ঢাকা: বাংলাদেশ হিন্দুদের মরণকূপে পরিণত হয়েছে। হিন্দুদের ঘরবাড়ি জ্বালানো থেকে শুরু করে গাছে ঝুলিয়ে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে। অপরাধ তাঁরা হিন্দু।
সারা বাংলাদেশ আজ সংখ্যালঘুদের জন্য এক ভয়ংকর মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে।
আজকের বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের জন্য পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়ংকর হয়ে উঠছে। একের পর এক হামলা, হুমকি ও হত্যা প্রমাণ করছে—উগ্রবাদীরা এখন প্রকাশ্যেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।
অবৈধ ইউনুসের ছত্রছায়ায় এসব উগ্র গোষ্ঠী আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সংখ্যালঘুদের টার্গেট করে সহিংসতা একটি ধারাবাহিক প্যাটার্নে রূপ নিচ্ছে, যা রাষ্ট্রের নীরবতা ও রাজনৈতিক প্রশ্রয়ের ইঙ্গিত দেয়।
অথচ প্রধান উপদেষ্টা নামক ইউনূস, জঙ্গী ইউনূস এই ঘটনাগুলোকে সাম্প্রদায়িক হামলা মানতে নারাজ।
যেখানে আন্তর্জাতিক অঙ্গন কেঁপে যাচ্ছে ঘটনাগুলোতে, সেখানে ইউনূস পায়ের উপর পা তুলে বলছেন এগুলো সাম্প্রদায়িক হামলা নয়।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু–সংশ্লিষ্ট যেসব অপরাধমূলক ঘটনার কথা জানা গেছে, সেগুলোর অধিকাংশই নাকি সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নয় বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
আজ সোমবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা জানানো হয়। পোস্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে সবার জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতির পথে রয়েছে।
২০২৫ সালে পুলিশের নথি পর্যালোচনায় সংখ্যালঘু–সংশ্লিষ্ট ৬৪৫টি ঘটনার তথ্য পাওয়ার কথা জানানো হয় এই পোস্টে।
প্রতিটি অপরাধের ঘটনাকে ‘উদ্বেগজনক’ হিসেবে দেখার কথা জানিয়ে পোস্টে বলা হয়, তথ্য-উপাত্তের প্রমাণভিত্তিক বিশ্লেষণ থেকে এটি স্পষ্ট, অধিকাংশ ঘটনাই সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নয়, বরং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব ঘটনা একদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ নির্দেশ করে, অন্যদিকে ভীতি বা বিভ্রান্তির বদলে তথ্যভিত্তিক আলোচনার গুরুত্বকে তুলে ধরে।
পর্যালোচনায় মোট ৭১টি ঘটনায় সাম্প্রদায়িক উপাদান পাওয়ার কথা জানানো হয়। পোস্টে উল্লেখ রয়েছে, তার মধ্যে ৫৭৪টি ঘটনা সাম্প্রদায়িক নয় বলে মূল্যায়ন করা হয়।
পোস্টে বলা হয়, সাম্প্রদায়িক ঘটনাগুলোর মধ্যে প্রধানত ধর্মীয় উপাসনালয়, প্রতিমা ভাঙচুর বা অবমাননার ঘটনা ছিল। অল্পসংখ্যক অন্যান্য অপরাধ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
অন্যদিকে সংখ্যালঘু ব্যক্তি বা সম্পত্তিকে প্রভাবিত করে—এমন অধিকাংশ ঘটনাই ধর্মের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, বরং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে উদ্ভূত, যার মধ্যে প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধ, জমিসংক্রান্ত দ্বন্দ্ব, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, চুরি, যৌন সহিংসতা ও পূর্ববর্তী ব্যক্তিগত শত্রুতাজনিত ঘটনাও রয়েছে।
তাঁর দাবি, ‘বাংলাদেশ মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান এবং অন্যান্য বিশ্বাসের মানুষের দেশ—যেখানে সব নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। প্রতিটি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা কেবল আমাদের সাংবিধানিক দায়িত্বই নয়, বরং একটি নৈতিক কর্তব্য। উপাসনালয়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, উসকানি প্রতিরোধ করা, অপরাধমূলক ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং গুজব থেকে সত্যকে আলাদা করা সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য অত্যাবশ্যক’।
