ঢাকা: টোকাই এনসিপির ভেতরে মতবিরোধ চরমে পৌঁছেছে এবং তা প্রকাশ্যে বিভক্তির রূপ নিচ্ছে।

মূলত জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনি আসন সমঝোতা ঘোষণার পর থেকেই অসন্তোষ দানা বাঁধতে শুরু করেছে। তবে জামায়াত যে আদর্শের এনসিপিও একই আদর্শের।

৫ আগস্ট জঙ্গী আন্দোলন কি তাহলে এরা উদ্দেশ্য না জেনেই করেছিলো? নাকি লাভ হবার পর দল ছাড়া?

এনসিপি থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৪ জন কেন্দ্রীয় নেতা পদত্যাগ করেছেন।

যারা এখনো আছেন দলে তাঁরাও প্রায় নিষ্ক্রিয়।

পদত্যাগ করা নেতাদের মধ্যে রয়েছেন- তাসনিম জারা, তাজনূভা জাবীন, ফারহাদ আলম ভূঁইয়া, আরিফ সোহেল, আজাদ খান ভাসানী, আসিফ নেহাল, মীর হাবিব আল মানজুর, মারজুক আহমেদ, মীর আরশাদুল হক, খালেদ সাইফুল্লাহ, খান মো. মুরসালীন, মুশফিক উস সালেহীন, ওয়াহিদুজ্জামান ও আল আমিন টুটুল।

এবার জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় সদস্য সৈয়দা নীলিমা দোলা।

আজ শনিবার বিকেলে ফেসবুকে এক পোস্টে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি।

ওই পোস্টে তিনি লেখেন, ‘এনসিপির পক্ষে এখন আর মধ্যপন্থী রাজনীতির নতুন পথ সৃষ্টি সম্ভব নয়। এতদিন আমি এনসিপির সঙ্গে ছিলাম কারণ আমি মনে করেছিলাম, দলটি জুলাই পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্কারের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে।

তবে সম্প্রতি দলটির নানা সিদ্ধান্তের পর আমার কাছে এটুকু স্পষ্ট, এই দলটি সম্পূর্ণভাবে ডানপন্থী ঘরানায় ঢুকে পড়ছে এবং সেই ধারার রাজনীতিকেই তারা পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে।’

দোলা লিখেছেন, ‘জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির যে নির্বাচন কেন্দ্রিক জোট তা কোনো কৌশলগত জোট নয়, যদি হতো তাহলে এত নেতাকর্মী পদত্যাগ করতো না। দলের নেতাকর্মীদের চোখে ধুলো দিয়ে এই জোট করা হয়েছে এবং মনোনয়ন দেওয়ার নাম করে তীব্র প্রতারণা করা হয়েছে।’

তিনি লিখেন, ‘জুলাইয়ের জনতার কাছে এনসিপির অনেক দায় রয়েছে। অভ্যুত্থানের পর এনসিপির ওপর বাংলাদেশের মানুষ যে বিশ্বাস ও আস্থা রেখেছিল তা বিগত কয়েক মাসে চূর্ণবিচূর্ণ হয়েছে। আমি মনে করি আসন্ন কঠিন সময়ে জনতা এনসিপিকে এর সমুচিত জবাব দেবে।’

দোলা আরও লিখেছেন, ‘এনসিপি হাজারো জুলাই শহীদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে রাজনীতি করতে এসেছিল। আমি দলটির নেতাদের বলতে চাই, ধর্মীয় রাজনীতিকে ফ্রন্টে এনে পলিটিক্স খেলার জন্য শহীদেরা জান দেননি। আপনাদের মনে করিয়ে দেওয়া দরকার, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে কোনো ধর্মীয় বিপ্লব বা অভ্যুত্থান হয়নি।’

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *