ঢাকা: শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন ২০২৪ এর ৫ আগস্ট। ম্যাটিকুলাস ডিজাইন করে নেত্রীর পতন ঘটানো হয়।

পতনের ১৭ মাস পর ভারতের মাটিতে প্রথমবার সাংবাদিক বৈঠক করল আওয়ামী লীগ।

শনিবার দিল্লির প্রেস ক্লাব অফ ইন্ডিয়ার সম্মেলনে যোগ দেন বাংলাদেশের প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী হাছান মাহমুদ-সহ হাসিনার দলের অন্যান্য নেতারা।

ভারত থেকেই বাংলাদেশের অন্তবর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনুসকে তোপ দাগেন। এবং আগন্তুক জাতীয় নির্বাচন নিয়েও তাঁরা মুখ খুলেছেন।

এবং অন্তর্বর্তী সরকার যে প্রতিশোধ পরায়ণ সেটা স্পষ্টভাবে বললেন তাঁরা।

মাহমুদ বলেন, “বাংলাদেশ আমাদের দেশ। হাসিনা এবং আমরা অন্যান্যরা যাঁরা দেশের বাইরে আছি, তাঁরা ফিরে আসতে চাই। কিন্তু অন্তবর্তী সরকারকে আসন্ন নির্বাচন আইন মেনে সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করাতে হবে। বর্তমান সরকার প্রতিশোধ পরায়ণ। তারা আমাদের সঙ্গে কেবল শত্রুতাই চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাই।

প্রত্যেকবারই আমরা জনগণের রায়ে ক্ষমতায় এসেছি। জনগণকে আমরা বিশ্বাস করি। কিন্তু ইউনুস সরকারের অধীনে আওয়ামি লিগ কখনই ভালো কাজ করতে পারবে না।”

আর এই ইউনূস সরকার দেশে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করাতে পারবে না। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই বিপজ্জনক।

এবং আওয়ামী লীগ নির্বাচন করলে জিতবেই, এই ভয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দলকে নিষিদ্ধ করে রাখা হয়েছে।

এদিকে, জুলাই গণবিক্ষোভে ১৪০০ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার কমিশনের একটি রিপোর্ট।

সেই রিপোর্টকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ বলে অভিহিত করেছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী।

বলেন, “২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে সংঘটিত ছাত্র আন্দোলন ও রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক রিপোর্টে বাস্তব পরিস্থিতির সঠিক প্রতিফলন ঘটেনি।” সেখানে ঘটনাবলিকে একপেশেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

বলেন, “এই ধরনের রিপোর্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতাকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে আন্তর্জাতিক মহলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তথ্য যাচাই না করেই একতরফা বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে এমন রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

দেশে সংখ্যালঘু হিন্দু নির্যাতন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আওয়ামী লীগ।

হাসান মাহমুদ ময়মনসিংহে হিন্দু যুবক দীপুচন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার সংখ্যালঘু সুরক্ষায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। তাদের আরও দাবি, ইউনূস সরকারের নির্দেশে আওয়ামী লীগ কর্মীদের হত্যার অভিযোগে অভিযুক্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে, যা আইনের শাসনকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *