কুড়িগ্রাম: দেশে ফের সাম্প্রদায়িক হিংসা! এবার আক্রান্ত একজন হিন্দু মহিলা জেলাশাসক।

তাঁকে প্রকাশ্যে কুরুচিকর মন্তব্য, হুমকি এবং পদত্যাগের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।

জেলাশাসকের যেখানে নিরাপত্তা নেই, সেখানে সাধারণ হিন্দুদের নিরাপত্তা আর কোথায়?

ঘটনাটি বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম-৩ বিধানসভা কেন্দ্রের।

জামায়াতে ইসলামির এক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ার পরই এই ঘটনা। দলের সমর্থকদের মৌলবাদী দাঁত নখ বেরিয়ে পড়ে।

কুড়িগ্রামের জেলাশাসক (ডিসি) অন্নপূর্ণা দেবনাথকে হুমকির মুখে পড়তে হয়। মনোনয়ন কেন্দ্রের ভিতরেই প্রকাশ্যে তাঁকে লক্ষ্য করে সাম্প্রদায়িক আক্রমণ শুরু হয়। ‘এই ডিসি এখানে থাকতে পারবে না’, স্লোগান তুলে তাঁর অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করতে থাকে জামায়াতীরা।

যদি পদ না ছাড়েন তাহলে জোর করে সরিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।

তাঁকে ‘ইস্কনের সদস্য’ এবং ‘আওয়ামী লীগ ভারতের দালাল’ বলে কটূক্তি করা হয়, যেহেতু তিনি হিন্দু।

উল্লেখযোগ্য যে, কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাহাবুবুল আলম সালেহীর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে দ্বৈত নাগরিকত্ব হওয়ায় তা বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ।

এই ঘটনায় সুযোগ পেয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ নাগরিকত্ব বিষয়/ মনোনয়নপত্র বাতিল বিষয়ে বলেন, এখানে পক্ষপাতিত্ব কিংবা প্রভাবিত হওয়ার সুযোগ নেই। সংক্ষুব্ধ পক্ষ আপিল করতে পারবেন।

মূলত অন্নপূর্ণা একজন হিন্দু সম্প্রদায়ের হবার জন্যে তাঁর ওপর এই দাবড়ানি এসেছে রাজাকারের দোসর জামায়াতিদের।

ভিডিও ফুটেজে দেখা গিয়েছে, মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণার সময় অন্নপূর্ণা দেবনাথ আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ধারা উল্লেখ করেন। সঙ্গে সঙ্গে মনোনয়ন কক্ষের ভিতরে বিশৃঙ্খলা শুরু করে দেয় সমর্থকরা।

গোটা পরিস্থিতিতে তিনি অত্যন্ত আতঙ্কিত।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *