ঢাকা: বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের ক্রিকেট ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবন সবসময়ই আলোচনার কেন্দ্রে। তবে সরাসরি কথা বলাটাই পছন্দ করেন তিনি। এবং নিজেকে গর্বের সাথে আওয়ামী লীগের বলে থাকেন।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে সাকিবের ক্রিকেটীয় ক্যারিয়ারে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও, রাজনীতি নিয়ে নিজের অবস্থানে অনড় তিনি।
বহু নেতিবাচকতা এসেছে জীবনে কিন্তু পিছপা হননি। শেখ হাসিনার জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানানোয় দেশ তোলপাড় হয়।
হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে সাকিব লেখেন, ‘শুভ জন্মদিন আপা’। এরপর থেকেই পক্ষে-বিপক্ষে তুমুল বিবাদ শুরু হয় সাকিবকে নিয়ে। অনেকেই তাঁকে সাহসী ব্যক্তিত্ব বলে বাহবা দেন। কেউ বলেন দেশদ্রোহী।
এদিকে, ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে সাকিবের মুণ্ডপাত করেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহন্মদ ইউনুসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি সাকিবের উদ্দেশে লেখেন, ‘আপা’ শব্দটি বদলে ‘গণখুনি’ লেখা উচিত।
এঁদের কথাবার্তা আসলে কতটা অশ্লীল তা বলে বোঝানোর প্রয়োজন নেই।
২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মাগুরা-১ আসন থেকে লড়েন সাকিব।
সেই নির্বাচনে ১ লাখ ৮৫ হাজার ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য হন তিনি।
এদিকে, ৫ আগস্ট জঙ্গী আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। তবে সে সময় তিনি দেশে ছিলেন না। সাকিব পুরোটা সময় অবশ্য বিদেশে ছিলেন।কিন্তু তার নামে বেশ কয়েকটি মামলা দায়ের করা হয়।
সবটাই ভুয়া মামলা। যদিও ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি আশাবাদী। স্বপ্ন দেখেন দেশে ফিরে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার।
ভবিষ্যতে নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না; এমন প্রশ্নের জবাবে কোনো রাখঢাক না রেখেই সাকিব জানিয়েছেন, তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে চান। সম্প্রতি ‘বিডিক্রিকটাইম’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, নির্বাচন কেন করব না? নির্বাচন তো করবই। এটা নিয়ে আমার মনে কোনো সংশয় বা সন্দেহ নেই।
ইনশাআল্লাহ, আমি আমার জন্মস্থান মাগুরা থেকেই নির্বাচনে লড়ব।’
আওয়ামী লীগের প্রতি তাঁর অবস্থান স্পষ্ট, দৃঢ় এবং টলবার নয়।
কোনো দ্ব্যর্থতা নেই, কোনো ঘোরপ্যাঁচ নেই। আওয়ামী লীগ নিয়ে তাঁর বক্তব্য এতটাই পরিষ্কার যে, দেশের যেকোনো সেলিব্রিটির বক্তব্যের সঙ্গে তুলনা করলে সেটি শতভাগ আলাদা করে চোখে পড়ে।
