বাগেরহাট: ছাত্রলীগ নেতা বিনা অপরাধে কারাগারে। তাঁর অপরাধ একটাই, তিনি ছাত্রলীগ।
এদিকে প্রচার করা হচ্ছে জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু এই ঘটনা আসলে হত্যা নাকি আত্মহত্যা? ঘটনাটি নিয়ে যথেষ্ট চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা ওরফে স্বর্ণালিকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তাঁর ভাই শাহ নেওয়াজ আমিন।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে কানিজের ভাই দাবি করেন, আমার বোনকে হত্যা করা হয়েছে। এখানে অনেক গ্যাপ আছে। নামাজের পর ১টা ৪০ থেকে ৪৫ মিনিটের দিকে আমরা খবরটা শুনি। তখন ওই বাড়িতে কেউ ছিল না। যা শোনা যাচ্ছে, তাতে অনেক তথ্যের গ্যাপ আছে।
তিনি বলেন, সাদ্দামের স্ত্রী হওয়ার কারণে অনেক সময় রাস্তাঘাটে অনেক কটু কথা শুনতে হতো তাঁর বোনকে।
সাদ্দামের ছোট ভাই মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, শুরুতে দুই পরিবারের মধ্যে দূরত্ব ছিল। পরে তার বাবা মারা যাওয়ার পর ওই পরিবার থেকে সবাই আসেন। দুই পরিবার তাদের বিয়ে (প্রেমের বিয়ে) মেনে নেয়। তবে গত দুই মাস তার ভাবির পরিবার থেকে তেমন আসা-যাওয়া ছিল না।
তিনি বলেন, আমার ভাবি ভাইকে খুব ভালোবাসত। তাকে জেল থেকে বের করতে না পারায় সে অনেক ভেঙে পড়েছিল। হয়তো তার বাবার বাড়ি থেকে কিছু বলেছিল যার কারণে সে আরও ভেঙে পড়ে।
বৃহস্পতিবার তার ভাই তাকে ২০০ টাকা দিয়ে গেছিল। সে আবার শুক্রবার দুপুরের দিকে ওই টাকা পাঠিয়ে দেয়। এরপর বাড়িতে কেউ ছিল না, তখনই ওই ঘটনা ঘটে।
শহিদুল ইসলাম আরও বলেন, ভাবি শুধু বলত, ‘আপনার ভাই কি ছাড়া পাবে না?’ বিভিন্নজন বিভিন্ন সময় তাকে বলেছে যে সে কখনোই ছাড়া পাবে না। ছাড়া পেলেও স্বামী যে ভাইরাল হইছে, তাকে মেরে ফেলবে। এগুলো নিয়ে সে খুব হতাশ ছিল। আমরা চারবার ভাইয়ের জামিন করিয়েছি।
কিন্তু আবার নতুন মামলায় জেলগেট থেকে নিয়ে যায়। সাদ্দামের নামে এখনো ১১টি মামলা আছে।
উল্লেখযোগ্য যে, কানিজের বাবা জেলা জাতীয় পার্টির সহসভাপতি মো. রুহুল আমিন এই ঘটনায় বাদী হয়ে শনিবার থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।
তিনি বলেন, আমি গিয়ে আমার মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখি। তখন সেখানে শত শত লোক। পরে আমার নাতির খবর শুনলাম, সে মারা গেছে। আমার মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে, কিন্তু নাতিটা কীভাবে মারা গেল? কী হয়েছিল, আমি জানতে চাই? পুলিশ তদন্ত করে বিষয়টি বের করুক।
