ঢাকা: সারাটা বছর গেলো জনগণের এই জঙ্গী সরকারকে সহ্য করতে করতে। জনগণ অতিষ্ঠ।
আজ বছরের শেষ দিন। বিগত দেড় বছর মানুষ লাশ ছাড়া কিছু দেখেনি।
জুলাই মাসের সেই রক্তাক্ত দিনগুলোর কথা মনে আছে? রাস্তায় রাস্তায় তরুণদের রক্ত, পুলিশ আর সাধারণ মানুষের লাশ, পুড়ছে গাড়ি, ভাঙচুর হচ্ছে সরকারি স্থাপনা। তখন বলা হয়েছিল এসব হচ্ছে গণতন্ত্রের জন্য, মানুষের অধিকারের জন্য, স্বৈরাচার উৎখাতের জন্য। কিন্তু আজ?
ইউনুস আর তার তথাকথিত উপদেষ্টা পরিষদ যে দেশ চালাচ্ছে, সেই দেশে এখন আইন বলে কিছু নেই। পুলিশ অফিসার নিজেই স্বীকার করছেন যে অন্যায়ভাবে কারও দোকানে তালা দেওয়া আইনসম্মত নয়, অথচ সেই অন্যায় যারা করছে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। কারণ এই মুহূর্তে আইন আর শৃঙ্খলা রক্ষার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ক্ষমতায় থাকা যেকোনো মূল্যে।
নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে দিয়ে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে এমন একজনকে যিনি গরিব মানুষের কাছে চড়া সুদে টাকা ধার দিয়ে কোটিপতি হয়েছেন।
২০২৫ সালে রাজনৈতিক সহিংসতা, গণপিটুনি, হেফাজতে মৃত্যু, অজ্ঞাত পরিচয়ের মরদেহ উদ্ধার এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)।
আজ বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরে এমএসএফ।
সংগঠনটি জানায়, গণতান্ত্রিক পরিসর ক্রমাগত সংকুচিত হওয়া, জবাবদিহির অভাব এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যর্থতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এমএসএফ জানায়, সারা বছরজুড়ে নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা ও রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বেড়েছে।
বহু মানুষকে পুরোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। যা গণতান্ত্রিক পরিসর সংকুচিত ও নাগরিকদের রাজনৈতিক মত প্রকাশের সক্ষমতা সীমিত করেছে।
এমএসএফের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে রাজনৈতিক সহিংসতার ৫৯৯টি ঘটনায় মোট ৫ হাজার ৬০৪ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৮৬ জন নিহত এবং ৫ হাজার ৫১৮ জন আহত হন, যাদের মধ্যে ৯৭ জন ছিলেন গুলিবিদ্ধ।
নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর মনোনয়ন ও প্রচারণা সংশ্লিষ্ট ২৬টি ঘটনায় ২৫২ জন ক্ষতিগ্রস্ত হন—এর মধ্যে ৩ জন নিহত ও ২৪৯ জন আহত হন।
এদিকে, ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যৌথ বাহিনীর ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এর আওতায় ২২ হাজার ২৮৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যাদের মধ্যে ১১ হাজার ৩১৩ জনকে সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এমএসএফ জানায়, এ বছর বিশেষ পুলিশ অভিযানসহ বিভিন্ন মামলায় সারা দেশে মোট ২ লাখ ১২ হাজার ৮০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কিছু মামলার নিষ্পত্তি দ্রুত হলেও উচ্চ ও নিম্ন আদালতে এখনও প্রায় ৪৫ লাখ ২০ হাজার মামলা ঝুলে রয়েছে, যা সময়মতো বিচার পাওয়া কঠিন করে তুলছে।
