ঢাকা: ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকে জ্বলছে গোটা বাংলাদেশ। ভারতবিদ্বেষে উসকানি দিচ্ছে অধিকাংশ দলের নেতারা।
ওসমান হাদির মৃত্যু একটা ষড়যন্ত্র। যাতে হিন্দু নিধনে আরো ঘি দেয়া যায়। হাদির মৃত্যুই শুধু নয়, এই দেশে হিন্দুরা বরাবর অত্যাচারিত, নিপীড়িত।
এখন তো দেখা যাচ্ছে, প্রতিদিন কোথাও না কোথাও হিন্দুদের ডাইরেক্ট মেরে ফেলা হচ্ছে। হয়তো শ্যুট করে, নয়তো, পিটিয়ে, পুড়িয়ে, বিষ খাইয়ে।
ময়মনসিংহে পিটিয়ে এবং পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে দীপু দাস নামের হিন্দু যুবককে।
সংখ্যলঘুদের উপর অত্যাচারের প্রতিবাদে সমাজমাধ্যমে বরাবর লিখছেন ‘লজ্জা’ লেখক তসলিমা নাসরিন।
এর আগে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “ইউনুস কি হিন্দুবিদ্বেষী বর্বর মুসলমানদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন?”
এবার আবারো এক ২৮ বছর বয়সী যুবককে বিষ খাইয়ে, পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান তসলিমা নাসরিন।
তিনি ফেসবুকে লিখেছেন:
“ফেনীর দাগনভূঞায় পিটিয়ে ও কুপিয়ে একজন হিন্দু অটোরক্সাচালককে হত্যা করে তাঁর অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায় খুনীরা। গতকালই অর্থাৎ রোববার রাতে দাগনভূঞা হাসপাতালের কাছেই এ ঘটনা ঘটেছে।
নিহত রিকশা চালকের নাম সমীর কুমার দাস (২৮)। তিনি মাতুভূঁইয়া ইউনিয়নের রামানন্দপুর গ্রামের জেলে বাড়ির কার্তিক কুমার দাসের ছেলে।
পুলিশ বিষয়টিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে করছে। দাগনভূঞা থানার ওসি জানান, দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে সমীরকে হত্যা করা হয়েছে।
প্রতিদিন একটা করে হিন্দু হত্যা না করলে জিহাদিদের ক্ষিধে যেন মিটছে না। একমাত্র জিহাদিস্থানেই হিন্দু হত্যার কোনও বিচার হয় না। বিচার হয় না বলেই হিন্দু হত্যা চলতে থাকে। প্রতিদিন”।
এছাড়াও প্রলয় চাকীর ঘটনার প্রতিবাদ করেন তিনি।
“উড়ে এসে জুড়ে বসা জিহাদি সরকার যাকে পছন্দ হচ্ছে না, তাকেই সন্ত্রাসী পাঠিয়ে খুন করছে, নয়তো জেলে ঢোকাচ্ছে । জেলের ভেতর টুপটাপ মরছেও মানুষ।
রোগশোকে মরছে, নাকি মেরে ফেলা হচ্ছে? অধিকাংশের ধারণা মেরে ফেলা হচ্ছে।
সংগীত শিল্পী প্রলয় চাকীকেও জেলে নিক্ষেপ করা হয়েছে গত ১৬ই ডিসেম্বরে। কোনও মামলা ছিল না তাঁর বিরুদ্ধে। তাঁর অপরাধ একটিই, তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ছিলেন।
আওয়ামী লীগ নামে একটি রাজনৈতিক দল ছিল বাংলাদেশে, সেটির প্রচুর সদস্য ছিল, সমর্থক ছিল। নির্বিচারে সবাইকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলাই এখন জিহাদি সরকারের উদ্দেশ্য।
অনেকে প্রাণ বাঁচাতে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। কিন্তু প্রলয় চাকী পালাতে চান নি। তিনি ভেবেছিলেন তিনি কোনও অন্যায় করেননি, তিনি পালাবেন কেন।
খুব সম্ভব নিজেরাই মেরে এখন প্রচার করছে যে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন চাকী। যারা জেলে আছে, তাদের সবাইকে কি এক এক করে এরকমভাবে মেরে ফেলা হবে?
জেলের বাইরের মবসন্ত্রাস আমরা দেখতে পাচ্ছি। জেলের ভেতরের সন্ত্রাস কিন্তু দেখতে পাচ্ছি না। জেলের ভেতর কীভাবে হত্যাকাণ্ড চলে, তা জানতে চাই আমরা। জেলে যারা আছে, তারাও নাগরিক, তাদেরও নাগরিক অধিকার আছে বাঁচার এবং বিচারে পাওয়ার”।
