বরগুনা: যে দেশে সংখ্যালঘুদের পুড়িয়ে মারা হয় , সংখ্যালঘুরা চৌকাঠের বাইরে সংসদে আসা নিষিদ্ধ, সেই দেশটা কার?

বরগুনার বামনায় জামায়াতের জনসভায় আফজাল হোসেন নামের যে লোকটা মাইক হাতে দাঁড়িয়ে বললেন “৮০ পার্সেন্ট মুসলমানের এই দেশে কোনো বিধর্মী বা অশোভনীয় সংসদ প্রতিনিধি থাকতে পারে না”, তাঁর কথাটা আসলে ভেবে দেখার মতো।

এই কথাটাই যদি ভারতের কোনো হিন্দু নেতা বলতেন?

মৌলবাদীর দল দাঁত নখ বের করে ঝাঁপিয়ে পড়তো!

তিনি বললেন, এই দেশে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কেউ জনপ্রতিনিধি হতে পারবে না। শুধু তাই নয়, তিনি আরও স্পষ্ট করে বললেন চোরের হাত কেটে দেওয়ার শাসন চান তিনি।

জামায়াত কেমন তা বুঝুন!

জামায়াতের মনোনীত প্রার্থীর সামনে দাঁড়িয়ে, জামায়াতের মঞ্চ থেকে এই কথা বলা হলো, এবং সেখানে উপস্থিত কেউ একটা শব্দও বললেন না।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণার প্রথম দিন রাতে বরগুনার বামনা উপজেলার ডৌয়াতলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমদের জনসভায় মো. আফজাল হোসেন এই বক্তব্য দেন। জনসভা চলাকালীন তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন।

মো. আফজাল হোসেন বলেন, আপনারা কি আল-কোরআন চান, না বেদায়াত চান?

আল-কোরআন চাইলে অবশ্যই জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দিতে হবে। আমরা সংসদীয় শাসনতন্ত্র কায়েম করব। সংসদে উচ্চস্বরে বলা হবে—এই দেশ মুসলমানদের দেশ। যেখানে ৮০ শতাংশ মানুষ মুসলমান, সেখানে কোনো দিন বিধর্মী বা অশোভনীয় সংসদ প্রতিনিধি থাকতে পারবে না, এমনকি সংবিধানও থাকতে পারবে না।

তিনি আরও বলেন, কি শাসন থাকবে? আল্লাহর কোরআনের শাসন থাকবে। আজকে যদি চুরি করলে হাত কেটে দেওয়া হয়, তাহলে কি আর এখানে চুরি হবে? আমরা সেই শাসন চাই।

বক্তব্যে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমদের উদ্দেশে বলেন, আপনার চিন্তা নেই ইনশাআল্লাহ। মানুষ এখন বুঝে গেছে—ধর্ম কাকে বলে, ন্যায় কাকে বলে, আদর্শ কাকে বলে।

এটা কোনো দুর্ঘটনা নয়। এটা জামায়াতে ইসলামীর আসল চেহারা, যেটা ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সারাদেশে যে নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হয়েছিল তার মধ্য দিয়ে আরেকবার প্রমাণিত হলো। তারা আসলে কী চায়, জেনে নিন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *