ঢাকা: ইউনূস ক্ষমতা দখল করেছেই হিন্দু নিধনসহ আরো যত অপকর্ম আছে সমস্ত করার জন্য।
ইউনুস সরকারের অধীনে সংখ্যালঘু হওয়া মানেই মৃত্যুর অপেক্ষা। তাঁদের জীবনের বিন্দুমাত্র দাম নেই। যেখানে সেখানে লাশ, হিন্দুদের পিটিয়ে লাশ গাছে ঝুলিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। এই হচ্ছে রাষ্ট্র?
অবৈধ ইউনুস সরকারের শাসনামলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ধারাবাহিক হামলা, নির্যাতন ও রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে—রাষ্ট্র কি তাদের নিরাপত্তা দিতে পারছে? নাকি এসব ঘটনা নীরব প্রশ্রয়েই ঘটে চলেছে?
ভারত তীব্র নিন্দা জানায় ঘটনাগুলোর। এবং সাবধান করে অন্তর্বর্তী সরকারকে।
অন্ধ্রপ্রদেশের উপ-মুখ্যমন্ত্রী পবন কল্যাণও দীপু হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতের রাজনৈতিক ও মানবাধিকার মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।
অবৈধ ইউনুস সরকারের আমলে সংখ্যালঘু হত্যা যেন ‘রুটিন ঘটনা’। মৃত্যুগুলো দুর্ঘটনা নয়, এগুলো ধারাবাহিক নির্যাতনের অধ্যায়।
এখন দেশে দুই ধর্মের লোকের একসাথে কাজ করাও রিস্কের। দেখা যাচ্ছে মুসলমান সহকর্মী হিন্দু সহকর্মীকে মেরে ফেলছে। গুলি করেই মেরে ফেলছে, তারপর সাজানো হচ্ছে ভুল করে গুলি ছুঁড়েছে! এই অবস্থায় হিন্দুরা কাজকর্ম করবে কীভাবে?
ইউনূস সরকার এগুলোকে সাম্প্রদায়িক হিংসা মানতে নারাজ।
এই নির্যাতনের ঘটনায় ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে প্রতিবাদ হয়েছে।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর দীর্ঘদিন ধরে চলা নির্যাতন, হামলার ঘটনায় মঙ্গলবার কলকাতা প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
ময়দান টেন্টে অনুষ্ঠিত হয় এই সম্মেলন। এই সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে অত্যাচারের ভয়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া হিন্দুরা তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন।
তাঁদের নিজেদের কষ্টের কথা বলেন।
এদিন, সম্মেলনের আয়োজন করে সনাতনী সংসদ; সহযোগিতায় ছিল লেখক-শিল্পী সমন্বয় সমিতি।
সম্মেলনে সনাতনী সংসদের সভাপতি গোবিন্দ দাস, বাংলাদেশে নির্যাতিত বাপ্পাদিত্ত বসু, ১৯৬৫ ও ১৯৭১ সালের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী প্রাক্তন ভারতীয় নৌসেনা সদস্য বিমল কুমার চন্দ্র, বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পান্ডা-সহ বিভিন্ন সমাজকর্মী এবং বিশিষ্টজনেরা ছিলেন।
ইউনূস জঙ্গী সরকারের আসল রূপ তাঁরা তুলে ধরেন।
সনাতনী সংসদের সভাপতি গোবিন্দ দাস বলেন, “দেশভাগের পর থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান এবং বর্তমান বাংলাদেশে ধারাবাহিকভাবে হিন্দু নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। সাম্প্রতিক সময়ে তা আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। রাষ্ট্রীয় মদতে জঙ্গি ও জিহাদি শক্তি বাংলাদেশকে হিন্দুশূন্য করার পরিকল্পনা করছে—এই আশঙ্কা আজ আর কল্পনা নয়, বাস্তব অভিজ্ঞতা।”
বাংলাদেশের নির্যাতিত হিন্দু প্রতিনিধি বাপ্পাদিত্ত বসু বলেন, “আমি জানি না আজকে এই কথা বলতে গিয়ে বাংলাদেশে কোনো হিন্দু পাড়া পুড়িয়ে দেওয়া হবে কিনা, স্বাধীনতার প্রতীকগুলোর উপর আঘাত আসবে কিনা। তবুও আমাদের কথা বলা দরকার।”
তিনি জানান, তাঁকে এবং তাঁর সঙ্গে আরও একজনকে আনসারউল্লা জঙ্গি গোষ্ঠীর তরফে খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
বাপ্পাদিত্ত বসু আরও বলেন, “গত ১৩ মাসেরও বেশি সময় ধরে আমি সূর্যের আলো পর্যন্ত দেখতে পারিনি। আমার বাড়িতে হামলা হয়েছে, আমাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। গোপনে লুকিয়ে থাকতে হয়েছে দিনের পর দিন। মানসিকভাবে আমি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত। আমার চোখের দৃষ্টিশক্তিও প্রায় নষ্ট হয়ে যাওয়ার উপক্রম।”
তিনি জানান, ভারতীয় হাই কমিশনের সহযোগিতায় তিনি একটি মেডিকেল ভিসা নিয়ে ভারতে আসতে পেরেছেন।
তবে তাঁর আবেদন, “যতদিন না বাংলাদেশে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে এবং হিন্দুরা নিরাপদে, শান্তিতে বসবাস করতে পারছে, ততদিন আমাদের ভারতে নিরাপদে থাকার অনুমতি দেওয়া হোক। আমরা আমাদের দেশে ফিরতে চাই, কিন্তু শান্তিপূর্ণ স্বাভাবিক জীবন ছাড়া ফেরা সম্ভব নয়।”
মাদ্রাসাগুলো তো জঙ্গীদের আখড়া। সেকথাও তুলে ধরেন তিনি। মিথ্যাবাদী সরকার যে বলছে দেশে জঙ্গী নেই, এও বলেন।
বাপ্পাদিত্ত বসু বলেন, “নতুন সরকার আসার পর জেএনপি-র এক শীর্ষ নেতা মুক্তি হারুনি জাহাদের মতো কুখ্যাত জঙ্গিনেতাদের মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। একাধিক মাদ্রাসা থেকে জেহাদি জঙ্গিদের গ্রেফতার করা হলেও সরকার দাবি করছে বাংলাদেশে কোনো জঙ্গি নেই—সবই নাকি মিডিয়ার সৃষ্টি।”
তাঁর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসাগুলি জেএনপি ও হরকত-উল-জেহাদের নেতাদের দ্বারা পরিচালিত সেলের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং এই জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে পাকিস্তানের আইএসআই-এর স্পষ্ট যোগসূত্র রয়েছে।
তাঁরা আবেদন জানান, হিন্দুদের উপর ঘটে চলা নির্যাতনের ঘটনাগুলোয় যেন আন্তর্জাতিক তদন্ত হয়, তাঁরা যেন শান্তি পান। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক আর ততদিন অবধি ভারতে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তা যেন নিশ্চিত করা হয় তাই আবেদন জানান।
