ঢাকা: একজন নেতা যদি তাঁর গালিগালাজের জন্য পরিচিতি লাভ করে, তাঁকে কী বলা যায়?
ভারতবিরোধী, কট্টরপন্থী হাদি সেই অশ্লীলতার জন্যেই পরিচিত। এবং এখন তাঁর অনুসারীরাও সমানতালে হাত পা ছুঁড়ে গালি দিয়ে যাচ্ছে।
এবং ওসমান হাদিকে বানানো হয়েছে বলির পাঁঠা। তাঁকে হত্যা করা হয়েছে রাজনৈতিক কারণে। এবং হাদির ভাই নিজেই এর জন্য ইউনূস প্রশাসনকে দায়ী করেছেন।
হাদির মৃত্যুর পর হিংসা ছড়িয়েছিল। হামলা হয় চট্টগ্রামের ভারতীয় দূতাবাসে, সংবাদমাধ্যমে, বঙ্গবন্ধুর মুজিবর রহমানের বাড়িতে, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানটেও ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরায় মৌলবাদীরা।
ছাত্রনেতাকে খুনের প্রতিবাদের নামে নিশানা করা হয় সংখ্যালঘুদের।
একাত্তরের বাঙালি হত্যাকারী এবং ধর্ষক পাকিস্তানকে বন্ধু বানিয়েছে বাংলাদেশ। এবং হাসিনাকে স্বৈরাচারি শাসক হিসাবে তুলে ধরে জুলাই-আগস্ট বিপ্লবকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন বলা হচ্ছে।
এদিকে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছে ইউনূস সরকার। হাদির পরিবার ফ্ল্যাট পাচ্ছে। অথচ কিসের হাদি? এই দেশের জন্য তিনি কী করেছেন? উস্কানি ছাড়া?
অথচ দীপু চন্দ্র দাস একজন হিন্দু – তিনি উস্কানি দেননি, খুন করেননি। সোজাসাপ্টা মানুষ অথচ শুধু হিন্দু হবার জন্য তাঁকে খুন করা হয়েছে।
তো এই দীপু দাসের পরিবার কী ফ্ল্যাট পাচ্ছে? প্রশ্ন তসলিমা নাসরিনের।
“দীপু দাসের পরিবার কি ঢাকায় ফ্ল্যাট পাচ্ছে? না, পাচ্ছে না। কারণ দীপু দাস অশ্লীল গালিগালাজ জানতো না।
উদয়াস্ত পরিশ্রম করে তাঁকে তাঁর মা বাবা ভাই বোন আর স্ত্রী কন্যার ভাত কাপড় জোটাতে হতো।
তাঁর কোনও বাড়তি সময় ছিল না রাস্তায় নেমে ইয়ার দোস্ত জোগাড় করে সভা করার, একে ওকে গালি দেওয়ার, আর লোকের দেওয়া নজরানা পকেটস্থ করার”।
