ঢাকা: ⁨সারা বাংলাদেশ আজ সংখ্যালঘুদের জন্য এক ভয়ংকর মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে।

গাজীপুরের কালিগঞ্জ বাজারে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে হিন্দু ব্যবসায়ী কালিপদ ঘোষকে। ঘটনাটি ছিল পরিকল্পিত ও নির্মম। একজন ব্যবসায়ীকে এভাবে জনসম্মুখে হত্যা শুধু একটি খুন নয়, এটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সরাসরি আতঙ্ক ছড়ানোর বার্তা।

একের পর এক হামলা, হুমকি ও হত্যা প্রমাণ করছে হিন্দুরা আর এই দেশে থাকার যোগ্য নয়।

অবৈধ ইউনুসের ছত্রছায়ায় এসব উগ্র গোষ্ঠী আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। সংখ্যালঘুদের টার্গেট করে সহিংসতা ধারাবাহিক প্যাটার্নে রূপ নিচ্ছে, যা রাষ্ট্রের নীরবতা ও রাজনৈতিক প্রশ্রয়ের ইঙ্গিত দেয়।

সারাদেশে সাম্প্রতিক সহিংসতা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, মব নিপীড়নের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের ৪৩ জন বিশিষ্ট নাগরিক।

খুন, হামলা, অগ্নিসংযোগ, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে রবিবার এক যৌথ প্রতিবাদী বিবৃতি দেন তাঁরা।

“আমরা ৪৩ জন প্রগতিশীল নাগরিক গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভের সাথে জানাচ্ছি যে, দেশে একের পর এক পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, গুলিবর্ষণ, ধারাবাহিক সহিংসতা, শিক্ষকদের ওপর মব করে হেনস্তা, নারী-শিশু ধর্ষণ নির্যাতন, বিশেষত সংখ্যালঘুদের কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িকতা, সীমান্তে গুলাগুলি, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া, গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর ভাঙচুরসহ বিভিন্ন হামলার ঘটনা ঘটছে।

এসব কিছু নির্বাচনের আগে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র বলে মনে করছি আমরা।

রবিবার (১৮ জানুয়ারি) শুভ চন্দ্র শীলের পাঠানো বিবৃতিতে বলেন, আমরা বলতে চাই, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ধর্মের নামে একটি বিশেষ গোষ্ঠী দেশের মধ্যে সহিংসতা ও ফ্যাসিবাদী কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

মুক্তিযুদ্ধ ও প্রগতিশীল মুক্তমনা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের নামে অপ্রচার ছড়াচ্ছে। আমরা অবিলম্বে সকল প্রকার সাম্প্রদায়িক শক্তির কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবি জানাচ্ছি।

এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বৈষম্যবিরোধী আকাক্সক্ষায় রাষ্ট্র গঠনের দাবি রাখছি।

কিছুদিন আগে ময়মনসিংহের ভালুকায় দীপু দাস, যশোরে রানা প্রতাপ বৈরাগী, নরসিংদীর শরৎ চক্রবর্তী মণিসহ বেশ কয়েকজন নাগরিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রামের রাউজানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িতে ঘরের দরজা বন্ধ করে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। আমরা এসব ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করছি।

নির্বাচন সময় এবং বর্তমানে দেশের ধর্মীয় এবং জাতিগত সংখ্যালঘুরা সামগ্রিক জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছে। তাই আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় অবিলম্বে সরকার এবং প্রশাসনকে নিয়মিত কঠোর নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান করছি।

আমরা আশা করি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সচেতন নাগরিকদের উদ্যোগই পারে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।

রাজধানীতে দিবালোকে খুন, গুলি, ও রাজনৈতিক কর্মী হত্যার সঙ্গে যারা যারা জড়িত তাদের সবার কঠোর বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি। আমরা অবিলম্বে সকল হত্যাকাণ্ড এবং হামলার ঘটনার সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গত বিচার দাবি করছি”।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *