ঢাকা: বাংলাদেশে ধর্ম নিয়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক অবস্থায় পৌঁছে গিয়েছে।

ধর্মাচরণের সমালোচনা করে সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলেন। আর এই ঘটনায় ইসলাম অবমাননার অভিযোগে শিক্ষার্থীদের তুমুল বিক্ষোভের জেরে চাকরি খোয়ালেন বাংলাদেশের এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই অধ্যাপক। তাঁদের বহিষ্কারের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।

হৃদয়বিদারক ঘটনাগুলো দেশবাসীকে আতঙ্কিত করে তুলেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ধর্মীয় বিষয় নিয়ে অশান্তি হতে পারে, এই আশঙ্কায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

তবে এমন ঘটনা এঅটা স্বাধীন দেশে কখনোই কাম্য নয়।

বহিষ্কৃত অধ্যাপকদের দাবি, তাঁদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া হয়নি। পড়ুয়াদের বিক্ষোভের কাছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নতিস্বীকার করেছে।

বিক্ষোভকারী ও অভিযুক্ত, দুই পক্ষের বক্তব্যেই এটি পরিষ্কার যে, বিতর্কের সূত্রপাত হয় গত ১০ ডিসেম্বর একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে।

সেখানে শিক্ষক লায়েকা বশীর লিখেছিলেন, তিনি সমস্ত মুখমণ্ডল ঢেকে পর্দা করার বিপক্ষে।

“সারা শরীর ঢাকেন, হাত-মোজা, পা-মোজা পরেন, সমস্যা নাই। কিন্তু মুখমণ্ডল দেখাতেই হবে। ধর্মেও, যতদূর জানি, সারা মুখ মমি বানিয়ে রাখতে বলা হয়নি।”

“আজকাল ইউনিভার্সিটির ক্লাসে অনেক নারী-শিক্ষার্থী মুখ ঢেকে বসে থাকে। এটাকে আমার কাছে অভদ্রতা বলেই মনে হয়।”

সমাজে অপরাধের মাত্রা বাড়াবে মুখ ঢাকার বিষয়টা।

মিজ বশীর পোস্টটির প্রাইভেসি সেটিংস ‘ফ্রেন্ডস’ করা থাকলেও কোনোভাবে সেই পোস্টের স্ক্রিনশট খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ইউএপির অনেক শিক্ষার্থী আসল বা নকল ফেসবুক আইডি থেকে তার “ইনবক্সে-কমেন্টে গালমন্দ করা, হুমকি-ধমকি দেওয়া শুরু করে।
পরে আমি বাধ্য হয়ে ও পোস্ট অনলি মি করে দেই,” বলেন তিনি।

এবং পোস্টের শেষে লেখা ছিল, সম্প্রতি ঢাকার মোহাম্মদপুরে জোড়া খুনের ঘটনার প্রেক্ষাপটেই তিনি লেখাটি লিখেছেন।

কিন্তু অপরিচিত অনেক ফেসবুক আইডি থেকে গালাগাল, আক্রমণ, হুমকি আসতে থাকায় সাতদিনের মাথায় ১৭ ডিসেম্বর একই বিষয়ে আবার একটি পোস্ট করেন এবং তার কথায় কেউ আঘাত পেলে ক্ষমা চান ওই পোস্টটির মধ্য দিয়ে।

এদিকে, পড়ুয়ারা প্রশ্ন তোলেন, শিক্ষকরা এভাবে ইসলাম বিরোধিতা ছড়ালে তাঁদের শিক্ষার কী হাল হবে?

বিক্ষোভ বাড়তে থাকায় তদন্ত কমিটি দুই অধ্যাপককে বহিষ্কার করতে বাধ্য হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

অধ্যাপক লায়েকা বশির ও এ এস এম মহসিনের দাবি, ‘মবে’র চাপে কর্তৃপক্ষ যথাযথ তদন্ত না করেই তাঁদের বিরুদ্ধে এত বড় সিদ্ধান্ত নিল।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *