বাংলাদেশে এখন আর “মগের মুল্লুক” নেই। তবে “মবের মুল্লুক” আছে। আর মবের মুল্লুক চালাচ্ছে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে কুখ্যাত রাজাকার- আলবদর-আলশাসের দল জামায়াতে ইসলামী ও তার ক্যাডার ভিত্তিক ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির।
আর তাতে পুরোপুরি সায় ও আস্কারা দিচ্ছে জঙ্গী সেনা সমর্থিত ড.ইউনুস এর ইন্টেরিম সরকার।
গত বছর ২৩ সেপ্টেম্বর “ইউনুস জামায়াত-জঙ্গীগোষ্ঠী শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজকে নিয়ে ধ্বংসের উন্মত্ত নেশায় মেতেছেন। এই সমাজ ও জাতির পক্ষে নতুন করে সঠিক পথ দেখানো ও মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়ানো ক্রমেই অসম্ভব হয়ে উঠছে”- এ শিরোনামে একটি লেখায় শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজকে কিভাবে ড.ইউনুস ও জামায়াত শেষ করে দিচ্ছে তা লিখেছিলাম।
বিধিবদ্ধ কোন আইন নেই, বিচার নেই । যার যা খুশি তাই করছে এখন দেশটিতে। অবশ্য বলা উচিত জামায়াত-শিবির তাদের যা খুশি তাই করে যাচ্ছে। দেশে আদৌ কোন সরকার আছে বলে মনে হয়না।
জামায়াতে ইসলামী ও তাদের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন যা করছে সেটাই যেন আইন হয়ে গেছে। একসময় আমরা বলতাম-মগের মুল্লুক পেয়েছেন নাকি, যা খুশী তাই করবেন ? এখন সেই মগ নেই। তবে মব আছে। এই মবের রাজত্ব কায়েম করেছে জামায়াত-শিবির।
আবার তারা সদর্পে বলেও বেড়াচ্ছে যে, যেখানে আইন নেই সেখানে নাকি আইন নিজের হাতে তুলে নিতে হয়। আবার এই মব সন্ত্রাসকে কেউ কেউ “ মব জাষ্টিস” বলে স্বীকৃতি দিতে চাইছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ১০ জানুয়ারি আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সাবেক সহকারী প্রক্টর হাসান মোহাম্মদ যেভাবে শিবিরের ক্যাডারদের হাতে নিগৃহীত-লাঞ্ছিত ও মারধরের শিকার হয়েছেন তাতে কোনভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়কে আর বিশ্ববিদ্যালয় বলা চলেনা। এটি জামায়াত-শিবিরের একটি বৃহৎ জঙ্গী ট্রেনিং সেন্টারই বলা চলে।

যারা তার ওপর ন্যাক্কারজনকভাবে হামলা চালিয়েছে সেই ইসলামী ছাত্র শিবির হলো একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে তৎকালীন আলবদর বাহিনীর উত্তরসুরী। আলবদর বাহিনী গঠিত হয়েছিল ইসলামী ছাত্র সংঘের ক্যাডারদের সমন্বয়ে।
যা বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ইসলামী ছাত্র শিবির নামে আত্মপ্রকাশ করে।

শিবির ক্যাডারদের হামলার শিকার হওয়া হাসান মোহাম্মদ নামে ওই শিক্ষকতো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আহ্বানেই পরীক্ষার ডিউটি পালন করতে গিয়েছিলেন ক্যাম্পাসে। তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করলো না কেন? নাকি তাকে শিবিরের হাতে মার দেয়ার জন্যই ক্যাম্পাসে ডেকে নেয়া হয়েছিল?
