ঢাকা: দেশটাকে যতটুকু খাওয়ার খেয়ে এখন বাকিটা খেতে নেমেছে জঙ্গীর দল গণভোটের মাধ্যমে।
গণভোট বিষয়ে আসল সত্য বোঝানো হচ্ছে না জনগণকে।
গণভোট যদি সত্যিই অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ একেবারে অন্ধকারে তলিয়ে যাবে।
এতে করে আইনের শাসন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, জনগণের সার্বভৌমত্ব সবকিছুই প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
তাছাড়া এই পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার কোনো চিহ্ন নেই। জনগণকে পূর্ণ তথ্য দেওয়া হচ্ছে না। গোপনে রেখে হ্যাঁ না বোঝানো হচ্ছে।
প্রতিটি বিষয়ের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হচ্ছে না।
এর পেছনে কোন স্বার্থ কাজ করছে, কারা লাভবান হবে, জনগণের কী ক্ষতি হতে পারে, এসব প্রশ্নের জবাব কেউ দিচ্ছে না।
এই গণভোটের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো এর আইনি কাঠামো। অধ্যাদেশের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
জুলাই সনদকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার বিধান রাখা হয়েছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের নামে আগামী সংসদের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এসব একটা বিষয়ও জনগণের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। সব গোপন।
গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিলে এই সমস্ত বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হবে।
আর এক আছে ফ্যাসিবাদ। যেন জুজু- এর ভয় দেখিয়ে দেখিয়ে বিগত দেড় বছর কাটিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এবং এখনো তাই হচ্ছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত, শিল্প, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেছেন, যারা ফ্যাসিবাদকে সমর্থন করে, তারা ‘না’-এর পক্ষে প্রচার করবে। আর যারা জনগণের অধিকারের পক্ষে, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এবং গুম ও ক্রসফায়ার চায় না, তারাই ‘হ্যাঁ’-তে ভোট দেবে।
উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, সাধারণ মানুষ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বলেই তারা ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। জুলাই সনদকে প্রতিষ্ঠিত করতেই এই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের বীর শহীদদের আত্মত্যাগ এবং জুলাই যোদ্ধাদের অবদানে নতুন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে। এই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটে সবাইকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে।’
