ঢাকা: শেখ হাসিনার যুগে কঠোর নিরাপত্তা অভিযানে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো কোণঠাসা ছিল। তারা ছিল হাসিনা সরকারের সবচেয়ে কঠোর বিরোধীপক্ষের মধ্যে অন্যতম।
তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনে এসব গোষ্ঠী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
শুধু তাই নয়, কয়েকটি গোষ্ঠী আন্দোলন চলাকালে নাশকতায় জড়িত থাকার কথা প্রকাশ্যে স্বীকারও করেছে।
জঙ্গী আন্দোলন চলাকালে এবং গণঅভ্যুত্থানের পরেও রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য শহরের দেয়ালজুড়ে হিজবুত তাহরীর ও আইএস-সদৃশ পতাকা, স্লোগান ও আরবি লিপি দেখা গেছে। এগুলো নিশ্চয়ই কেউ ভুলে যায়নি।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু মন্তব্য করেছেন দেশের প্রাক্তন তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা মোহাম্মদ আলী আরাফাত।
তিনিও বলেছেন আসলে সেই আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি ছিলো উগ্র ইসলামপন্থী শক্তি।
তিনি দাবি করেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে যা ঘটেছে, তা কোনও সাধারণ গণআন্দোলন নয়, এর মূল চালিকাশক্তি ছিল উগ্র ইসলামপন্থী শক্তি।
তাঁর মতে, এই শক্তিগুলির লক্ষ্য ছিল শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আইনসম্মতভাবে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা।
আরাফাত বলেন, “যারা আজ বাংলাদেশকে অস্থির করে তুলছে, তারা আদর্শগতভাবে ১৯৭১ সালের পাকিস্তানি সেনার সহযোগীদের উত্তরসূরি।”
মোহাম্মদ আলী আরাফাত তীব্র সমালোচনা করেন অন্তর্বর্তী সরকারের।
তিনি বলেন, “সরকার কেবল ক্ষমতা হস্তান্তরের নাটক করছে। নির্বাচন হবে শুধু দেখানোর জন্য। আসল উদ্দেশ্য হল বিএনপি ও তাদের সহযোগীদের হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়া।”
অভিযোগ করেন যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাওয়ালপিন্ডির নির্দেশে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং জামায়াতে ইসলামীর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের সুযোগ করে দিচ্ছে।
তবে নিজেদের আত্মশক্তির কথাও তিনি বলেন।
“বাংলাদেশ দ্রুত ধ্বংসের পথে এগোচ্ছে। রাষ্ট্রের ভিত নড়বড়ে হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমরা এটা হতে দেব না।”
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ আবার সংগঠিত হবে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই চালিয়ে যাবে।
জাতির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে একটি দৃঢ় মন্তব্য করেন, “আওয়ামী লীগ জাতিকে স্বাধীনতার দিকে পরিচালিত করেছিল, এবং আমরা বাংলাদেশকে আবার ‘পূর্ব পাকিস্তান’ হতে দেব না। আমাদের নীতি এবং কূটনীতি ১৯৭১ সালের দৃষ্টিকোণ থেকে তৈরি করা উচিত, আইএসআইয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে নয়।”