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কি নৈতিক ও আইনগতভাবে এই হামলার দায় থেকে রেহাই পেতে পারে? যদিও সবশেষ খবরে জানা গেছে শনিবার রাত আনুমানিক ৯ টার দিকে চবি প্রক্টরের গাড়িতে করে তাকে ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে দেয়া হয়েছে।
তার ওপর হামলাকারি সবাই শিবিরের ক্যাডার। এরা বলছে- ক্যাম্পাসে তিনি আওয়ামী ও বামপন্থী শিক্ষকদের রাজনৈতিক সংগঠন হলুদ দলের একাংশের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ২০২৪ এর জুলাই-আগষ্টে তিনি নাকি সরাসরি হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাই যদি হতো তাহলেতো এতদিনে এই শিক্ষকের জেলে থাকার কথা ছিল। কিন্তু তাতো হয়নি।
শনিবার গভীর রাত অবধি এই শিক্ষক নিগৃহীত ও লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় শিক্ষকদের কোন সংগঠন কোন ধরনের বিবৃতি বা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বলে কোন খবর চোখে পড়েনি আমার।
শিক্ষকদের সংগঠনগুলো এতটাই মেরুদন্ডহীন হয়ে পড়লো? নাকি পদ-পদবী নিয়ে তারা এতবেশি তেল মালিশে ব্যস্ত যে এ ব্যাপারে মাথা ঘামানোর সময় নেই তাদের।
গত ২০২৪ এর ৫ আগষ্টের পর থেকেই আমরা সারা দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিবিরের দখলে যেতে দেখেছি। আর অনেক শিক্ষককে লাঞ্ছিত এমনকি গলায় জুতার মালা পড়িয়ে ঘুরানো হয়েছে। যা করেছে শিক্ষার্থী নামের কতগুলো জঙ্গী। কিন্তু প্রশাসন এর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নেতা তথা শিবিরের দাবি অনুযায়ী এই শিক্ষক যদি কোনো আইনবিরোধী কাজ করেও থাকেন তাহলে তার তদন্ত ও শাস্তি দেয়ার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। আর কোন ফৌজদারি অপরাধ করলে তার শাস্তি দেওয়ার দায়িত্ব আদালতের। কিন্তু ছাত্র নামধারী কোন ক্যাডারের কি সেই অধিকার আছে?
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র শিবির যে নৈরাজ্য শুরু করেছে, তার শেষ কোথায়?বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উচিত ক্লাস-পরীক্ষা বাদ দিয়ে বসে থাকা।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও শালিশ কেন্দ্র (আসক) এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, মব সন্ত্রাসে হামলা, হত্যা ইত্যাদি ২০২৪ এর চেয়ে ২০২৫ এ অনেক বেড়েছে। আসকের হিসাব অনুযায়ী ২০২৫ এর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মব সন্ত্রাসে কমপক্ষে ১৯৭ জন নিহত হয়েছেন। ২০২৪ সালে মব সন্ত্রাসের শিকার হয়ে নিহত হয়েছিলেন অন্তত ১২৮ জন। অন্তর্বর্তী সরকারের এই সময়কালে কমপক্ষে ২৯৩ জন মব সন্ত্রাসের শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন।
আসকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মব সন্ত্রাসের শিকার হয়ে ২০২৫ সালে ঢাকা জেলায় সর্বাধিক ২৭, গাজীপুরে ১৭, নারায়ণগঞ্জে ১১, চট্টগ্রামে ৯, কুমিল্লায় ৮, ময়মনসিংহে ৬, বরিশালে ৬, নোয়াখালীতে ৬, গাইবান্ধায় ৬, শরীয়তপুরে ৬, লক্ষ্মীপুরে ৫, সিরাজগঞ্জে ৫, টাঙ্গাইলে ৫, নরসিংদীতে ৪, যশোরে ৪ জনসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় মব সন্ত্রাসে কমপক্ষে ১৯৭ জন নিহত হয়েছেন।
আসকের প্রতিবেদনে মব সন্ত্রাস, বিচারবহির্ভূত হত্যা, হেফাজতে মৃত্যু, সংখ্যালঘু নির্যাতন, রাজনৈতিক সহিংসতায় হত্যা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতাসহ নানা ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
আসক বলেছে,‘দেশে নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি জনগণের মধ্যে আশা ও প্রত্যাশা সৃষ্টি হলেও বাস্তব পর্যায়ে বৈষম্য, নিপীড়ন ও দমন-পীড়নের চিত্রে আশানুরূপ ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়নি। বরং কিছু ক্ষেত্রে মানবাধিকারের সামগ্রিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে বলে লক্ষ্য করা যায়।
এই সময়ে মুক্তিযুদ্ধসহ বাংলাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ভাস্কর্য ও স্থাপনায় ভাঙচুর ও অবমাননার ঘটনা ঘটেছে। বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরেও বারবার ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এসব কর্মকাণ্ড বাঙালি জাতিসত্তা, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত জাতীয় স্মৃতিচিহ্নসমূহের প্রতি গুরুতর অবমাননার সামিল।’
আসকের প্রতিবেদন নিয়ে বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেছেন, মব সন্ত্রাসসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের নানা ঘটনা কমাতে না পারা এ সরকারের ব্যর্থতা হিসেবেই দেখতে হবে। তাদের ব্যর্থতার সার্বিক প্রতিফলন হিসেবেই এসব ঘটেছে।
২০২৫ সালজুড়ে মব সন্ত্রাস আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে বলে আসকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। আসক বলেছে,‘কোনো ধরনের প্রমাণ, তদন্ত বা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে, সন্দেহ, গুজব সৃষ্টি করে মানুষকে মারধর ও হত্যা করা হয়েছে। তৌহিদি জনতার নামে বেআইনিভাবে মব তৈরি করে শিল্প-সংস্কৃতি কেন্দ্র ভাঙচুর, বাউল সম্প্রদায়ের ওপর হামলা—এমনকি কবর থেকে তুলে লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটে।

মুক্তিযোদ্ধাসহ বিরুদ্ধ মতের মানুষকে নানাভাবে হেনস্থা করার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় অনেক ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিষ্ক্রিয়তা এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে উদাসীনতার প্রবণতা লক্ষ করা গেছে।’
২০২৫ সালে কমপক্ষে ১০৭ জন দেশের বিভিন্ন কারাগারে মারা গেছেন। এর মধ্যে ৬৯ জন হাজতি এবং কয়েদি ৩৮ জন। সারা দেশের কারাগারগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মারা গেছেন ৩৮ জন এবং এরপর রয়েছে গাজীপুর, যেখানে ৭ জন মারা গেছেন। এ ছাড়া বাকি মৃত্যুগুলো হয়েছে দেশের অন্যান্য কারাগারে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে দেশের কারাগারসমূহে ৬৫ জনের মৃত্যু ঘটেছিল। যার মধ্যে হাজতি ৪২ এবং কয়েদি ছিলেন ২৩ জন।
১৪ জুন ২০২৫ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ঢাকা জেলার সাভার এলাকার বিরুলিয়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান সুজনের (৪৫) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কারা কর্তৃপক্ষ এটিকে আত্মহত্যা বললেও আসকের কাছে পরিবারের দাবি অনুযায়ী তিনি হৃদরোগে ভুগছিলেন এবং কারাগারে যথাযথ চিকিৎসা পাননি। পাশাপাশি তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন বলে পরিবার মনে করে না।
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে সাবেক শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন জেল হেফাজতে থাকাকালীন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ আউটপোস্টের ইন্সপেক্টর মো. ফারুকের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁকে আগের দিন হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ২৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা ২০ মিনিটে তিনি মারা যান।
তবে মৃত্যুর পর একটি বিষয় জনপরিসরে তীব্র বিতর্কের জন্ম দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবিতে দেখা যায়, মৃত্যুর পরও তার হাতে হাতকড়া পরানো অবস্থায় তাকে বহন করা হয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠন আসকের তথ্যানুযায়ী ২০২৫ সালে কথিত বন্দুকযুদ্ধ বা ক্রসফায়ারেরএর নামে বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনাও অব্যাহত ছিল।
আসকের তথ্য সংরক্ষণ ইউনিটের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কমপক্ষে ৩৮ জন বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনা সংঘটিত হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে, নির্যাতনে, কথিত ‘গুলিতে’ বা ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নামে। বছরের বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত এসব ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে বিচারিক প্রক্রিয়া এড়িয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগ একটি চলমান মানবাধিকার সংকট হিসেবে বিদ্যমান রয়েছে।
২০২৫ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক সংঘটিত বিচারবহির্ভূত হত্যার ৩৮টি ঘটনার মধ্যে শারীরিক নির্যাতন, যৌথ বাহিনীর হেফাজতসহ তথাকথিত ‘গুলিতে’ বা বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন ২৬ জন। এ ছাড়া কমপক্ষে ১২ জন দেশের বিভিন্ন থানায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যুবরণ করেছেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন ২১ জন।
২০২৫ সালে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও আইনি নিপীড়নের ঘটনা একটি উদ্বেগজনক ধারায় পৌঁছেছে বলে মনে করে আসক।আসকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে অন্তত ৩৮১ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্বারা নির্যাতন, হয়রানি বা হুমকির শিকার হয়েছেন অন্তত ২৩ জন সাংবাদিক। প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন ২০ জন।
প্রকাশিত সংবাদ বা মতামতকে কেন্দ্র করে মামলার সম্মুখীন হয়েছেন কমপক্ষে ১২৩ জন সাংবাদিক। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সরাসরি হামলার শিকার হয়েছেন ১১৮ জন সাংবাদিক। এ সময়কালে দুর্বৃত্ত কর্তৃক হত্যার শিকার হয়েছেন ৩ জন সাংবাদিক এবং দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে রহস্যজনকভাবে ৪ জন সাংবাদিকের লাশ উদ্ধারের ঘটনা ঘটে।
প্রতিষ্ঠানটির মতে ‘এ সময়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হুমকির মধ্যে পড়েছে। গণমাধ্যমের ওপর বাংলাদেশের ইতিহাসের জঘন্যতম হামলা হয়েছে ১৮ ডিসেম্বর। এ দিন রাতে একদল প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ভবনে নজিরবিহীনভাবে ভাঙচুর, লুটতরাজ ও আগুনসন্ত্রাস চালায়। এই হামলার ফলে সেখানে কর্মরত সংবাদকর্মীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়েন।
এমনকি হামলার সময় ফায়ার সার্ভিসের কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনাও ঘটে, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। এর ফলে পত্রিকা দুটির ইতিহাসে মুদ্রিত ও অনলাইন সংস্করণ এক দিনের জন্য বন্ধ রাখতে হয়।’
ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতন সম্পর্কে আসক জানায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, ভয়ভীতি, লুটপাট, আগুন ও প্রতিমা ভাঙচুরের মতো একাধিক সহিংস ঘটনা ঘটেছে।

এই বছর হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর কমপক্ষে ৪২টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলাসমূহে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৩টি বাড়িঘর, অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে ৩৬টি বসতঘরে। এ ছাড়া ৪টি মন্দিরে হামলা, ৬৪টি প্রতিমা ভাঙচুর, ৯টি জমি দখলের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১ জন, আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৫ জন।
২০২৫ সালে মব তৈরি করে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে। কখনো এক বা একাধিক ব্যক্তির ওপর হামলা, পুরো সম্প্রদায়ের ওপর হামলা করে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠনের মতো ঘটনা ঘটে।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মণীন্দ্র কুমার নাথ বলেন, সংখ্যালঘুদের অধিকারকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হয়নি সরকারের কোনো স্তর থেকে; বরং সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়নকে উপেক্ষা করা হয়েছে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
আসকের সিনিয়র সমন্বয়কারী আবু আহমেদ ফয়জুল কবীর বলেন, বছরের বিভিন্ন সময়ে মব সন্ত্রাস, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা সমাজে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, নারীর চলাচল, পোশাক ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিতর্ক নারীর মৌলিক অধিকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়; বরং মানবাধিকার সুরক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও সহনশীলতার সংকটের প্রতিফলন।
এখনকার এই মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র শিবির ছাড়া কারো সাহস নেই এই অন্যায় করার। ক্ষমতার কী চমৎকার ব্যবহার! একবার ভাবুনতো! চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যে শিক্ষককে আজকে হেনস্থা করলেন, কিংবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক অধ্যাপককে যারা কয়েক সপ্তাহ আগে হেনস্থা করলেন, যারা এই কাজ করল তাদের পরিচয় মানুষ জানে।
এটিও ঠিক যে সমাজে কোন জুলুম চিরস্থায়ী হয় না। তারও শেষ পরিণতি অপেক্ষা করছে।
# নুরুল ইসলাম আনসারি: লেখক, প্রাবন্ধিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
