ঢাকা: শেখ হাসিনা তো রাজাকারকে রাজাকার বলেছিলেন! সেইটাকেই ইস্যু করে এতবড় জঙ্গী আন্দোলন। এবার জামাত নেতার ‘বেশ্যা’ মন্তব্যে আন্দোলন হবে না? নাকি একই দেশে জামাত আর আওয়ামী লীগের জন্য ভিন্ন আইন?
জামায়াত নেতার ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়- ডাকসু বেশ্যাখানা’ মন্তব্যের পর কী আগের মতো হলের গেইট ভেঙ্গে নিজেদের রাজাকার দাবি করা ঢাবির সেই মেয়েরা স্লোগান দেবে? ‘তুমি কে, আমি কে? বেশ্যা, বেশ্যা….’
“যে ডাকসু বেশ্যাখানা ছিল”, বলেছেন মো. শামীম আহসান, বরগুনা জেলা জামায়াতের নেতা। হ্যাঁ, ঠিকই শুনছেন। এই কথা বলেছেন জামায়াতের একজন নেতা।
অবশ্য জামাত শিবিরের পরিচয় কোনোদিন পাল্টাবে না।
যাই হোক, এই বক্তব্যের অর্থ পরিষ্কার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েরা নাকি “বে……শ্যা”। অন্য কোনো ব্যাখ্যা থাকে না এর।
এটা সরাসরি নারী বিদ্বেষ, শিক্ষা বিদ্বেষ, এবং একটি ঐতিহাসিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের সম্মিলিতভাবে অপমান করা।
শুধু তাই নয়, এদের মতো পচন মস্তিষ্কের জামাতিতে ভরে গিয়েছে দেশ। এই কথার পর হাততালি পড়েছে। মানে এই বক্তব্য একা কোনো উন্মাদ ব্যক্তি দিচ্ছে না, বরং একটি শ্রোতা গোষ্ঠী আছে যারা এই ভাষা উপভোগ করছে, সমর্থন করছে।
এখন জামায়াত-শিবির ও ছাত্রী সংস্থা সমর্থিত ডাকসুর নেতারা কি কিছু বুঝতে পারছেন?
যারা ৭১ এ এই দেশের মা বোনদের ধর্ষণ করেছিল, পাকিস্তানির হাতে গণিমতের মাল হিসেবে তুলে দিয়েছিল, তাদের চরিত্র বদলাবে এমনটা ভাবার কোন কারণ আছে ?
প্রত্যেকটা শিক্ষিত, কর্তাসত্তার অধিকারী নারীই তাদের কাছে “বেশ্যা”!
এদিকে এ রাজাকার দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মো. শামীম আহসান।
রবিবার সন্ধ্যার পরে ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এই দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
শনিবার রাতে বরগুনার পাথরঘাটার কাটাখালী এলাকায় এক নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য রাখার সময় জামায়াত নেতা মো. শামীম আহসান ডাকসু নিয়ে বলেছিলেন, ‘আমরা দেখছি, ডাকসু নির্বাচনের পরে, যে ডাকসু মাদকের আড্ডা ছিল, যে ডাকসু বেশ্যাখানা ছিল, সেটা ইসলামী ছাত্রশিবির পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে। তাই এই বাংলাদেশ থেকে সকল প্রকার অন্যায়, সকল প্রকার চাঁদাবাজ, সকল প্রকার দুর্নীতি উৎখাত করতে জামায়াতে ইসলামী সক্ষম।’
