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ, ১৯ ডিসেম্বর শুক্রবার গভীর রাতে জরুরি বৈঠকের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেন, নজরুলের সমাধির পাশে সমাধিস্থ করা হবে হাদিকে। সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। শনিবার দুপুর নাগাদ তার দেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজী নজরুলের সমাধি চত্বরে নিয়ে যাওয়া হয়। কবরস্থ করা হয় বিকেল ৪ টার দিকে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়াজ আহমেদ খান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘শহিদ শরিফ ওসমান হাদী ইতিহাসের অংশ হয়ে গিয়েছেন। দেশের জন্য তার যে ত্যাগ, আল্লা তাআলা কবুল করুন।’’
কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে নজরুলের সমাধির পাশাপাশি যেখানে একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রথিতযশা শিক্ষকের সমাধি রয়েছে, সেখানেই হাদিকে সমাধিস্থ করা কতটা যুক্তিযুক্ত তা নিয়ে বিস্তর আলোচনা চলছে।
হাদীর কবরকে ঘিরে নতুন করে অশান্তির আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছে না নিরাপত্তা কর্মকর্তারা । কেন কবি নজরুলের মত একজন বিশ্ববিখ্যাত কবির সমাধির পাশে হাদিকে কবর দেয়া তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কবির পরিবার।
নজরুলের পরিবারের সদস্য সোনালি কাজী এবং স্বরূপ কাজীর বক্তব্য, যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা অনৈতিক। নিয়ম মতো ওই স্থানে বিশেষ কয়েক জনকে সমাধিস্থ করা হয়। এত জায়গা থাকতে নজরুলের সমাধির পাশে হাদীকে সমাধিস্থ করার সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রাজনীতি রয়েছে।
সোনালি বলেন, ‘‘আমাদের প্রাণের কবি বাংলাদেশে শেষ জীবন কাটিয়েছেন। এত দিন বাংলাদেশে আমরাও (পরিবারের অন্যেরা) ভাল ছিলাম। কিন্তু এখন যা হচ্ছে…।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘ওই কবরস্থানে সকলকে সমাধিস্থ করা হয় না। কিন্তু ছায়ানট ভাঙচুর করা, রবীন্দ্রনাথের বই পুড়িয়ে দেওয়া বাংলাদেশিদের উগ্রবাদীরা হাদিকে সমাধিস্থ করলেন কবির সমাধির পাশে! এটা হল কেন?

নজরুল যেখানে সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে গিয়েছেন, জাতের নামে বজ্জাতির কথা বলেছেন, তখন তাঁর সমাধির পাশে এমন এক জনকে সমাধিস্থ করা হল সরকারেরই নির্দেশে!’’
তাঁর আশঙ্কা, আগামিদিনে হয়তো কবির সমাধিও ওখানে থাকবে না। তিনি বলেন, ‘‘পৃথিবীতে ভাল মানুষের জায়গা কি হারিয়ে যাচ্ছে? রবীন্দ্রনাথ-নজরুলকে কি পরবর্তী প্রজন্ম অস্বীকার করবে? আমাদের আর্জি, নজরুলকে যেন অসম্মান করা না-হয়। তবে এই সরকারের (বাংলাদেশের অন্তর্বতী সরকার) দায়বদ্ধতা নেই। আমরা ভীষণ মনোকষ্টে রয়েছি। আমরা মর্মাহত।’’
এদিকে ইসলামী জঙ্গী আতাউর রহমান বিক্রমপুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর বিশেষ ক্ষমতা আইনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৯০ দিনের আটকাদেশে তাকে কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন ঘটনায় আলোচিত মাওলানা আতাউর রহমান বিক্রমপুরীকে গ্রেপ্তার করে তিন মাসের আটকাদেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
২৪ ডিসেম্বর বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশের এক বার্তায় বলা হয়, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অনুরোধের ভিত্তিতে আতাউর রহমান বিক্রমপুরীকে নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বিশেষ ক্ষমতা আইনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৯০ দিনের আটকাদেশে তাকে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার-১ এ পাঠানো হয়।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মো. মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, “এটা সরকারের নির্বাহী আদেশ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই আদেশ জারি করে। বিশেষ ক্ষমতা আইনে সরকারের একটা এখতিয়ার আছে।
ফ্যাক্টচেকার, সাংবাদিক কদরউদ্দিন শিশিরের ফেসবুক পোস্ট এর বরাত দিয়ে গত ৭ মার্চ দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্রমপুরী তার ওয়াজ, অনলাইন বয়ান ও ফেইসবুকে ‘অতি উগ্র কথাবার্তা প্রচারের জন্য’ পরিচিত।
তিনি ২০২৪ সালের নভেম্বরে প্রথম আলোর সামনের বিক্ষোভে এবং সেখান থেকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া কয়েকজনকে থানা থেকে জোর করে ছাড়িয়ে নেয়ায় ‘নেতৃত্ব’ দিয়েছিলেন।
বিক্রমপুরী ২০২১ সালে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য হিসেবে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বলেও ওই প্রতিবেদনে তথ্য দেওয়া হয়। গত ১৮ ডিসেম্বর প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলা-অগ্নিসংযোগের ঘটনাতেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিক্রমপুরীর নাম আসছিল। তার ভেরিফায়েড ফেইসবুক পেইজে ওই হামলার সমর্থনে কিছু পোস্টও দেখা যায়।
তবে কাশিমপুর কারাগারে নেয়ার পর কারান্তরালে আটক অন্য হাজতী-কয়েদিদের বিক্ষোভের সম্মুখীন হয়েছেন এই জঙ্গী আতাউর রহমান বিক্রমপুরী। তারপর তাকে একটি বিচ্ছিন্ন প্রকোষ্ঠে নিরাপদে স্থানান্তর করা হয়েরেছ বলে জানা গেছে।
সরকার যে কোন কাজের অংশ হিসেবে এই বিক্রমপুরীকে আটক করেছে তা কিন্তু নয়। মূলত তাকে বাঁচানো ও সুরক্ষার জন্যই কৌশলে তাকে কারাগারে ঢোকানো হয়েছে। কারণ এরমধ্যে হাদীর মত জঙ্গীদের ওপর হামলা-খুনের ঘটনা ঘটায় এ কৌশল নিয়েছে সরকার, এমনটাই বলছেন অনেকে।
আমরা এমনও দেখেছি-সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, মামলা বাণিজ্য ও প্রতারণাসহ বিভিন্ন অভিযোগে গাজীপুরে তাহরিমা জান্নাত সুরভী (২১) নামে এক তরুণিকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথবাহিনী। তিনি নিজেকে গত বছরের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ‘সমন্বয়ক’ হিসেবে পরিচয় দিতেন।

বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে টঙ্গী পূর্ব থানার গোপালপুর টেকপাড়া এলাকার বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মেহেদী হাসান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন ভিডিও, বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও টার্গেট করা লাইভের মাধ্যমে তিনি পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।
ওসি মেহেদী হাসান বলেন, সুরভীর বিরুদ্ধে কালিয়াকৈর থানায় নাইমুর রহমান দুর্জয় নামের যুবকের করা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। মামলায় চাঁদাবাজি, অপহরণ করে অর্থ আদায় ও ব্ল্যাকমেইলিং-এর অভিযোগ আনা হয়েছে।
এছাড়া তিনি সেনাবাহিনী প্রধানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিত কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করতেন বলেও অভিযোগ আছে।
ওসি আরও বলেন, সম্প্রতি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত মামলার ভয় দেখিয়ে রাজধানীর গুলশানের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় আড়াই কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
গত বছরের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় গুলশান ও বাড্ডা এলাকায় সংঘটিত একাধিক হত্যা মামলায় নাম জড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। এই হলো সেই জুলাই যোদ্ধাদের কর্মকান্ড।
তার মানে গত চব্বিশের জুলাই-আগষ্ট থেকে যেসব শিক্ষার্থী-তরুণ কথিত ফ্যাসিবাদ আওয়ামীলীগকে বিতারণের জন্য সশস্ত্র ষড়যন্ত্র করেছিল তারা যে সঠিক কোন নীতি-আদর্শের অনুসারি ছিলনা তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
# নুরুল ইসলাম আনসারি: লেখক, প্রাবন্ধিক।
