ঢাকা: দেশটা মবের দেশ, খুনের দেশে পরিণত হয়েছে। এখানে কেউ কাউকে মানবতা দেখায় না।
যে দেশে খুনিরাই আইন বানায়, সে দেশে খুনের পর আনন্দ মিছিল করাই তো স্বাভাবিক!
থানায় বসে একজন লোক স্বীকার করছেন তিনি থানা পুড়িয়েছেন, একজন পুলিশ অফিসারকে জ্বালিয়ে মেরেছেন। ক্যামেরার সামনে, টেবিল চাপড়িয়ে, চিৎকার করে বলছেন তারা সরকার গঠন করেছেন, পুলিশ তাদের প্রশাসনের লোক।
পুলিশ অফিসার সেখানে বসে শুনছেন। কোনো গ্রেফতার নেই। পরে যখন সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল হলো, চারদিক থেকে চাপ এলো, তখন গিয়ে একদিন পর তাকে গ্রেফতার করা হলো। আর তারপর?
তার সমর্থকরা রাস্তায় নামলো, থানা ঘেরাও করলো, ঢাকায় বিক্ষোভ হলো। পরদিন সকালে জামিন। দুপুরে আনন্দ মিছিল। এটাই এখন বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ আজ কার হাতে ? বাংলাদেশ আজ পাকিস্তানের হাতে। এমন বাংলাদেশ তৈরি হয়েছিলো? ধিক্কার জানালেন শেখ হাসিনা।
মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় ঘটেছে। দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রথমসারির এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেছেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ধর্মীয় উগ্রবাদ এবং ‘মব মেন্টালিটি’ ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে, যা রাষ্ট্রের সরাসরি ব্যর্থতাকে তুলে ধরছে।
হিন্দুদের ওপর হামলা এবং সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে চিন্তিত তিনি।
হাসিনার দাবি, ইউনূস প্রশাসন নিজেদের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক ব্যর্থতা থেকে সাধারণ মানুষের নজর ঘোরানোর জন্য পরিকল্পিতভাবে ভারত-বিদ্বেষী মনোভাব উসকে দিচ্ছে।
হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে ভারতীয় হাই কমিশনের সামনে উগ্রপন্থীদের বিক্ষোভ পরিকল্পিত চক্রান্ত।
প্রসঙ্গত, ইউনুসের তথাকথিত সরকার যে শুধু অদক্ষ আর অযোগ্য তা নয়, তারা সম্পূর্ণভাবে অবৈধ।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে সারাদেশে যে দাঙ্গা সংগঠিত হয়েছিল, যেখানে শত শত মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, সরকারি সম্পত্তি পোড়ানো হয়েছে, পুলিশ সদস্যদের হত্যা করা হয়েছে, সেই দাঙ্গা ছিল সুপরিকল্পিত।
