ঢাকা: কথায় বলে, আত্মীয় আত্মীয়ের অনিষ্টকারী। সেই ঘটনাই ঘটেছে। ভগ্নিপতির ষড়যন্ত্রে ধ্বংসের পথে চলে গেছে বিখ্যাত ‘কাকলি ফার্নিচার’!

কাকলি ফার্নিচারের নাম শোনেননি এমন মানুষ নেই। বোনের নামেই রেখেছেন কাকলি ফার্নিচার।

অথচ আজ করুণ অবস্থা।

​যাকে বিশ্বাস করে ১ টাকার বিনিময়ে ব্যবসার অংশীদার করেছিলেন, সেই ভগ্নিপতির প্রতারণায় আজ পথে বসার উপক্রম হয়েছে গাজীপুরের শ্রীপুরের বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান কাকলি ফার্নিচারের মালিক এস এম সোহেল রানার।

গাজীপুরের মাওনা চৌরাস্তায় প্রায় ২৪ বছরের পুরনো এই প্রতিষ্ঠানটি আজ দেউলিয়া।

অভিযোগ উঠেছে, সোহেল রানার আপন ভগ্নিপতি কোনো টাকা বিনিয়োগ না করেই পার্টনারশিপের সুযোগ নিয়ে ভিতরে ভিতরে কোটিপতি হয়েছেন, আর মূল প্রতিষ্ঠানটিকে ডুবিয়েছেন ঋণের সাগরে।

​ব্যাংক ঋণের চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এখন চেয়ারম্যান সোহেল রানা। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বিচার চেয়ে তিনি ও তাঁর স্ত্রী সপরিবারে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছেন।

‘দামে কম মানে ভালো’ স্লোগানে সারাদেশে পরিচিতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানটি আজ অস্তিত্ব সংকটে। সোশ্যাল মিডিয়া ভাইরাল হয়েছিলো।

​সংবাদ সম্মেলনে এস এম সোহেল রানা অভিযোগ করেন, তার বোন জামাই আমান উল্লাহ এবং বোন কাকলী আমান পারিবারিক বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির অর্থ, জমি ও যানবাহন আত্মসাৎ করেছেন।

তাদের অনিয়ম ও প্রতারণার কারণে একসময়ের সম্ভাবনাময় শিল্পপ্রতিষ্ঠান আজ ধ্বংসের মুখে।

তিনি জানান, তার বাবা মরহুম আবুল কাশেম ২০০০ সালে সততা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। অল্প সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি সুনাম অর্জন করে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে।

পরবর্তীতে পারিবারিক সিদ্ধান্তে আমান উল্লাহকে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত করা হলেও তিনি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন। এরপরও পরিবারের বিশ্বাসে তাকে অংশীদার করা হয় যা পরবর্তীতে সমস্যার সৃষ্টি করে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ব্যবসার অর্থ দিয়ে ছয়টি জমি ক্রয় করা হলেও সেগুলোর কোনো স্বচ্ছ হিসাব এখনও দেওয়া হয়নি। এছাড়া কাকলী ফার্নিচারের মালিকানাধীন একটি পিকআপ ভ্যান ও একটি প্রাইভেটকার জোর করে দখলে নেওয়া হয়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *