ঢাকা: বাংলাদেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই একের পর এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটছে।

মাজার ভাঙা, শিল্পীদের হেনস্থা, গান বন্ধ করা এসব মৌলবাদী কাজকর্ম চলছেই।

এবার জেমসের মতো তারকাকে টার্গেট। এই ঘটনায় ক্ষোভ ফেটে পড়েছেন নেটিজেনরা।

২০২৪ এ বাংলাদেশে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় থেকে এখনো পর্যন্ত দেশে শান্তি নেই।

এবার গভীর রাতে কিংবদন্তি রক শিল্পী জেমসের কনসার্টে হামলা চালানো হলো। ঘটনার জেরে অনুষ্ঠান বাতিল করতে বাধ্য হন আয়োজকরা।

১৮৪০ সালে ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত ফরিদপুর জেলা স্কুল বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। দু’দিন ধরে চলা ১৮৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানের শেষ লগ্নে এই কনসার্ট হওয়ার কথা ছিল।

বৃহস্পতিবার জাতীয় পতাকা ও স্মারক পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন, শপথগ্রহণ এবং বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়েছিল।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বহু প্রতীক্ষিত জেমসের কনসার্ট।

এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তসলিমা নাসরিন।

ফেসবুকে তিনি লিখেছেন:

“সংস্কৃতি ভবন ছায়ানট পুড়ে ছাই। গান, নাটক, নৃত্য, আবৃত্তি এবং লোকজ সংস্কৃতির প্রসারের মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল চেতনা বিকাশের জন্য গড়ে ওঠা সংগঠন উদীচী পুড়ে ছাই।

আজ বিখ্যাত গায়ক জেমসকে অনুষ্ঠানে গান গাইতে দেয়নি জিহাদিরা। কিছুদিন আগে ঢাকায় এসেছিলেন সিরাজ আলী খান।

তিনি বিশ্বখ্যাত সংগীতজ্ঞ ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর ছেলে আলী আকবর খানের নাতি। সিরাজ আলী খানও মাইহার ঘরানার সংগীতের একজন খ্যাতিমান শিল্পী।

সিরাজ আলী খান ঢাকায় এসে অনুষ্ঠান না করেই ভারতে ফিরে গিয়েছেন। বলেছেন শিল্পী, সংগীত এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে আর আসবেন না।

দু’দিন আগে ওস্তাদ রশীদ খানের ছেলে আরমান খানও ঢাকার আমন্ত্রণ রক্ষা করেননি, তিনিও জানিয়ে দিয়েছেন সংগীতবিদ্বেষী জিহাদি অধ্যুষিত বাংলাদেশে তিনি পা রাখতে চান না”।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *