ফরিদপুর: এই দেশে মৌলবাদীদের আক্রোশের মুখে পড়ছে সংস্কৃতি, গান বাজনা। অথচ পাকিস্তানি শিল্পীতে কোনো আপত্তি নেই।

এবার জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী জেমসের কনসার্ট পণ্ড করে দেয়া হয়েছে। মৌলবাদীদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে আয়োজক কমিটির আহ্বায়কসহ ২৫-৩০ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার পর ফরিদপুর জিলা স্কুল চত্বরে এই ঘটনা ঘটে।

ফরিদপুর জিলা স্কুলের ১৮৫তম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের সমাপনী দিনে সন্ত্রাসীদের ইট-পাটকেল নিক্ষেপের মুখে পড়ে দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড তারকা জেমসের (নগর বাউল) সংগীতানুষ্ঠান।

উল্লেখযোগ্য যে, শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে স্কুল প্রাঙ্গনে জেমসের সংগীত পরিবেশনের কথা ছিল।

আর যারা এমন করেছে তারা একটা সুযোগ নিয়ে ঘটনাটা ঘটায়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আয়োজক সূত্রে জানা যায়, পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি শুধুমাত্র নিবন্ধিত প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ছিল।

অর্থাৎ বাইরের কেউ থাকতে পারবে না। কিন্তু দেখা যায়, অনিবন্ধিত কয়েক হাজার বাইরের লোক চলে আসে। ঘটনা ঘটাবে এই মনোভাব নিয়েই এসেছিলো সংস্কৃতিবিরোধী এই গোষ্ঠী।

তাদেরকে ভেতরে ঢুকতে না দেওয়ায় তারা পাশের রাস্তা মুজিব সড়কে অবস্থান নেন। পরে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে গানের পরিবেশনা দেখার জন্য বাইরে দুটি প্রজেক্টর লাগিয়ে দেওয়া হয়।

তবে এতে সন্তুষ্ট না হয়ে বহিরাগতরা দেওয়াল বেয়ে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে। এতে বাধা দেওয়ায় হামলা করা শুরু করে, দর্শক ও মঞ্চের দিকে একের পর এক ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে তারা। জঙ্গী কর্মকাণ্ড যাকে বলে।

স্কুলের শিক্ষার্থীরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে বিক্ষুব্ধরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।

পরিস্থিতির অবনতি হলে রাত ১০টার দিকে আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ডা. মুস্তাফিজুর রহমান শামীম মঞ্চ থেকে ঘোষণা দেন, উদ্ভুত পরিস্থিতির কারণে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে জেমসের অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে।

যারা এটা ঘটিয়েছে তারা সংস্কৃতিরোধী, জামাত শিবির। এরা দেশটাকে ছিবড়ে খাচ্ছে। গান বাজনা নিষিদ্ধ করছে, নারী বিরোধী সংলাপ দিচ্ছে। অথচ দেখেও চুপ ইউনূস সরকার।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *