বিদায়ী বছরের শেষ দিনের আগের দিন ৩০ ডিসেম্বর লিখেছিলাম- “১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে প্রচন্ড সংশয়; নির্বাচন না হলে বিএনপি’র ক্ষতি, কিন্তু লাভ জামায়াতের। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও আওয়ামীলীগকে বাইরে রেখে নির্বাচন করাকে মেনে নিচ্ছেনা।”

আজ নতুন বছরের অর্থাৎ জানুয়ারির ৯ তারিখে এসে বলছি- আগামি ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কোন সম্ভাবনাই দেখছিনা। কারণ নির্বাচন কমিশনের তফশিল অনুযায়ী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য যে যে পরিবেশ, প্রস্তুতি থাকা দরকার তার কোন কিছুই দেখা যাচ্ছেনা। আমি অন্তত দেখছিনা। আর ১২ ফেব্রুয়ারি না হলে কবে হবে সেটিও নিশ্চিত নয়।

কারণ রমজান, এসএসসি, এইচএসসি পরীক্ষা রয়েছে। এর সবকিছুই বাংলাদেশের নাগরিকরা নিশ্চয়ই বেশ ভালোভাবে বুঝতে পারছেন। নির্বাচনের মূল স্টেকহোল্ডার কারা? নিশ্চয় রাজনৈতিক দল ও যারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, তারাইতো।

কিন্তু অন্যতম স্টেকহোল্ডার আওয়ামীলীগের অংশগ্রহণ ছাড়া যেই বিএনপির সবচেয়ে বেশি প্রচার প্রচারণা থাকার কথা ছিল তা কি আছে? এমনকি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারি, একাত্তরের খুনী-লুটপাটকারি –নারী নির্যাতনকারি, হিন্দুদের নির্বিচারে হত্যাকারি দল হিসেবে পরিচিত জামায়াতে ইসলামীরও কি তেমন কোনো নির্বাচনী প্রচারণা আছে?

মাঠে-ঘাটে, পাড়ায়- মহল্লায় কি নির্বাচনী কোন পরিবেশ দেখতে পাচ্ছেন আপনারা? দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বলতে কিছু আছে ? শুধু র্যা ব-পুলিশ-বিজিবি-আনসার আর সশস্ত্র বাহিনী রাস্তাঘাটে চলাচল করলেই আইনশৃঙ্খলা আছে বলা যায়? যেকোন পাগলেও তা বলবেনা নিশ্চয়।

বিএনপির কান্ডারি তারেক রহমান বা তারেক জিয়া মাত্র ১৭ বছর লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে পলাতক থাকার পর দেশে ফিরেছেন ২৫ ডিসেম্বর । খুবই ভালো কথা। তিনি তাঁর জন্মভূমিতে ফিরবেন সেটাই স্বাভাবিক। আর হ্যাঁ তিনি ফিরলেন এক বিশাল শোডাউন করে। অবশ্য শো-ডাউনতো হবেই।

কারণ এতদিন পরে মি: টেন পার্সেন্ট ফিরেছেন দেশে এই চরম রাজনৈতিক সংকটের সময়ে। সুতরাং তারতো একটি আলাদা মেজাজ আছে, তাইনা ?

স্বাভাবিকভাবেই একটি রাজনৈতিক দলের সবচেয়ে গুরুত্বপ্রাপ্ত ও প্রধান নেতা দেশে ফিরেছেন তার জন্য সেই দলের নেতা-কর্মীদের আবেগ-উচ্ছাসতো থাকবেই।

শুধু বিএনপি দলীয় কেন, দেশের সাধারণ মানুষেরও প্রচন্ড আগ্রহ ছিল – এটিতো অস্বীকার করার উপায় নেই।

দেশে ফেরার পর এক বিশাল সমাবেশে কয়েকটি বিদেশী প্রচারমাধ্যমগুলোর ভাষ্যমতে “দেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী” তারেক জিয়া বা রহমান যা বললেন তা হলো- ‘ আই হ্যাভ এ প্ল্যান ফর দ্য পিপল অব মাই কান্ট্রি’। কিন্তু কি তাঁর সেই প্ল্যান তা কিন্তু বলেননি। এই দেশবাসী গভীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে সেই প্ল্যান জানার জন্য।

আমেরিকার নিপীড়িত মানুষতো বটেই বিশ্বের নিপীড়িত মানুষের বিপ্লবী নেতা, মুক্তির দিশারী মার্টিন লুথার কিং এর কথা নকল করে “ আই হ্যাভ এ ড্রিম” কথাটি বললেইতো হলোনা মি: রহমান। সেজন্য দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ-তিতিক্ষা, জনগনের প্রতি দায়বদ্ধতা, নীতি-সততা ও আদর্শে অবিচল থাকার যে দৃঢ়তা তা দেখেছে কি এই বাংলার জনগণ আপনার রাজনৈতিক জীবনে?

যদি এ কথার উত্তর খুঁজতে যায় দেশবাসী তাহলে তার উত্তর কি হবে তা পাঠকদের ওপরই ছেড়ে দিলাম। শুধু একটিই হতে পারে উত্তর- সেই ওয়ান ইলেভেনের সময়ে সেনাসমর্থিত বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার, কারাবাস ও পরে “ রাজনীতি করবোনা” এই মুচলেকা দিয়ে লন্ডনে চলে যাওয়া। সেখানে মাত্র ১৭ টি বছর অত্যন্ত বিলাসী জীবন-যাপন শেষে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরা।

সেদিনের সেই সুবিশাল সমাবেশে বেশ মার্জিত ও পরিপক্কভাবে স্বল্পভাষনে দেশের জন্য ‘পরিকল্পনা’ আছে জানিয়ে তারেক রহমান তার বক্তব্যে বারবার দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়টি তুলে ধরেছেন, বলেছেন, “যেকোনো মূল্যে উসকানির মুখে শান্ত থাকতে হবে। আমরা দেশে শান্তি চাই”।

ধর্ম, শ্রেণি, পেশা, বয়স, লিঙ্গ নির্বিশেষে দেশের সবার জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান জানান তিনি। বাংলাদেশের রাজনীতিতে একসময়ে অত্যন্ত প্রভাবশালী বা ছায়া সরকারের কেন্দ্র হিসেবে পরিচালিত ‘ হাওয়া ভবন’ এর কর্তাব্যক্তি এই তারেক রহমান বললেন, “আমরা যেকোনো ধর্ম, শ্রেণি, দলের মানুষ হই – আমাদের নিশ্চিত করতে হবে আমরা শান্তি শৃঙ্খলা ধরে রাখবো। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যেন মানুষ নিরাপদে থাকতে পারে, যেন যেকোনো শ্রেণি, পেশা, ধর্মের মানুষ নিরাপদ থাকতে পারে”।

সে যাই হোক, আপাতত জঙ্গী ইউনুস সরকারের নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগের আনুষ্ঠানিক অনুপস্থিতিতে দেশবাসীর কাছে এই মুহূর্তে ‘নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো’ টাইপের একটি রাজনৈতিক দল খুব বেশি প্রয়োজন। কারণ একাত্তরের ঘৃণিত শত্রু জামায়াতে ইসলামীর নানা ষড়যন্ত্র ও আরো হত্যাযজ্ঞের নীলনকশা প্রণয়নকারি দলকে এদেশের মানুষ সরকার পরিচালনার ড্রাইভিং সীটে দেখতে চায়না। কারণ জামায়াত যদি আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের ড্রাইভিংয়ের দায়িত্ব পেয়ে যায় তাহলে বাংলাদেশ আর বাংলাদেশ থাকবেনা।

গাড়ির বা ড্রাইভারের অনানুষ্ঠানিক হেলপারের দায়িত্ব পেয়েই এই ঘাতকের দল যে হাল করেছে দেশের তাতে আর কারো বুঝতে বাকি নেই।

নির্বাচন কমিশনের বডি ল্যাংগুয়েজ ‌দেখেই বোঝা যায় যে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হবেনা। কিছু কিছু ক্ল্যারিকেল জব তারা করছে মাত্র। যা একেবারেই লোক দেখানো। কারন “আমেরিকান ডিপষ্টেটের বাংলাদেশী মেটিকুলাস ডিজাইনার” জঙ্গী ইউনুসগং বিশ্ব রাজনৈতিক ও বাংলাদেশের জনগণের মানসিক অবস্থা বুঝে যেনতেন ভাবে একটি নির্বাচন দিয়ে সেইফ এক্সিট চাইছে। এজন্য তারেক রহমানকে দেশে আসার সুযোগই শুধু দেয়নি ইউনুস, সেই সাথে তার ও তার পরিবারের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার জন্য সব ধরনের প্রটোকলের বাইরে গিয়ে যা যা করা হচ্ছে তা নিশ্চয়ই কোনভাবে এই মুহূর্তে তারেক জিয়া পেতে পারেন না।

আর এসব দেখে ওদিকে জামায়াতে ইসলামী চরমভাবে ক্ষেপে যাচ্ছে। যদিও এখন পর্যন্ত মানে ৯ জানুয়ারি অবধি তেমন কোন সরাসরি বাক্যবান ছুড়ে দেয়নি তারেক রহমানের বিরুদ্ধে। তবে ভেতরে ভেতরে তারা সরকারের অভ্যন্তরে তাদের অসন্তোষের কথাটি জানাতে বাকী রাখেনি। হয়তো আর কয়েকদিনের মধ্যেই তারা প্রকাশ্যে ড. ইউনুস ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় ও কাজেকর্মে আক্রমণ শুরু করলো বলে।

এরই মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের অনুপস্থিতিতে প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ ও হলগুলোতে কথিত নির্বাচনের মাধ্যমে জামায়াতের ক্যাডারভিত্তিক ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির দখল করে নেয়। এরপর একে একে জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পর সবশেষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনেও শীর্ষ নেতৃত্বসহ বেশিরভাগ পদে জয়ী হয়েছেন শিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা।

তার মানে জামায়াতের হাতে এখন দেশের ৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ। শুধু এই ৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ই নয়, এখানকার শিবির ক্যাডারদের পরিবার ও তাদের সেসব এলাকাতেও এই জামায়াত-শিবির প্রবল প্রভাব রাখছে ও রাখবে। এটাই স্বাভাবিক।

একটি রেজিমেন্টাল দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী তাদের কাজ ঠিকই করে নিচ্ছে। বিগত ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের দেশের ফেরা, বিশাল সমাবেশ, তারেক রহমানের প্রতি ইউনুস সরকারের নানা সুবিধা-প্রটোকলের অতিরিক্ত সুবিধা দেয়া, সেনাবাহিনীর একটি বড় অংশসহ প্রশাসনের অনেকেই তারেক বন্দনায় মেতেছেন। এটিকে জামায়াত কোনভাবেই ভালো চোখে দেখছেনা।

শুধু জামায়াত কেনো, যে কোন সাধারণ মানুষই এর সমালোচনা করবে ও করছে ইতিমধ্যেই। দেশবাসী আওয়ামীলীগের অনুপস্থিতিতে বিকল্প হিসেবে এখন বিএনপিকেই দেখছে। কারণ ইউনুসীয় জগদ্দল পাথরটিকে মাথা থেকে সরাতে চাইছে দেশের সাধারণ মানুষ।

মানুষের মধ্যে আপাতত একটিই চিন্তা কোনভাবে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের কাছে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব হস্তান্তর করা। আর সেক্ষেত্রে এখনো পাল্লা ভারি বিএনপির দিকে। এসব দেখে জামায়াতের মাথা খারাপ হয়ে যাবার দশা হয়েছে।

কারণ নির্বাচন ঠিকভাবে হলে বিএনপি এককভাবে সরকার গঠনের সুযোগ পেয়ে যাবে এখনকার পরিস্থিতি যদি বজায় থাকে। সেক্ষেত্রে জামায়াতের এতদিনের লালিত স্বপ্ন বা নীলনকশা কাজে লাগবেনা। কারণ আনুষ্ঠানিক ক্ষমতাই যদি ভোগ করতে না পারে তারা তাহলেতো কোন লাভ হলোনা।

তাই তারা বিএনপির কাছে ভেতরে ভেতরে প্রস্তাব দিয়েছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন না করে আপসে সীট ভাগাভাগি করে একটি ‘জাতীয় সরকার’ টাইপের কিছু একটা করার। এখনো সে প্রস্তাবে রাজী হয়নি বিএনপি। শেষ পর্যন্তও যদি রাজী না হয় বিএনপি তখন জামায়াত আর্মি ও সিভিল ব্যুরোক্রেসির ভেতরে তাদের যে শক্তি রয়েছে সেটিকে প্রয়োগ করে নানা অরাজকতা সৃষ্টি করবে।

তবে যতটুকু বোঝা যাচ্ছে বিএনপি জামায়াতের প্রস্তাবে রাজী হচ্ছেনা। কারণ তারেক রহমান লন্ডনে থাকতে তার দেশে ফেরা নিয়ে তার একক সিদ্ধান্তে দেশে আসা সম্ভব নয় বলেছিলেন। তাই যেসব শক্তি বা উপাদান তাকে দেশে ফিরতে সাহায্য করেছে তাদেরকেও সমঝে চলতে হচ্ছে কোন কোন বিদেশী সংবাদ মাধ্যমের ভাষায় “ ভবিষ্যত প্রধানমন্ত্রী” তারেক রহমানকে।

কিন্তু জামায়াত যদি না চায় বাংলাদেশে নির্বাচন হোক, তাহলে কিন্তু সেটিই হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। কারণ তারা নানাভাবেই দেশে ইতিমধ্যে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করা শুরু করে দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি দিন দিন বাড়ছেই।

হিন্দুদের ওপর আক্রমণ, খুন, জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের কারণে জেলা প্রশাসকের ( নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার) ওপর নানা হুমকি-ধামকি ইত্যাদি। তাতেও না হলে ইনকিলাব মঞ্চের জঙ্গী হাদি’র মত আরো কয়েকজন হাদিকে ফেলে দেয়া জামায়াতের পক্ষে কোন ব্যাপারই না। সারাদেশে বোমা বিষ্ফোরণ, বিএনপি’র নেতাকে এমনকি নিজ দলীয় নেতাকর্মীকে খুন করতেও এরা কসুর করবেনা। হাদিই তার অন্যতম প্রমাণ।

এর আগে তারা গত ২০২৪ এর জুলাই-আগষ্টের কথিত আন্দোলন তাদের পক্ষে নিতে শিবির ক্যাডার আবু সাঈদকে নিজেরাই বেহেশতে পাঠিয়ে দিয়ে তাকে “হিরো” ও “শহীদ” বানালো। আবার প্রয়োজন পড়েছে প্রচন্ড ভারত বিরোধী ও অশ্রাব্য গালিগালাজ দিয়ে শ্লোগান উৎপাদনকারি হাদি’কে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিয়ে তাকে “শহীদ” বানিয়ে ফেললো।

শুধু কি তাই? তারা অত্যন্ত কৌশলে এই হাদি হত্যাকান্ডের সঙ্গে আওয়ামীলীগ-ছাত্রলীগ-ভারতকে ট্যাগ করে নানা রাজনৈতিক ফায়দা লুটেছে ও লুটছে। যার ফলে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হয়েও তারেক রহমানকে হাদি’র মত এক জঙ্গীর কবরস্থানে যেতে হয়।

যেতে হয় রংপুরে জঙ্গী আবু সাঈদের কবরে। ভাষণে এসব জঙ্গীদের জন্য শোক প্রকাশ করতে হয়। কারণ এই সময়ে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা বিএনপির কর্নধার তারেক রহমানও এসবের কাছে জিম্মি।

মানে জামায়াতের কাছে বিএনপি এবং তারেকও জিম্মি। হয়তো বিএনপির নেতাকর্মীরা এ বিষয়টি স্বীকার করবেননা।

শুধু তাই নয়, জামায়াতের কথা না শুনলে ইউনুস সরকারের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে আদালতে চ্যালেঞ্জ করারও হুমকি দিয়ে রেখেছেন জামায়াতের নেতা ব্যারিষ্টার শিশির মুনীর। নিয়মানুযায়ী নির্বাচনী তফশিল ঘোষনার পর থেকে সব প্রশাসন থাকবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে।

কিন্তু তাতো দেখছিনা আমরা। আর নির্বাচন কমিশনের মধ্যেও জামায়াত তার লোকজনকে ইতিমধ্যেই ফিট করে রেখেছে। পরিস্থিতি জামায়াতের অনুকুলে না থাকলেই কোন প্রক্রিয়ায় নির্বাচন বানচাল করতে হবে সে পথও তাদের ঠিক করা আছে।

সুতরাং সবকিছু মিলিয়ে এ বিষয়টি স্পষ্ট- আর যাই হোক আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবেনা। আর বাইচান্স যদি নির্বাচন হয়েই যায় তাবে তা হবে একটি পাতানো খেলা। সেই পাতানো খেলার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরো কিছুদিন।

বিএনপি ও তারেক জিয়া বা রহমান (যে নামেই সম্বোধন করা হোকনা কেন মানুষতো একজনই) কি সেই পাতানো খেলায় অংশ নিয়ে নিজের বা দলের অস্তিত্ব বিলীন করে দেবেন?

# নুরুল ইসলাম আনসারি: লেখক, প্রাবন্ধিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *