নাটোর: একটা জাতি তখনই সত্যিকার অর্থে ভেঙে পড়ে, যখন সে তার শিক্ষকদের অপমান করতে শেখে। যখন শিক্ষককে হত্যা করে। এই জাতি বোধহয় আজ আর আস্ত নেই।

যে মানুষটি আমাদের হাতে কলম ধরিয়েছেন, অন্ধকার মাথার ভেতর আলো জ্বেলেছেন, ভুল আর ঠিকের সীমারেখা চিনিয়েছেন, আজ সেই মানুষকেই অপমান করা হচ্ছে, লাঞ্ছিত করা হচ্ছে, মব দিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে। তাঁকে হত্যা করা হচ্ছে। সব চলছে প্রকাশ্যে, অবলীলায়। কোনো ভয় নেই।

মব করে শিক্ষককে হেনস্তা করার মাধ্যমে যে ভয়ংকর সংস্কৃতি চালু করা হচ্ছে তার ফলাফল হবে অনেক সুদুরপ্রসারি।

এবার নাটোর জেলা জিয়া পরিষদ সদস্য রেজাউল করিমকে (৫৩) গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। তিনি সিংড়ার বিল হালতি ত্রিমোহনী ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন।

এবং সিংড়া উপজেলার কলম ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হায়দার রশিদ রিপনের চাচা তিনি।

জানা গেছে, বুধবার রাত সাড়ে ১০টায় কলম ইউনিয়নের কুমারপাড়ায় নিজ বাড়ির সামনে রেজাউল করিমের গলা কেটে ফেলে রেখে যায় সন্ত্রাসীরা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে কলমের কুমারপাড়ায় চিৎকারের শব্দ শুনে তাঁরা এগিয়ে যান।

এ সময় রাস্তার পাশে গলাকাটা অবস্থায় রেজাউল করিমকে পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা। এর কিছুক্ষণ পরেই তিনি মারা যান।

সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ স ম আব্দুন নুর জানান, দোষীদের চিহ্নিত করতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। আদৌ হত্যাকারী ধরা হবে, এটা কল্পনাও করা যায় না।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *